ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামকে ঘুস গ্রহণের অভিযোগে বদলি করা হয়েছে।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। তাকে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলায় বদলি করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

শফিকুল ইসলাম প্রায় পাঁচ বছর ধরে নান্দাইলে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকায় সব ঠিকাদারের সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠে তার। এ সুযোগে ঠিকাদারদের বাড়তি সুবিধা দিয়ে তিনি আর্থিক ফায়দা আদায় করতেন বলে অভিযোগ উঠে। এ অবস্থায় গত ১৭ নভেম্বর ফেসবুকে তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।

ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি অফিসে তার চেয়ারে বসে একজনের কাছ থেকে ঘুসের টাকা নিয়ে তড়িঘড়ি করে টেবিলের ড্রয়ারে রাখছেন; কিন্তু বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এগিয়ে আসেন সংশ্লিষ্ট অফিসের ঠিকাদাররা। পরদিন ১৮ নভেম্বর তারা (ঠিকাদাররা) অফিসের কেউ না হয়েও নান্দাইল উপজেলা এলজিইডি অফিসে সাংবাদিকদের ডেকে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই সম্মেলনে তারা প্রকৌশলীর টাকা গ্রহণের ভিডিওটি ঘুস গ্রহণের কোনো ভিডিও নয়, সেটি বিয়ের উপঢৌকন বলে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানান। কিন্তু ১৮ নভেম্বর যুগান্তরে ‘উপসহকারী প্রকৌশলীর ঘুসের ভিডিও ফাঁস’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামকে নান্দাইল থেকে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলায় বদলির ব্যবস্থা করে।

বদলি হওয়া উপসহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামকে তার অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল মালেক বিশ্বাস বদলির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রোববার হেড অফিস থেকে তাকে বদলি করা হয়েছে, তবে কী কারণে বদলি করা হয়েছে, সেটি তো বলতে পারব না, সেটা প্রশাসনিক বিষয়।

 

 

ঢাকার সাভার পৌরসভায় অফিসকক্ষে প্রকাশ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন দুই কর কর্মকর্তা। অভিযোগ উঠেছে হোল্ডিংয়ের মালিকানা পরিবর্তনের জন্য এক সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে নেওয়া পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এমন মারামারিতে জড়িয়েছেন দুজন।

মারামারিতে জড়ানো দুই কর্মকর্তা হলেন- সাভার পৌরসভার কর নির্ধারক নাজমুল হাসান ও সহকারী কর আদায়কারী নজরুল ইসলাম।

ভিডিওতে দেখা যায়, কর নির্ধারণ কর্মকর্তা নাজমুল হাসান নিজের চেয়ারে বসে আছেন। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন আরও বেশ কয়েকজন। এমন সময় সহকারী কর আদায়কারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম উপস্থিত হন। তখন দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে সহকারী কর আদায়কারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম কর নির্ধারণ কর্মকর্তার দিকে তেড়ে যান। তাকে থামানোর চেষ্টা করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা। তাদের ঠেলে নজরুল ইসলাম কর নির্ধারণ কর্মকর্তা নাজমুল হাসানকে আক্রমণ করতে যান। এরপর দুই কর্মকর্তাই একজন আরেকজনকে কিল ঘুষি মারতে শুরু করেন। একপর্যায়ে উপস্থিত লোকজন দুইজনকেই নিবৃত্ত (শান্ত) করেন।

ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সেবা গ্রহীতা ও পৌর কর্মচারীদের মাঝে বিভিন্ন গুঞ্জন চলছে। নাম প্রকাশে এক কর্মচারী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “করের অতিরিক্ত টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দুই কর্মকর্তা মারামারিতে জড়িয়েছেন। অফিস কক্ষে এরকম ঘটনা ঘটানো উচিত হয়নি।”

জানতে চাইলে কর নির্ধারণ কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, “নজরুল ইসলাম আমার জুনিয়র। হোল্ডিংয় ট্যাক্স ও নামজারী ফি বাবদ এক লোক নজরুল ইসলামকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। ঐ লোক নজরুল ভাইয়ের পরিচিত। আমি নজরুল ভাইকে ডেকে বলি নামজারি ফি ১,১৫০ টাকার রশিদ আছে কিন্তু হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদ দেননি কিন্তু সাক্ষর করেছেন। এই কথা বলা মাত্রই তিনি উত্তেজিত হয়ে আক্রমণ করেন।”

এদিকে বক্তব্য জানতে সহকারী কর আদায়কারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তিনি ঘটনার পর পৌর ভবন থেকে আত্মগোপনে গেছেন।

