মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল  :  ঝালকাঠি
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (পুর) মো. খাইরুল ইসলামকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে তলবের পরও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট
মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা অবকাঠামো
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, সরকারি
অর্থ আত্মসাৎ, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারসাজি এবং নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে তাকে দুদকের
প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার
জন্য নোটিশ পাঠানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, জেলার বিভিন্ন শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজে
নির্ধারিত মান বজায় না রেখে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন না হলেও বিল
উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে,
যার ফলে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ব্যবস্থা
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে
অঘোষিত কমিশন এবং প্রভাব বিস্তারের
সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এতে সৎ ঠিকাদাররা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং
নিম্নমানের কাজের ঝুঁকি বাড়ছে।

এদিকে, জেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
শিক্ষক ও অভিভাবকরাও নির্মাণ কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, নতুন ভবনের কিছু অংশে ফাটল, প্লাস্টার খসে পড়া এবং নিম্নমানের উপকরণ
ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি নিয়ম মেনেই সব কাজ করেছি। দুদকের তলবের বিষয়ে আমি অবগত আছি
এবং নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেব।”
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর সংশ্লিষ্ট একটি
সূত্র জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থাও
নেওয়া হতে পারে।

দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন,
তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। প্রয়োজনে মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনও করা হবে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই অনিয়মের
বিষয়টি উঠে আসে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে শিক্ষা
প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর ২০২১ সালের আগস্ট মাসে ৫৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রথম কয়েকজনের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের
মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই অনিয়মের সঙ্গে সরকারি কর্ম
কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক
“সৈয়দ আবেদ আলী” নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। পিএসসিতে চাকরি নিজেই নিয়েছিলেন
জালিয়াতি (ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার) করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায়
পিএসসির থেকে চাকরি হারান এবং কারাগারে ছিলেন, এখন জামিনে আছেন।

অনুসন্ধানে “আবেদ আলীর” হাতে নিয়োগ
পাওয়া একাধিক প্রার্থীর সরাসরি যোগাযোগ
ও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ তুলে ধরা হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে কয়েকজন মোটা
অঙ্কের টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি ও ব্যাংক লেনদেনের
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২২ সালে সম্পন্ন হওয়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী
প্রকৌশলী (পুর) পদে সরকারি কর্ম কমিশনের
সরাসরি নন-ক্যাডার নিয়োগ পরীক্ষায়
মেধাতালিকার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়সহ
অন্তত চারজন প্রার্থীর সঙ্গে আবেদ আলীর
আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এই চার কর্মকর্তার মধ্যে অন্যতম হলেন,
ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের
সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলাম।

 

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলামকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়োগ ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুতে বিভিন্ন
গণমাধ্যম ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর নাম
জড়িয়ে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে।

প্রধান অনিয়ম ও অভিযোগসমূহ নিম্নরূপ:

নিয়োগে অস্বচ্ছতা: ২০২৬ সালের
জানুয়ারিতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে
সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে যে, নির্ধারিত যোগ্যতা ও
মেধা তালিকার তোয়াক্কা না করে আর্থিক
লেনদেন বা রাজনৈতিক প্রভাবে অনেককে
নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ: মো. খাইরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন প্রকৌশলীর
বিরুদ্ধে নিয়োগ ও পদায়নকে কেন্দ্র করে
অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

বিভাগীয় ও দুদকের নজরদারি: শিক্ষা
প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কেনাকাটা ও নির্মাণ কাজে অনিয়মের
অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
অনুসন্ধান চালাচ্ছে। অনেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা ও চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

অযোগ্যদের নিয়োগের অভিযোগ: সাধারণ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল যে, যারা
সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের অনেকেরই প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা বা যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম নিয়ে
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল-২৪ এর
অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘সার্চলাইট’-এ বিস্তারিত
তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বর্তমান অবস্থা:

মো. খাইরুল ইসলামের নামে এসব অভিযোগে জড়িয়েছে।

অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও এসব অনিয়মে পরোক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে

 

বর্তমান অবস্থা

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিয়োগ দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মো. খাইরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

সম্পদ বিবরণী নোটিশ:

