বরিশালে ৮শ’ কেজি জাটকা জব্দ করেছে কোস্টগার্ড সদস্যরা। বাংলাদেশ কোষ্টগার্ড দক্ষিণ জোনস্থ বরিশাল কোস্টগার্ডের বিসিজি স্টেশান টিম ৬ জানুয়ারী রাত ২টা ৩০ মিনিটের সময় এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ব্রীজ সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে অভিযান চালিয়ে একটি স্টিলবডি নৌকায় অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৮শ’ কেজি জাটকা জব্দ করেন।

কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গতকাল (৬ জানুয়ারী) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের সময় গোপন সংবাদে জানতে পেরে বিসিজি স্টেশান এর স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট এম আতাহার আলীর নেতৃত্বে কোস্টগার্ডের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করেন।

এ সময় বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ব্রীজ সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে অভিযান চালিয়ে একটি স্টিলবডি নৌকাসহ ৮ জনকে আটক করেন। পরবর্তীতে নৌকা তল্লাশি করে ৮শ’ কেজি জাটকা জব্দ করেন এবং নৌকায় অন্য মাছ থাকায় মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় কোস্টগার্ড সদস্যরা।

অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৮শ’ কেজি জাটকাসহ একটি সজব্দ করেন। এ সময় বরিশালের দপদপিয়া ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় একটি যাত্রীবাহি পরিবহনে অভিযান চালায় বরিশাল কোস্টগার্ডের বিসিজি স্টেশান টিমের সদস্যরা। এ সময় অন্তরা ক্লাসিক নামে একটি পরিবহনে তল্লাশি করে আনুমানিক ৮শ’ কেজি জাটকা জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস এর এর উপস্থিতিতে জব্দকৃত জাটকা বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও অসহায়- দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেঃ কে এম শাফিউল কিঞ্জল বলেন, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের এখতিয়ারভুক্ত এলাকাসমূহে আইন শৃঙ্খলা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন, জননিরাপত্তা, বনদস্যুতা ও ডাকাতি দমনের পাশাপাশি বনজ সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ||আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে পুলিশ সাংবাদিক প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।এই ক্রিকেট ম্যাচ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কে কেন্দ্র করে বরিশালে অধিকাংশ সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।কারণ বরিশালের বেশিরভাগ সাংবাদিকরাই এই অনুষ্ঠানে দাওয়াত পায়নি।বিস্তারিত আসছে………..

বরিশালের বাবুগঞ্জে ১৯০০ পিস ইয়াবা সহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে বরিশাল বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস টিম।

বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া নতুন হাট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারি হলেন, বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি ইউপির বাসিন্দা নুর উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে মোঃ মিনজার হোসেন ( ২৬) ও ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার কালিন্দী ইউনিয়নের মোঃ রুহুল আমিন কাজীর ছেলে মোঃ শামীম হোসেন (৩৮)।

বরিশাল বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সহকারী পরিচালক মোঃ এনায়েত হোসেন এর ইেতৃত্বে উপ পরিদর্শক ইশতিয়াক হোসেন, ফারুখ হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স এই অভিযান পরিচালনা করেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ এনায়েত হোসেন জানান, গোল্ডেন লাইন পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসে মাদকদ্রব্য আসছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া নতুন হাট এলাকায় ঢাকা- বরিশাল মহাসড়কে উপরে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসময় যাত্রীবাহী বাসে মিনজার হোসেন ও শামীম হোসেনের দেহ তল্লাশি করে ১৯০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

তারা দীর্ঘদিন যাবৎ জেলার বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ী হতে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে পরবর্তীতে তা অন্য মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীদের কাছে বিক্রি করে আসছে।

এঘটনায় মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের এস আই ইশতিয়াক বাদী হয়ে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বাবুগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

বানারীপাড়ায় ১১ বছর পরে ডাকাতি মামলার আসামী গ্রেফতারবানারীপাড়ায় ১১ বছর পরে ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত পলাতক আসামি সদাই হালদারকে (৪০)গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