যোগাযোগ করা হলে সাভার পৌর নির্বাহী অফিসার সায়েদুল ইসলাম বলেন, “দুই কর্মকর্তার মাঝে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে এটা শুনেছি। মারামারি হয়নি। তবে কোন বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়েছে জানতে পারিনি। বিস্তারিত জেনে জানাতে পারবো।”

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক//
বরিশালে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোরাইকৃত কয়লা, একটি লাইটার ভেসেল এবং ১২ জন চোরাকারবারী আটক করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

কোস্ট গার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৭ নভেম্বর ভোর ৫টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন বরিশালের একটি টিম বরিশাল কোতোয়ালি থানার চরমোনাই আনন্দ ঘাট সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সন্দেহজনক একটি লাইটার ভেসেল থামিয়ে তল্লাশি করা হলে প্রায় ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন চোরাইকৃত কয়লা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। এ সময় ভেসেলে অবস্থানরত ১২ জন চোরাকারবারীকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানায়, মোংলার হিরণ পয়েন্টে অবস্থানরত একটি বিদেশি জাহাজ থেকে অসদুপায় অবলম্বন করে এসব কয়লা সংগ্রহ করে অবৈধভাবে পাচার করা হচ্ছিল।

অভিযানে জব্দ করা কয়লা, লাইটার ভেসেল এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক আরও জানান,চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশাল নগরীর কাউনিয়া লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবক গোপাল চক্রবর্তীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে এলাকার কুখ্যাত মাদকাসক্ত সুমিত সরকার। বর্তমানে গোপাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনাস্থল সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে গোপাল অনুষ্ঠানে অংশ নিলে সামান্য কথাকাটাকাটির জেরে সুমিত অতর্কিতে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা গোপালকে স্বজনরা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হামলার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুমিত শুধু মাদকাসক্তই নন—তিনি স্ত্রী পুলিশ সদস্য হওয়াকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছেন। স্ত্রী পুলিশের চাকরিতে থাকায় সে নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করে, এবং প্রতিটি অপকর্মে প্রকাশ্যে ক্ষমতার দাপট দেখায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান—
“সুমিতের স্ত্রী পুলিশে চাকরি করেন—এই জন্যই সে ভয়ডরহীন। মদ্যপ অবস্থায় মানুষকে মারধর, হুমকি-ধমকি তার নিয়মিত কাজ। কেউ প্রতিবাদ করলে সে বলে—তার কিছুই হবে না।”

অভিযোগ রয়েছে, সুমিত ভারতের পাসপোর্টধারী এবং সেদেশের একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সক্রিয় কর্মী। ভারত যাওয়া–আসার আড়ালে তিনি অবৈধ পণ্য আমদানি–রপ্তানিতেও জড়িত।

এলাকাবাসীর দাবি—
“স্ত্রীর পুলিশ পরিচয়ে বেপরোয়া সুমিতকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

এ ঘটনায় আহত গোপালের পরিবার মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
স্থানীয়রা জোর দাবি জানিয়েছে—এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আর সহ্য করা হবে না।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বরিশাল এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় অবৈধভাবে আহরণ ও পরিবহনের সময় বিপুল পরিমাণ ঝাটকা ইলিশ মাছ জব্দ করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে বিশেষ সংরক্ষণ অভিযানে এসব মাছ আটক করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। পরে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ফারুক আহমেদের নির্দেশনায় জব্দকৃত ইলিশ স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানা ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।

ইউএনও মোঃ ফারুক আহমেদ জানান, দেশের স্বার্থে ইলিশ রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী জব্দকৃত মাছ নষ্ট না করে প্রয়োজনীয় গরিব অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে যেমন অপচয় রোধ হয়, তেমনি অসহায় মানুষের মুখে হাঁসি ফোটে।

এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম। তার মানবিক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অভিযানে পুলিশ ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং মানবিক ব্যবস্থাপনা একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মামুন উল ইসলাম বলেন আমাদের এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। সরকারি আইন কানুন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যা করা দরকার করব। কোন অপরাধকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রশাসন সর্বদা প্রস্তুত।

ইলিশ প্রজনন মৌসুমে ঝাটকা ধরা, পরিবহন, মজুদ ও বিক্রি বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থান বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন।

 

 

নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। যুগান্তরে প্রকাশিত খবরে জেলায় এসপি হিসাবে পদায়নের জন্য অনৈতিকভাবে ৫০ লাখ টাকা প্রদান ও পরে সে টাকা আদায়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। বিধি অনুযায়ী আব্দুল হান্নানকে শাস্তিযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাকে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে না জানতে চেয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি।