মো. খাইরুল ইসলামকে তাঁর সম্পদের উৎস
ব্যাখ্যা করতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে
সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য প্রাথমিক
নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অভিযোগের ধরণ:

তাঁর বিরুদ্ধে মূলত ২০২১ সালের নিয়োগ
পরীক্ষায় জালিয়াতি এবং পরবর্তী সময়ে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সম্পদ গড়ার
অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে
যুক্ত স্থানীয় নাগরিকরা বলছেন, শিক্ষা খাতের
উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম দেশের
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে
দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি
জানিয়েছেন।

তবে এখনো পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে তার
বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—দুদকের তলবের পরও কীভাবে তিনি বহাল
তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন? তদন্তের
অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন
সবার নজর।

জনমনে প্রশ্ন

স্থানীয় সুশাসনকর্মীরা বলছেন, শিক্ষা খাতে
এমন অনিয়ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের প্রশ্ন—দুদকের তলবের পরও কীভাবে অভিযুক্ত
কর্মকর্তা দায়িত্বে বহাল থাকেন?

 

 

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক //
বরিশাল নগরীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে ডেকে নিয়ে এক যুবকের ওপর পরিকল্পিত ও নৃশংস হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক আসামি, কিশোর গ্যাংয়ের লিডার কালা সজীব ওরফে টোকাই সজীবকে শনিবার আটক করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নগরীর শাহ পরান সড়কের বাসিন্দা মোঃ সুমন আহম্মেদ তার ছেলে জান আহম্মেদের ওপর হামলার অভিযোগে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের সঙ্গে জান আহম্মেদের বিরোধ চলছিল।

গত ১৫ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেওয়া হয় জান আহম্মেদকে। পরে কোতোয়ালী থানাধীন বিসিসি ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পরস সাগর মাঠের উত্তর-পশ্চিম কোণে পৌঁছামাত্রই পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালায়। এসএস পাইপ (রড) দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। হামলায় তার মুখ, নাক ও কানে মারাত্মক আঘাত লাগে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় জান আহম্মেদকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক আসামি কালা সজীব ওরফে টোকাই সজীবকে শনিবার বরিশাল নগরীর গোড়াচাঁদ দাস রোড এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তাকে আটক করেন বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই রবি আহসান।

পুলিশ জানায়, হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

 

আসাদুজ্জামান শেখ //

ঝালকাঠির রাজাপুরে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন ছাত্রদল নেতা মোঃ ফেরদৌস রিপন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার ২নং শুক্তাগড় ইউনিয়নে এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্যাটারি চুরিতে বাধা দেওয়াই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য।

সূত্র জানায়, সন্ধ্যার দিকে বাড়ির কাছেই অবস্থানকালে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে রিপনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তাকে। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। সেখানেও পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তার দুই হাতের একাধিক রগ কেটে গেছে, অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গুরুতর আহত রিপন জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির সঙ্গে জড়িত একটি চক্র সক্রিয়। এর আগেও তিনি চুরি হওয়া ব্যাটারি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের ফেরত দিয়েছিলেন। ঘটনার দিন একই এলাকার তিনটি অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি হলে তিনি অভিযুক্ত মাহমুদের বাড়িতে গিয়ে ব্যাটারি ফেরত চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহমুদ, শহীদ, চয়নসহ কয়েকজন মিলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।

এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ধারণা, চুরি সিন্ডিকেটের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধ বা পূর্ব শত্রুতার জেরেও এ হামলা হতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই কর্মীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন এক কর্মী।

আহত রফিকুল ইসলাম টিপু বরিশাল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত সাগর একই এলাকার বাসিন্দা এবং ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী।

শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নগরীর বরিশাল কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোবাইল সংক্রান্ত একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রথমে দুইজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় অভিযুক্ত সাগর ধারালো অস্ত্র দিয়ে টিপুর ওপর হামলা চালালে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি, তবে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি

 

 