২৯ ডিসেম্বর গভীর রাতে তাকে বিশারকান্দি ইউনিয়ন থেকে গ্রেফতার করা হয়। এবিষয়ে বানারীপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলার বিশারকান্দি এলাকার নারায়ন হালদারের ছেলে সদাই হালদার বানারীপাড়া থানার জিআর নং ১১৭, ধারা -৩৯৫/৩৯৭/৪১২ পেনাল কোডের পরোয়ানা ভুক্ত আসামি।

২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা দায়ের করা হলে সে ভারতে পালিয়ে যায়। ২৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাত পৌণে ১ টার দিকে সে বাড়িতে বেড়াতে এলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর সোয়া ৪টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে বরিশালে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

প্লাস্টিকের কাঁচামাল ক্রয়ের টোপ দিয়ে রাজধানীর চকবাজারের প্লাস্টিক ব্যবসায়ী জুয়েল এবং তার কর্মচারী মোর্শেদকে নিয়ে যাওয়া হয় বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া ঘাটে। পরবর্তীতে অপরাধী চক্রটি ওই ঘাট থেকে তাদের নৌকায় তুলে নদীর মাঝখানে নিয়ে যায়।

সেখানে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা কেড়ে নিয়ে কর্মচারীসহ তাকে হত্যা করে নদীতে লাশ ফেলে দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার বরিশাল বাকেরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান যুগ্ম-কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) বিজয় বিপ্লব তালুকদার।

অপরধী চক্রের গ্রেফতার সদস্যরা হলেন- নুরুজ্জামান হাওলাদার (৪০), আব্দুল আজিজ শিকদার (৩৪), হাফেজ চৌকিদার (৪৬) এবং দেলোয়ার হোসেন মোল্লা ওরফে দেলু (৩৫)।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জুয়েল সিকদার রাজধানীর চকবাজারের প্লাস্টিক ব্যবসায়ী। পূর্ব পরিচিত দেলোয়ার হোসেন মোল্লা নামে এক ব্যক্তি তাকে প্লাস্টিকের কাঁচামাল কেনার টোপ দেয়।

 

ব্যবসায়ী জুয়েল এবং তার কর্মচারী গত ১৪ ডিসেম্বর বরিশালে যায়। সেখানে কথিত ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান, আজিজ ও হাফিজ নামে এক মাঝি একটি ট্রলারে করে তাদের মেঘনা নদীতে নিয়ে যায়।

পরে তাদের চোখে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে দিয়ে তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে যায় এবং তা বন্ধ করে দেয়। জুয়েলের সঙ্গে থাকা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় দেলোয়ার। এরপর জুয়েল ও তার কর্মচারী নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাদের নদীতে ফেলে পালিয়ে যায় অপরাধীরা।

বিজয় বিপ্লব তালুকদার বলেন, এ ঘটনায় তিনদিন পর বরিশালের মুলাদী ও ইলিশায় প্লাস্টিক ব্যবসায়ী জুয়েল এবং তার কর্মচারী মোর্শেদের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহত জুয়েলের বাবা রাজধানীর চকবাজার থানায় একটি মামলা করেন।

পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবসায়ী জুয়েল শিকদার এবং তার কর্মচারী মোর্শেদ আলম হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে বরিশালের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যুগ্ম কমিশনার বিজয় বিপ্লব বলেন, অপহরণকারীরা পরস্পরের যোগসাজশে প্লাস্টিক ব্যবসায়ী জুয়েল ও তার কর্মচারীকে অপহরণ করে বরিশালে থেকে উলানিয়া ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে মেঘনা নদী নিয়ে যায়।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রেপ্তাররা মরিচের গুড়া দিয়ে গলাটিপে তাদের নিস্তেজ করে। পরে জুয়েলের সঙ্গে থাকা টাকা নিয়ে তাদের মেঘনা নদীতে ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তাররা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা এর আগেও এ ধরণের অপরাধ সংঘটিত করেছে। তাদের রিমান্ডে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গৃহবধূর আত্মহত্যায় প্ররোচণার মামলায় স্বামী সুব্রত হালদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে এক সন্তানের জননী গৃহবধূ সুবর্ণা হালদার (২৪) আত্মহত্যা করেন বলে জানায় পুলিশ।

