নিজস্ব প্রতিবেদক // বরিশাল নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চকবাজারের বিউটি রোড আবারও অস্থির। দীর্ঘদিনের জমি ও মালিকানা বিরোধ এবার রূপ নিলো ভয়াবহ অগ্নিসংযোগে। অভিযোগ উঠেছে, দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে বিউটি সুপার মার্কেটের নিচতলায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের পার্টনার আবুল হাসান কুদ্দুস জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে দুর্বৃত্তরা মার্কেট ভবনে আগুন লাগায়। অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সৌভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানি হয়নি, তবে পুড়ে গেছে মালামাল, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অবকাঠামো।
চুক্তি, দানপত্র ও দখল চেষ্টা: পুরনো বিরোধের বিস্ফোরণ। অভিযোগ অনুযায়ী, বিউটি সুপার মার্কেট নির্মাণের জন্য অভিযুক্ত সৈয়দ আশিক চৌধুরীর বাবা জুলফিকার আলী চৌধুরীর সঙ্গে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের চুক্তি হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জমির মালিক একই জমি তার ছেলে সৈয়দ আশিক চৌধুরী ও মেয়ে কামরুন্নাহার চৌধুরীর নামে দানপত্র দলিল করে দেন। সেই দলিল দেখিয়ে সৈয়দ আশিক চৌধুরী মালিকানা দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ।
ডেভেলপারদের দাবি, গত বছরের ৯ ও ১০ মে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক নিয়ে নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে হামলা চালানো হয়। প্রথম তলার ছাদ ও নিচতলার অফিস ভাঙচুর করা হয়, লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয় এবং সে ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
তাদের ভাষ্য, সেই বিরোধের ধারাবাহিকতাতেই এবার অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। “হামলা-মামলায় ক্ষ্যান্ত হয়নি, শেষ পর্যন্ত আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে,” অভিযোগ কুদ্দুসের।
ঘটনার পর আবুল হাসান কুদ্দুস কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবৈধ দখলের উদ্দেশ্যে অগ্নিসংযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির ছবি তুলেছে বলে জানা গেছে।
নগরবাসীর প্রশ্ন, বারবার হামলা-ভাঙচুর ও মামলা চলার পরও কেন বিরোধের সমাধান হলো না? কারা এই অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত? দখল-বাণিজ্যের আড়ালে কারা মদদ দিচ্ছে?
বিউটি রোডের ব্যবসায়ীরা এখন আতঙ্কে। তারা দ্রুত তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। নগরীর ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এমন অগ্নিসংযোগ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও বড় সতর্কবার্তা।