বরগুনার আমতলী উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বিতরণে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বিতরণ কমিটির অনুমোদন ছাড়াই ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত একাধিক ভুয়া ব্যাংক হিসাবে ৯০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। জালিয়াতি শনাক্ত হওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হিসাবগুলোতে থাকা ২৪ লাখ ১১ হাজার টাকার লেনদেন স্থগিত করে। তবে এর আগেই বাকি ৬৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সোনালী ব্যাংকের আমতলী শাখা ও বরগুনা কোর্ট বিল্ডিং শাখার পাশাপাশি বরিশালের চকবাজার ও কলেজ রোড শাখার বিভিন্ন হিসাবে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা জমা হয়। আমতলী উপজেলার বাসিন্দা মো. তোফাজ্জল হোসেন সোনালী ব্যাংকের এই চার শাখায় নিজের নামে এবং স্ত্রী ও বোনের নামে একাধিক ভুয়া ও অননুমোদিত ব্যাংক হিসাব খুলে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে এলে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তোফাজ্জল হোসেন বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তিনি আমতলীর সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ কে এম সামসুদ্দিনের (শানু) ভগ্নিপতি। ৪৭০ নম্বর গেজেট অনুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে তোফাজ্জল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান। তবে স্থানীয় অনেক মুক্তিযোদ্ধার দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বয়স কম থাকায় তিনি যুদ্ধে অংশ নেননি।

নিয়ম অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার পে–রোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার যাচাই শেষে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। পরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বিতরণ কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার কথা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়, আমতলী উপজেলার মো. তোফাজ্জল হোসেনের নামে সোনালী ব্যাংকের আমতলী শাখায় একাধিক হিসাবে এই অর্থ জমা হয়েছে। এর মধ্যে একটি সঞ্চয়ী হিসাব অনুমোদিত হলেও একটি এমডিএস (ডিপিএস) হিসাব, দুটি অননুমোদিত সঞ্চয়ী হিসাব, তাঁর স্ত্রী শাহানারা কাজলের নামে একটি সঞ্চয়ী হিসাব ও তাঁর বোন লুৎফা বেগমের সঞ্চয়ী হিসাবে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার অর্থ জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই সময় শাখাটির ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন বিশ্বনাথ চ্যাটার্জী ও মো. কাওছার মোল্লা। মো. ইউনুস মিয়া নামের এক ব্যক্তির সোনালী ব্যাংকের বরিশাল কলেজ রোড শাখার একটি হিসাবেও মুক্তিযোদ্ধা ভাতার অর্থ জমা হওয়ার তথ্য মিলেছে। জানা গেছে, তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্র জানায়, কয়েকটি হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন ধরা পড়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিশেষ তদন্ত দল বিষয়টি খতিয়ে দেখে। তদন্ত চলাকালে তোফাজ্জল হোসেন লিখিত বক্তব্যে জালিয়াতির বিষয়ে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এক ব্যক্তির সহযোগিতায় এসব লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের নিরীক্ষকদের একটি সূত্র জানায়, আমতলী শাখায় মুক্তিযোদ্ধা ভাতার অর্থ লেনদেনে একাধিক অনিয়ম হয়েছে। যাঁদের নামে ভাতা তোলা হয়েছে, তাঁদের অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা নন। কেউ কেউ ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ভাতা সুবিধা নিয়েছেন। একই সঙ্গে শাখা ব্যবস্থাপকের জিম্মায় থাকা এমআইএস ইউজার আইডির ব্যবহার ও তদারকিতেও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে গাফিলতির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপক বিশ্বনাথ চ্যাটার্জী ও মো. কাওছার মোল্লা।