মৃত সুবর্ণা হালদার উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের শ্যামল মন্ডলের কন্যা। আর গ্রেপ্তার সুব্রত হালদার অশোকসেন গ্রামের মধুসুদন হালদারের ছেলে।

আগৈলঝাড়া থানার এসআই মো. আলী হোসেন বলেন, যৌতুকের দাবিতে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ সুবর্ণা বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে বাড়ির পাশে গাছের সঙ্গে রশি বেঁধে গলায় ফাঁস আত্মহত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এসআই আরও জানান, এ ঘটনায় গৃহবধূর বাবা শ্যামল মন্ডল বাদী হয়ে স্বামীসহ চার জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলার অন্যতম আসামি গৃহবধূর স্বামী সুব্রতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি গৃহবধূর শাশুড়ি উষা রানী হালদার, ননদ জোৎস্না রানী হালদারসহ ননদের ছেলে পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

নিহতের বাবা শ্যামল মন্ডল সাংবাদিকদের জানান, সুব্রত হালদারের সঙ্গে দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সুবর্ণার।

পেশায় কাঠ মিস্ত্রি শ্যামল মন্ডল বিয়ের সময় মেয়েজামাই সুব্রত হালদারকে কিছুই দিতে পারেননি উল্লেখ করে জানান, সুবর্ণার পায়ে চর্মরোগ ছিলো। চিকিৎসা করানোর পরেও ভালো হয়নি। বিয়ের সময় সুব্রত হালদারের বোন জোৎস্না হালদার পায়ে চর্মরোগ দেখেই পছন্দ করে ঘরে তুলে নেয়। পরে ওই চর্মরোগ ভালো না হওয়ায় স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে যৌতুক দাবি করেন তারা এবং তার বাবার বাড়ি যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

শ্যামল মন্ডল আরও জানান, বাড়ি থেকে ভাই-বোন বিভিন্ন সময় খাবার নিয়ে গেলেও সেগুলো তাকে না খেতে দিয়ে ফেলে দেওয়া হতো। এমনকি পিত্রালয় থেকে যাওয়া লোকজনের সঙ্গে কথাও বলতে দেওয়া হতো না।

তিনি জানান, এ ঘটনা নিয়ে একাধিবার শালিস-বৈঠক করে সমাধান করা হয়। এরইমধ্যে সুবর্ণা একটি কন্যা সন্তানের জম্ম দেয়। এর জেরে তার মেয়ের ওপর আবার নির্যাতন শুরু হয়।

এদিকে, যৌতুক দাবি ও কন্যা সন্তান হওয়ায় নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে নিহতের স্বামী সুব্রত হালদার সাংবাদিকদের বলেন, স্ত্রী সুবর্ণা অতিরিক্ত কথা বলায় মাঝেমধ্যে মারধর করা হয়। বিয়ের সময় সুবর্ণার চর্মরোগের কথা গোপন রেখে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তার।

ভোলায় দেশীয় অস্ত্র ও টাকাসহ তিন ডাকাতকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৮)। বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা ১২টার দিকে র‌্যাব-৮ এর ভোলা ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-৮ বরিশালের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মাহামুদুল হাসান।

আটকের সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি রান দাঁ, একটি রড, নগদ ৬০ হাজার টাকা, আটটি সিম কার্ড ও চারটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

আটকরা হলেন-মো. শাজাহান ওরফে সাজু মাঝি (৫০), মো. নিরব (৩৪) ও মো. আবুল বাশার (৩২)। তারা ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা।

কর্নেল মাহামুদুল হাসান বলেন, ১ ডিসেম্বর ভোলার মেঘনা নদীতে জেলেদের মাছ ধরার ট্রলারে হামলা চালায় ডাকাত দল। এসময় টাকা, মাছ, জালসহ নয় জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে তারা। পরে অপহরণ করা জেলেদের মারপিট করে ট্রলারের মালিক ও আত্মীয় স্বজনদের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

পরে ওই জেলেদের ট্রলার মালিক ও পরিবারের সদস্যরা তাদের বাঁচাতে দুই লাখ আট হাজার টাকা ডাকাতদের মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে দেন।