জানা যায়, ২৫ আগস্ট এসপি আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগনামায় স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। ওইদিনই তাকে নরসিংদী থেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসাবে বদলি করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গুরুতর এমন অভিযোগ গঠনের পর বরিশালে নতুন পদায়নকে ‘নজিরবিহীন’ বলেছেন পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা। তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর অধীনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স বিভাগীয় মামলা করে। মামলা নং-১৭/ ২০২৫।

৬ এপ্রিল, ‘ওপেন ঘুস কারবার যার নেশা, বেসামাল নরসিংদীর এসপি’ শিরোনামে যুগান্তরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট পুলিশ সুপার হিসাবে নরসিংদীতে যোগদান করেন এই কর্মকর্তা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত অভিযোগনামায় বলা হয়, ‘আব্দুল হান্নান নরসিংদী জেলায় যোগদানের আগে ২০২৩ সালে পুলিশ সুপার হিসাবে জেলায় পদায়ন পেতে রবিউল মুন্সী নামে একজনকে ৫০ লাখ টাকা দেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে রবিউল মুন্সী এসপি হিসাবে পদায়নের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে আব্দুল হান্নান নরসিংদী জেলায় এসপি হিসাবে যোগদানের পর রবিউল মুন্সীর কাছ থেকে উক্ত টাকা উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৯ নভেম্বর এসপির অধীনস্ত ডিবি ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) এসএম কামরুজ্জামান কর্তৃপক্ষের অনুমতি/ছুটি ছাড়াই ঢাকায় আসেন। তিনি রাজধানীর বিজয় সরণিসংলগ্ন মনিপুরী পাড়ায় রবিউল মুন্সীর অফিসে গিয়ে নগদ ৫ লাখ টাকা আদায় করেন। অবশিষ্ট ৪৫ লাখ টাকা উদ্ধারের জন্য পুলিশ পরিদর্শক এসএম কামরুজ্জামান স্বহস্তে একটি লিখিত ডকুমেন্ট তৈরি করেন। এরপর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক রবিউল মুন্সীর স্বাক্ষর নেন। ওই ডকুমেন্টে এসপি আব্দুল হান্নানও গ্রহণকারী হিসাবে স্বাক্ষর দেন।

স্বরাষ্ট্র সচিবের অভিযোগনামায় এ বিষয়ে আরও বলা হয়, ৫ এপ্রিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিক নেসারুল হক খোকনের সঙ্গে মোবাইলে কথোপকথনের সময় আব্দুল হান্নান বদলিসংক্রান্ত বিষয়ে ৫০ লাখ টাকা লেনদেন এবং টাকা উদ্ধারে অধীনস্ত পুলিশ সদস্যকে ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেন। যা সাক্ষ্য-প্রমাণে এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়। পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এছাড়া সরকারি বিধিবহির্ভূতভাবে অধস্তন পুলিশ সদস্যকে অবৈধ পন্থায় ব্যক্তিগত কাজে নিয়োজিত করেন এসপি। এসব বিষয় অপেশাদার ও অকর্মকর্তাসুলভ কর্মকাণ্ড, কর্তব্য কাজে অবহেলা, বিভাগীয় নিয়মশৃঙ্খলা পরিপন্থি তথা অসদাচরণ এবং দুর্নীতি পরায়ণতার শামিল। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এসপি আব্দুল হান্নানকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৩(খ) এবং ৩ (ঘ) অনুযায়ী যথাক্রমে অসদাচরণ (মিসকন্ডাক্ট) এবং দুর্নীতি পরায়ণতার (করাপশন) অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। একই বিধিমালার ৪(৩) এর উপ-বিধি(ঘ) অনুসারে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে না তার লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে আব্দুল হান্নানকে। কৈফিয়তনামা পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে অভিযোগনামার অনুলিপি দেওয়া হয়েছে পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছেও। অভিযোগ বিবরণী এসপি আব্দুল হান্নানের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় পাঠিয়ে প্রাপ্তি স্বীকার পত্র নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও যুগান্তরে প্রকাশিত রিপোর্টে যে সব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তার সত্যতা তুলে ধরা হয়।

 

 

ক্ষমতার আমলে আওয়ামী ভিড়েছিলেন আমিনুল ইসলাম জাকির মোল্লা। এখন বিএনপির সুসময়ে তিনি আওয়ামী লীগ ছেড়ে ফের পুরানো দলে ফিরেছেন। দলে ভিড়েইে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদে পুরস্কৃত হন। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিযেছে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে। তারা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। ঘটনাটি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়নে।