নিরীক্ষা দলের অনুসন্ধানে উঠে আসে, ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধার নামে ভাতার অর্থ তোলা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৪ জনই ভুয়া বলে শনাক্ত হয়। এসব নামে খোলা ২০টি সঞ্চয়ী হিসাবে ৯০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জমা হয়। এ ছাড়া ফরিদা বেগম, চম্পা ও মোসাম্মৎ রুনু নামে তিনটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রোফাইলের বিপরীতে মোট ২৪ লাখ টাকার ঋণ বিতরণের ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, কয়েকজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার ভাতার অর্থও অন্যের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা জি এম এ মান্নানের ভাতার ৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা তোফাজ্জল হোসেন নিজের নামে, তাঁর স্ত্রী শাহানারা কাজল, বোন তহমিনা ইউনুস ও ফরিদা নামে একজনের হিসাবে জমা করেন। একইভাবে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন তালুকদারের ভাতার ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিজের নামে, বোন লুৎফা বেগম ও তহমিনা ইউনুস নামে একজনের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম তালুকদারের ভাতার ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খালেদা বেগম ও তহমিনা ইউনুসের হিসাবে এবং মুক্তিযোদ্ধা গাজী মো. জালাল উদ্দীনের ভাতার ২ লাখ ১২ হাজার টাকা মো. ইউনুস মিয়ার হিসাবে জমা করে পরে তা তুলে নেওয়া হয়েছে। মোহাম্মদ আব্দুস সালাম নামে একটি ভুয়া প্রোফাইল খুলে তাঁর ভাতার ৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা তোফাজ্জল হোসেন নিজের নামে, তাঁর স্ত্রী শাহানারা কাজল, হাসিনুর রহমান, খালেদা বেগম ও ইউনুস মিয়ার ব্যাংক হিসাবে জমা করে তুলে নেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে তোফাজ্জল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে তাঁর স্ত্রী শাহানারা কাজল বলেন, তাঁর স্বামী মুক্তিযোদ্ধা নন এবং কোনো ভাতা গ্রহণ করেন না। তাঁর দাবি, ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা তাঁর স্বামীর কাছ থেকে হিসাব নম্বর নিয়ে অপব্যবহার করেছেন এবং ষড়যন্ত্র করে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমতলীর এক বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘আমরা এত বছর নিয়ম মেনে ভাতা পেয়ে এসেছি। কিন্তু কীভাবে আমাদের ভাতার টাকা অন্যের অ্যাকাউন্টে গেল, তা কল্পনাও করতে পারছি না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘খালেদা বেগম ও তহমিনা ইউনুস নামে কাউকে আমি চিনি না। অথচ আমার ভাতার টাকা কীভাবে তাঁদের হিসাবে গেল, তা বুঝতে পারছি না।’

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন তালুকদারের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম জানান, তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর তোফাজ্জল হোসেন ওয়ারিশ–সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। দীর্ঘদিন ঘোরাঘুরির পর প্রায় সাত থেকে আট মাস পরে তাঁদের হিসাবে ভাতার টাকা আসা শুরু হয়।

সোনালী ব্যাংক আমতলী শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ও বর্তমানে কলাপাড়া শাখায় কর্মরত মোহাম্মদ জুলকার বিন খালেদ বলেন, ২০২৪ সালের শেষ দিকে দৈনন্দিন লেনদেনের রসিদ যাচাইয়ের সময় কয়েকটি হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন নজরে আসে। পরে যাচাই করে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধা ভাতার অর্থ অননুমোদিতভাবে সাতটি হিসাবে জমা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে প্রধান কার্যালয়ের বিশেষ তদন্ত দল বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে।

সোনালী ব্যাংকের বরিশাল অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. মাহমুদুল হক বলেন, আমতলীতে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা উত্তোলনসংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। ব্যাংকের ভিজিল্যান্স ও অডিট দল বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার বলেন, ‘আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি, তাই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। বিষয়টি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

ভোলায় মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকা উল্টে নুরে আলম (৫৫) নামে একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।  শুক্রবার (২০ মার্চ ) ঈদের আগের দিন সকালে জীবিকার তাগিদে মাছ ধরতে গিয়ে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।
জানা যায়, ঘরে খাবার না থাকায় নুরে আলম  ছোট্ট নৌকায় দুই ছেলে শাহিন ও শাকিলকে নিয়ে পাড়ি জমান সাগরমোহনায়। তাঁদের স্বপ্ন ছিল মাছভর্তি জাল নিয়ে ঘরে ফেরা, আর সেই মাছ বিক্রি করে ঈদের বাজার করা। কিন্তু সন্ধ্যার আগেই সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। দক্ষিণের সাগরমোহনায় হঠাৎ শুরু হয় প্রবল ঝড়। মুহূর্তেই উত্তাল হয়ে ওঠে নদী। বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ে নৌকার ওপর—এক নিমেষেই ডুবে যায় সবকিছু। নৌকার নিচে চাপা পড়েন তিনজনই। প্রাণপণ চেষ্টা করে পানির ওপর ভেসে উঠলেও তলিয়ে যায় নৌকা, জাল ও জীবিকার সব সম্বল।