পরে ৩ ডিসেম্বর অপহৃত জেলেদের তারা ভোলা সদরের তুলাতুলি এলাকায় ছেড়ে দেয়। এ ঘটনা ৫ ডিসেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে র‌্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্প ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধীদের গতিবিধি ও অবস্থান নির্ণয় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একটানা ৭২ ঘণ্টার বিশেষ অভিযান চালানো হয়। ভোলা সদরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তিন ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও বাকিদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।’

বছর দুয়েক আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সোয়া তিন কোটি টাকার সেতুতে ৩০ ফুট কাঠের তৈরি মই বেয়ে উঠতে হয়।

এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী। বছরের পর বছর সংযোগ ছাড়া সেতুটি পড়ে থাকলেও এ বিষয়ে উদাসীন এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। যদিও তারা বলছেন বরাদ্দ না থাকায় সংযোগ সড়ক নির্মাণে দেরি হচ্ছে।

জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এলজিইডির আওতায় সোয়া তিন কোটি টাকা ব্যয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের হানুয়াবাজারের হানুয়া মতিজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পোড়াধন খালের ওপর এ সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করেন স্থানীয় ঠিকাদার নাসির মাঝি।

২০২১ সালের শুরুর দিকে নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় সেতুটি এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না।

সেতুটি দিয়ে পারাপারের জন্য স্থানীয়রা টাকা তুলে প্রায় ৩০ ফুট কাঠের দুটি মই তৈরি করে কোনোভাবে যাতায়াত করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়ক ছাড়া সেতুটি পড়ে থাকলেও এলজিইডি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে হানুয়াবাজারের ব্যবসায়ী মাসুদ সিকদার জানান, সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় খোদাবক্সকাঠী গ্রামের মানুষ তিন কিলোমিটার পথ ঘুরে গাড়িতে মালামাল নিতে হয়। সেতুটি এর চেয়ে না থাকায় ভালো ছিল।

হানুয়া মতিজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সাহানা পারভীন জানান, সেতুর সংযোগ সড়ক না করায় এলাকার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। বিশেষ করে সেতুর সামনেই আমার বিদ্যালয়ে প্রায় তিনশর মতো শিক্ষার্থী আছে।

যাদের বেশিরভাগ সেতু পার হয়ে বিদ্যালয় আসা-যাওয়া করে। ছোট ছোট বাচ্চারা মই বেয়ে সেতুতে উঠতে গিয়ে অনেক সময় পড়ে দুর্ঘটনার শিকারও হয়েছে।

সেতুটির বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম বাদল বলেন, এ বিষয়ে একাধিকবার উপজেলার মাসিক মিটিংয়ে বলছি, তার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি এলজিইডি।

সংযোগ সড়কের বিষয়ে জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি আবুল খায়ের মিয়া বলেন, এ সেতুর সংযোগ সড়কের জন্য নতুন করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।

সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক ব্যয় ধরা ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক ব্যয় ধরা থাকলেও সংযোগ সড়কের জন্য নতুন করে ডিজাইন করা লাগবে। সংযোগ সড়কের জন্য ঠিকাদারকে কোনো বিলও দেওয়া হয়নি।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল চন্দ্র শীল জানান, সেতুর সংযোগ সড়কের বিষয়ে মাসিক মিটিংয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানও হতাশ। এলজিইডি প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

পটুয়াখালীর বাউফলে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামীকে প্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ০২টার দিকে ঢাকা যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মোঃ জালাল ওরফে পলাশ গাজী মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী। তার পিতা মৃত চান্দু গাজী, গ্রাম নিমদি, ০৩নং ওয়ার্ড, ০৯নং নাজিরপুর তাঁতের কাঠি ইউনিয়ন । অপরদিকে আবুল বাশার ১০বছর ০৬ মাস দন্ডপ্রাপ্ত আসামী। তার পিতা আব্দুল বারেক মীর।