জানা গেছে, উপজেলার বাইশারী সৈয়দ বজলূল হক কলেজের সহকারী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জাকির উদয়কাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৩ ডিসেম্বর বিএনপি তাকে বহিস্কার করে। তখন ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন সিনিয়র সহ-সভপতি আলমগীর হোসেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে জাকির নৌকা প্রতীকের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার ভাই বাদল মোল্লা বিভিন্ন সময় জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে উদয়কাঠি ইউনিয়নের করমজা কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন।

বিএনপির ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, গত বছর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জাকির ফের বিএনপিতে ফিরতে নানা কৌশল করে। গত জুলাইতে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে তাকে উপজেলা বিএনপির সদস্য পদ দেওয়া হয়। গত ১৯ নভেম্বর পত্রের মাধ্যমে আমিনুল ইসলাম জাকিরকে সভাপতি করে উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়ন বিএনপির ১০১ সদস্যের কমিটি দেয়া হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মঞ্জুর খান ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ মৃধা ওই পত্রে স্বাক্ষর করেন। উদয়কাঠী ইউনিয়নের বাসিন্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম মিঞা উপস্থিত থাকার পরেও তার স্বাক্ষর না নিয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি মঞ্জুর খানের স্বাক্ষর নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উদয়কাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, দলের চরম দুঃসময়ে জাকির আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। তাকে ফের দলে এনে পদ দিয়ে পুরস্কৃত করা হলো। আর আমরা যারা দল আকরে থেকে হামলা-মামলার শিকার হয়েছি তারা হলাম তিরস্কৃত। ঘোষিত কমিটি গঠনতন্ত্র মেনে হয়নি। কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান আলমগীর।

এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ মৃধা বলেন, জাকির মোল্লাকে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছিলো। মুঠোফোনে সাড়া না দেওয়ায় এ প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম মিঞার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জাকির মোল্লা বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক আমার কলেজ গভর্নিংবডির সভাপতি ছিলেন। কলেজ অধ্যক্ষ ও আামিসহ আরও কয়েকজন শিক্ষককে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে বাধ্য করেছে।

অভিযোগ রযেছে, নবগঠিত ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির পদ পাওয়াদের মধ্যে জামায়াতে যোগদান করা দুজন নেতাও রয়েছেন। এদিকে পূর্বের ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত না করে এবং কোন কাউন্সিল ছাড়াই গঠিত পকেট কমিটিতে আওয়ামী লীগে যোগদান করে বহিস্কৃত হওয়া নেতাকে পুনরায় শীর্ষ পদ দিয়ে পুরস্কৃত করা,জামায়াতে যোগদান করাদের অন্তর্ভূক্তি এবং দলের দুঃসময়ের নির্যাতিত ত্যাগী ও পরীক্ষিত নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীদের কমিটিতে অবমূল্যায়ন করায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়ে সাধারণ নেতা-কর্মী সমর্থকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা ভাবে তারা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আমিনুল ইসলাম জাকির মোল্লার ফুল দেওয়া ও আওয়ামী লীগে যোগদানের ছবি এবং এ সংক্রান্ত নিউজ পোস্ট করে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। তারা অগঠনতান্ত্রিকভাবে গঠিত এ কমিটি অনতিবিলম্বে বাতিল করে কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের দুঃসময়ের ত্যাগী, নির্যাতিত ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন।’

 

 

বরিশালে পেশাদার ৩৫ সাংবাদিক সংগঠনের উদ্যোগে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৮টায় বরিশাল নগরীর একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় এ মতবিনিময় সভা বসে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনী পরিবেশ এবং গণমানুষের সমস্যাগুলো নিয়ে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হয় এ আয়োজনে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু নাছের রহমাতুল্লা, বরিশাল মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন, বরিশাল জামায়াতে ইসলামী’র নায়েবে আমীর দুলাল, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম আব্বাস এবং পেশাদার ৩৫ সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা সাংবাদিক আলম রায়হানসহ সকল সাংবাদিকবৃন্দ।

সভায় বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিকরা জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করেন। তাই উভয় পক্ষের মধ্যে সুসম্পর্ক, মতবিনিময় ও সহযোগিতা গণতান্ত্রিক পরিবেশ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাংবাদিকরা জানান, মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে নানা বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়। তাই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সহায়তাও প্রয়োজন।

অন্যদিকে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষ সাহসিক কাজের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, গণমাধ্যম দেশের গণতন্ত্রকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মতবিনিময় সভায় দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন, জনগণের সমস্যা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা দিক আলোচনা হয়।