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়ে যান তাঁরা। দুই ছেলে অর্ধমৃত বাবাকে নিয়ে টানা সাঁতরে তীরে ফেরার চেষ্টা করে। উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করতে করতে তারা বাবাকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু প্রকৃতির নির্মমতার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানেন নুরে আলম। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে পড়েন তিনি।
তবু থামেনি সন্তানেরা। বুকভরা কান্না আর অদম্য শক্তি নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা সাঁতরে তারা তীরে পৌঁছায়—বাবাকে ফেলে নয়, বুকে আগলে নিয়েই। তবে জীবিত নয়, লাশ হয়ে ঘরে ফেরেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি।
আজ শনিবার ভোরে চর ফারুকী গ্রামের বাড়িতে যখন নুরে আলমের মরদেহ পৌঁছায়, তখন পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। ঈদের আনন্দের দিনে যখন মানুষ নতুন পোশাকে নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন সেই বাড়িতে চলছিল আহাজারি। নামাজ শেষে জানাজা আদায় করেন গ্রামবাসী।

স্থানীয় মানুষেরা জানান, নুরে আলমের পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। মার্চ-এপ্রিল দুই মাস সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও ঈদের আগে ঘরে খাবার না থাকায় বাধ্য হয়েই গোপনে মাছ ধরতে যান তিনি।

নিহতের ছেলে শাহিন জানান, বিকেলে হঠাৎ ঝড় শুরু হলে তাদের ট্রলার উল্টে যায়। ভাই শাকিল জালের বয়া ধরে বেঁচে যান। পরে বাবাকে নিয়ে সাঁতরে তীরে উঠলেও ততক্ষণে সব শেষ।

দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান কবির জানান, কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার বলেন, জেলে নিবন্ধিত থাকলে পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে। স্থানীয় মানুষেরা পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এমসিকিউ, রিটেন ও ভাইভা পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে অ্যাডভোকেট হলেন সাংবাদিক মোঃ বেলাল হোসেন সিকদার।

সাংবাদিক মোঃ বেলাল হোসেন সিকদার চরমোনাই আহসানাবাদ রশিদিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল এমএ পাস করেন, বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন, বরিশাল ল কলেজ থেকে এলএলবি সম্পূর্ণ করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এর সকল পরীক্ষায় প্রথমবারে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

সাংবাদিক মোঃ বেলাল হোসেন শিকদার দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে সুনাম ও দক্ষতার সাথে সংবাদকর্মীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন।তিনি বরিশালের বিভিন্ন লোকাল পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক,যুগ্ম সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও দৈনিক জাতীয় ও অনলাইন পত্রিকার বিভিন্ন দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করে আসছেন।

অ্যাডভোকেট,সাংবাদিক মোঃ বেলাল হোসেন সিকদার বলেন আমি দীর্ঘদিন আমার সাধ্যমত চেষ্টা করেছি সংবাদ কর্মী হিসেবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পাঠকের কাছে তুলে ধরার সাদা কে সাদা কালোকে কালাই উপস্থাপনা করার চেষ্টা করেছি, বর্তমানে আমি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে অ্যাডভোকেটের সনদ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় বরিশাল জজ কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত হয়েছি। তিনি আরো বলেন সত্য, ন্যায় ইনসাফ, দেশ জাতি, মানবতার ও ইসলামের পক্ষে আইনি সেবা দিতে পারি জনগণকে এজন্য সাংবাদিক বেলাল হোসেন সকলের কাছে দোয়ার আবেদন করেছেন। অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন সিকদার এর শ্রদ্ধেয় পিতা দীর্ঘ ১০ বছর পূর্বে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজিউন) বর্তমানে তার স্ত্রী,এক কন্যা,মমতাময়ী মা,দুই ভাই ও এক বোন রয়েছে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বরিশাল নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় জান আহমেদ (২৪) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানাধীন বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পরেশ সাগর মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ পরান সড়কের বাসিন্দা মো. সুমন আহমেদ কোতোয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে আগে থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই ঘটনার দিন রাতে এজাহারভুক্ত আসামি সৌরভ, রাকিব, সজিব, অরিন, সায়মন ও ইয়াসিনসহ আরও কয়েকজন জান আহমেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা এসএস লোহার পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জান আহমেদকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে। এতে তার মুখমণ্ডল, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। চিকিৎসকরা জানান, হামলায় আহত জান আহমেদের শরীরে প্রায় ১৪টি সেলাই দিতে হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জান আহমেদ মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পিছন থেকে দুইটি মোটরসাইকেলে করে পাঁচ থেকে ছয়জন কিশোর গ্যাং সদস্য এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। হামলার সময় তার মাথার হেলমেট ভেঙে ছিন্নভিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে থাকে।