গ্রাম সূর্য মনি এরা বহুদিন যাবৎ পলাতক ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৭/১২/২২ তারিখ বাউফল থানার এসআই মনির হোসেনের নেতৃতে, এএসআই মোঃ পারভেজ আনোয়ার, এএসআই মোঃ মহিউদ্দিন ফোর্সসহ র‌্যাব-৩ এর সহযোগীতায় ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়।

এতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী মোঃ জালাল ওরফে পলাশ গাজী ও ১০বছর ০৬ মাস দন্ডপ্রাপ্ত আসামী আবুল বাশারকে একই এলাকার পৃথক দুটি বাসা থেকে ২৮/১২/২০২২খ্রিস্টাব্দ রাত সোয়া ০২ টার দিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। এর মধ্যে পলাশ কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী থানায় একটি হত্যা মামলার (৬নং আসামী) মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী।

(মামলা নং ১০. তারিখ ১৫/০১/১৪ খ্রিষ্টাব্দ জিআর ১০/১৪ ধারা ৩০২/৩৪ দন্ডবিধি আইন)। অপরদিকে চাদপুরের মতলব থানায় অটোগাড়ি ছিনতাই মামলায় ১০ বছর ৬মাস দন্ডপ্রাপ্ত আসামী (মামলা নং ০৪/১৪ জিআর ৬৮/১৪ তারিখ ১৯/০৭/১৪ খ্রিষ্টাব্দ, ধারা ৩৯৪ দন্ডবিধি আইন)।

এবিষয়ে ওসি আল মামুন বলেন, আমার সার্বিক তত্বাবধায়নে বাউফল থানার একটি টিম ঢাকায় পাঠিয়ে পৃথক স্থান থেকে দুজনকেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। আসামীরা এখন বাউফল থানা হেফাজতে আছে। তাদেরকে পটুয়াখালী জেল হাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ।। বাকেরগঞ্জের দাঁড়িয়ালে ইয়াবা সেবন ও জুয়া খেলতে বাধা দেয়ায় ২ জনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে চিহ্নিত মাদককারবারিরা। গত ২৬ ডিসেম্বর (সোমবার) রাত সাড়ে ৭ টার সময় বাকেরগঞ্জের দাঁড়িয়াল ইউনিয়নে এ ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাগেছে, বাকেরগঞ্জের দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা খালেক হাওলাদারের বখাটে পুত্র একাধিক মাদক মামলার আসামী শাখাওয়াত তার সহযোগী রিপন, শাকিল ও লিয়নকে সাথে নিয়ে কামারখালি বাজার সংলগ্ন স্থানে ইয়াবা সেবন ও জুয়া খেলতে ছিলো। এ সময় দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সমাজ সেবক, ব্যবসায়ী শাহআলম হাওলাদার মনির তাদের ইয়াবা সেবন ও জুয়া খেলতে বাধা প্রদান করে ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের ধাওয়া করে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করে। এরই জেরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৭ টার সময় মাদক ব্যবসায়ী শাখাওয়াত তার সহযোগী রিপন, শাকিল, লিয়নসহ অজ্ঞাত ৫/৭ জন সহযোগী নিয়ে ১নং ওয়ার্ডস্থ হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন স্থানে শাহআলম হাওলাদার মনির ও শাহিন খানের ওপরে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় মনিরের মাথা ও মুখমন্ডলে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং শাহিন হাওলাদারকে বেড়ক পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করলে শাখাওয়াতসহ তার সহযোগীরা পালিয়ে গেলে আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিমে ভর্তি করা হয়। আহতরা বর্তমানে শেবাচিমের ৫ম তলায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত শাহআলাম হাওলাদার মনির জানান, শাখাওয়াত একাধিক মাদক মামলা ও জেল খাটা আসামী। সে তার সহযোগীদের নিয়ে দাঁড়িয়াল গ্রামে ইয়াবা বিক্রী, সেবন, জুয়া খেলাসহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিলো। আমি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করে আসছিলাম। এছাড়াও দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও একাধিক স্থানে মাদক ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলাম। আমার এসব কর্মকান্ডে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদককারবারি শাখাওয়াত তার সহযোগী রিপন, শাকিল, লিয়নসহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে আমাদের উপরে অতর্কিত হামলা চালিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।