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ ধরনের মতবিনিময় সভা নিয়মিত আয়োজনের আহ্বান জানান, যাতে সমাজের সার্বিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় যৌথভাবে কাজ করা সম্ভব হয়

 

 

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শক্তশালি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাজধানীসহ দেশের অনেক জেলা। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিস) বলছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৫। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল নরসিংদী।

বাংলাদেশের মতো সারা বিশ্বে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে নানা মাত্রায় ভূমিকম্প হয়ে থাকে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া গেলেও ভূমিকম্পের নির্ভুল সতর্কবার্তা পাওয়া যায় না। তবে ভূপৃষ্ঠের কম্পন পর্যালোচনা করে ভূমিকম্প হওয়ার সময় সতর্কবার্তা পাঠিয়ে থাকে গুগলের আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেমসহ বেশ কয়েকটি অ্যাপ।

গুগলের আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম
ভূমিকম্পের সময় স্থানীয় অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের সতর্ক করতে ২০২০ সালে আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম চালু করে গুগল। আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম মূলত ভূপৃষ্ঠের কম্পন পর্যালোচনা করে ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা পাঠায়। ভূমিকম্পের উৎস ও মাত্রা সম্পর্কে জানানোর পাশাপাশি নিরাপদ থাকার পরামর্শও দিয়ে থাকে। আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম কাজে লাগিয়ে চাইলে ভূমিকম্পের বিস্তারিত তথ্যও জানা সম্ভব। ভূমিকম্প সতর্কতা চালুর জন্য প্রথমে স্মার্টফোনের সেটিংসে প্রবেশ করে ‘সেফটি অ্যান্ড ইমার্জেন্সি’ অপশন থেকে ‘আর্থকোয়েক অ্যালার্টস’ নির্বাচন করতে হবে। এরপর পরবর্তী পৃষ্ঠা থেকে আর্থকোয়েক অ্যালার্টস টগলটি চালু করতে হবে।

মাই আর্থকোয়েক
মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্টস একটি ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে ভূমিকম্প সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য জানা যায়। বিশ্বজুড়ে ভূমিকম্প শনাক্ত করতে সক্ষম অ্যাপটি এই ঠিকানা থেকে নামিয়ে বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যাবে।

আর্থকোয়েক নেটওয়ার্ক
ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা জানাতে সক্ষম আরেকটি অ্যাপ হচ্ছে আর্থকোয়েক নেটওয়ার্ক। ভূপৃষ্ঠের কম্পন পর্যালোচনা করে ভূমিকম্পের আগাম সতর্ক দেওয়ার দাবি করলেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অ্যাপটি মূলত ভূমিকম্পের কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে আশপাশের এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক বার্তা পাঠিয়ে থাকে। এই ঠিকানা থেকে নামিয়ে ব্যবহার করা যাবে অ্যাপটি।

 

 

আমতলী-পটুয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ডাক্তার বাড়ী নামক স্থানে বৃহস্পতিার দুপুর পৌনে ১২ টায় সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আলহাজ¦ মো. আব্দুস ছোবাহান হাওলাদার (অব:) সহকারী পুলিশ সুপার (৭৫) সড়ক পারাপাড়ের সময় একটি রোগীবাহী এ্যাম্বুলেসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হয়েছেন।

নিহত আব্দুস ছোবাহান গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানি গ্রামের মৃত আব্দুল গনি হাওলাদারের ছেলে। আব্দুস ছোবাহান স্থায়ী ভাবে ঢাকায় বসবাস করতেন।

দুদিন আগে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। এঘটনায় এ্যামবুলেন্সটিকে আটক করেছে পুলিশ। চালক পালিয়ে যায়। আমতলী থানা পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত আলহাজ¦ মো. আব্দুস ছোবাহান ১৮ নভেম্বর নিজ বাড়ির মসজিদের সংস্কার কাজ দেখার জন্য গ্রামের বাড়ি আসেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২ টায় সময় আমতলী আসার জন্য তিনি আমতলী-পটুয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ডাক্তার বাড়ী নামক স্থানে এসে সড়ক পাড়াপার হচ্ছিলেন।

এসময় তালতলী থেকে বরিশালগামী বেপরোয়া গতির একটি প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্সের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।

স্থানীয়রা তাৎক্ষনিক তাকে উদ্ধার করে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এসময় হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান মো. জগলুল হাসান বলেন, ঘাতক এ্যাম্বুলেন্সটিকে আটক করা হয়েছে। চালক পালিয়ে যায়। আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।