স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:
রাজনীতির প্রকৃত অর্থ মানুষের সেবা করা এবং মানুষের সুখ-দুঃখের সময় পাশে দাঁড়ানো—এমনটাই মনে করেন বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান শাকিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বরিশাল নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের নানা সমস্যা ও দুর্দশা কাছ থেকে দেখছেন এবং সেগুলো সমাধানে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর ধরে সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন শাকিল। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিজ উদ্যোগে এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের সহায়তায় প্রায় দেড়শত অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এসব খাদ্যসামগ্রী পেয়ে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে মিজানুর রহমান শাকিল বলেন, রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়; বরং মানুষের পাশে থাকা এবং তাদের দুঃখ-দুর্দশায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই রাজনীতির আসল উদ্দেশ্য।

তিনি বরিশাল নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মানিত নাগরিকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুখের সময় না হলেও দুঃখের সময় যেন সাধারণ মানুষ তার শরণাপন্ন হন। যেকোনো সমস্যায় তিনি তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

এ সময় এলাকাবাসী জানান, সামাজিক ও মানবিক কাজে মিজানুর রহমান শাকিলের এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা করছেন।

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক /

​বরিশাল নগরীর কাজীপাড়া এলাকার চেরাগ আলী সড়কে নিজ বাসভবন থেকে রাহাত হোসেন আজাদ (৪০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাত ১২টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত আজাদ ওই এলাকার মৃত চেরাগ আলী হাওলাদারের পুত্র।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ কক্ষের আড়ার সাথে আজাদকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী। খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।

প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,আজাদ বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র মানসিক চাপে ভুগছিলেন। অভিযোগ উঠেছে,এই আত্মহত্যার পেছনে শ্লীলতাহানির অপবাদ ও পারিবারিক বিরোধের বড় ভূমিকা রয়েছে।

​স্থানীয়দের ভাষ্যমতে,আজাদের বড় ভাই হুমায়ুন কবির ও ভাবি পারভীন বেগম ও এলাকাবাসির মাধ্যমে জানাজানি হয় আজাদ একই এলাকার দুই সন্তানের জননী তানিয়া নামক এক নারীর শ্লীলতাহানি করেছেন। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত সোমবার (১০ মার্চ) ভুক্তভোগী নারী কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করতে এলাকায় গেলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। ধারণা করা হচ্ছে,সামাজিক লোকলজ্জা এবং নিকটাত্মীয়দের তোলা এই অপবাদ সইতে না পেরেই আজাদ আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।

মৃত আজাদের আর দুই ভাই ভাবি অভিযোগ করে বলেন আমাদের ভাই আত্মহত্যা করতে পারে না ওকে কেউ মেরে ঘরের আরাড় সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। সঠিক তদন্ত করলে ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসবে এমনটাই দাবি করেছেন তারা।

ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেছেন আজাদের স্ত্রীর এক সন্তান রয়েছে। আজাদ একটু মাদকাসক্ত বিদায় স্ত্রীর রাগ হয়ে চট্টগ্রামের চলে যান সেখানেই বসবাস করেন তিনি। মৃত্যুর খবর স্ত্রী সন্তানকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে রওনা করেছেন তারা বরিশালের উদ্দেশ্যে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান,খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য যাচাই সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।