নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম এলাকা রুপাতলি বাস স্ট্যান্ড। প্রতিদিনই  দূরদূরান্ত থেকে সহ হাজার মানুষের চলাচল।এর পাশেই আবাসিক এলাকা হাউজিং মধ্যেই বরিশাল জেলা পরিষদের স্টলে গড়ে ওঠা মুরগীর দোকান গুলোতে প্রতিনিয়ত সাধারন ক্রেতাদের নানা ভাবে ঠকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ ও সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাউজিং এলাকার মধ্যে গড়ে ওঠা বরিশাল জেলা পরিষদের স্টলে মুরগীর দোকান গুলোতে প্রতিদিনের বাজার দরে মূল্য তালিকার বোড কিছু দোকানে থাকলেও নেই তাতে প্রতিদিনের বাজার মূল্য দর। এছাড়াও  প্রায় দোকানেই রয়েছে সরকার নির্ষেধ নিষিদ্ধ  কাটার পালা।অভিযোগ সূএে জানাযায়, মুরগী ব্যবসায়ী সোহেল বিশ্বাস,ইকবাল ও সায়েম দীর্ঘ দিন যাবৎ সাধারন ক্রেতাদের প্রতিকেজি মুরগীতে দেড় শ’ থেকে দুই শ’ গ্রাম মাপে কম দেয়। এছাড়াও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দামের বিড়াম্বনা অভিযোগ। নাম না প্রকাশ অনিচ্ছুক এক ক্রেতা জানান,তাদের কাছে থেকে মুরগী কিনলে অনন্য বাজারে চেয়ে দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি রাখে। এছাড়াও সরকার নিষিদ্ধ কাটার পালা দিয়ে মাপে যাতে প্রতিকেজিতে দেড় শ’ থেকে দুই শ’ গ্রাম মাপে কম দেয়।এব্যাপারে বরিশাল ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ  অধিদফতর জানান,আমাদের প্রতিদিনই বাজার মনিটরিং চলছে।সঠিক তথ্য প্রমান পেলে অচিরেই এ সব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেয়া হবে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশালে হাবিবুর রহমান ফারুক নামের এক ব্যক্তি তার নিজের ছেলের চাকরির জন্য মোঃ হারুন-অর-রশিদ নামের এক প্রতারক এর কাছে ১০ লক্ষ টাকার একটি চেক প্রদান করেছিল, কিন্তু প্রতারক হারুন-অর-রশিদ চাকরি তো দেয়নি উল্টো হাবিবুর রহমান ফারুকের নামে মিথ্যা চেক ডিজঅনারের মামলা করে তাকে জেল খাটান। অত:পর উক্ত মিথ্যা মামলায় অ্যাডভোকেট মোঃ মোকাররম হোসেন খান মামলাটি পরিচালনা করে এবং তার দীর্ঘ প্রচেষ্টায় নিরপরাধ হাবিবুর রহমান ফারুক কে বেকসুর খালাস করতে সক্ষম হন। মিথ্যা মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়ে হাবিবুর রহমান ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলের চাকুরীর জন্য আমারি বাল্যবন্ধু মোঃ হারুন অর রশিদ যিনি পেশায় একজন সরকারি চাকুরীজিবি তাকে বিশ্বাস করে নগদ ৫ লক্ষ টাকা ও ১০ লক্ষ টাকার একটি চেক প্রদান করি। কিন্তু সে আমাকে আমার ছেলের চাকুরীর একটি ভুয়া অ্যাপার্টমেন্ট কার্ড দিলে আমি সেটা নিয়ে নির্দিষ্ট দপ্তরে গিয়ে দেখালে আমি সাথে সাথে পুলিশের হাতে অ্যারেস্ট হয়। পরে আমার স্ত্রী অনেক চেষ্টা করে আমাকে জামিনে মুক্ত করে নিয়ে আসে। আমি বাড়ি এসে প্রতারক হারন রশিদের কাছে টাকা ও চেক চাইলে সে অনেকদিন নয় ছয় করে আমাকে ঘুরাতে থাকে পড়ে একপর্যায়ে আমি জানতে পারি যে সে আমারই চেক দিয়ে আমার নামে একটি এন আই এক্ট এর একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে যাহার মামলা নং সেশন ৫৮/২০। এই মামলায় আমি কয়েকদিন জেল খেটে জামিনে মুক্তি পাই, অবশেষে অ্যাডভোকেট মোকাররম হোসেন খান এর সহযোগিতায় অত্র মিথ্যা মামলা থেকে বিজ্ঞ আদালত আমাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। প্রতারক হারুন-অর-রশিদ আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে তাই আমি তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে নগরীর নথুল্লাবাদ-রূপাতলী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর একটার দিকে আগুন জ্বালিয়ে শিক্ষার্থীরা ওই সড়ক অবরোধ করলে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, খুলনা যাওয়ার উদ্দেশে রূপাতলীস্থ বিআরটিসি বাস কাউন্টারে আসেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সজল হাওলাদার।

পেছনে সিট দেওয়া নিয়ে কাউন্টারের ম্যানেজার মো. রফিকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় ওই শিক্ষার্থীর।

একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন রফিক। এ খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা ওই ম্যানেজার রফিকের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সহকারে বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে নথুল্লাবাদ-রূপাতলী সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় বিআরটিসি কাউন্টার ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

এদিকে সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশ ও মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছাত্রদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করে।

তবে ছাত্ররা অবরোধ প্রত্যাহার না করে তাদের দাবিতে অনঢ় থেকে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে অভিযুক্ত ম্যানেজার রফিককে পুলিশ আটক করলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।

 

শাওন ইসলাম ঃ বরিশাল নগরীর ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা মাইনুল হক সহ দুইজনকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত। ১৫ ফেব্রুয়ারী সোমবার বরিশালের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পলি আফরোজ বিচারাধীন আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন। মাইনুলের সাথে হাজতে যাওয়া অপর অভিযুক্ত হচ্ছে পলাশপুর এলাকার মৃত্যু জয়নাল হাওলাদারের ছেলে হানিফ হাওলাদার। তাদের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন নগরীর পদ্মাবতী এলাকার বাসিন্দা আঃ রব। অভিযোগে তিনি বলেন অভিযুক্তদ্বয় তার পূর্ব পরিচিত। ২০১৪ সালে তারা চরবদনা মৌজার ডোবা জমি বিক্রির প্রস্তাব করলে তিনি রাজি হন। ২০১৪ সালের ১৩ জানুয়ারী তিনি অভিযুক্তদের নগদ ৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা দেন। একলাখ ২০ হাজার টাকা খরচ দিয়ে ওইদিনই বরিশাল সহকারী রেজিস্টার অফিস বসে জমি দলিল করে। জমি দলিল করার পর সীমানা পিলার দিয়ে দখল বুঝাইয়া দেয়ার অঙ্গীকার করে। জমি দলিল করার পর আঃ রব দুইলাখ টাকা ব্যয়ে বালু ফেলে ডোবা ভরাট করে। অভিযুক্তদের কাছে দখল বুঝাইয়া দেয়ার দাবি জানালে তারা দেই দিচ্ছি বলে ঘুরাতে থাকে। ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর কয়েকজন সংগী নিয়ে অভিযুক্তদের কাছে গিয়ে দলিলকৃত জমির দখল অথবা তাদের দেয়া ৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা এবং খরচ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ফেরত চায়। অভিযুক্তরা জমি বিক্রির কথা অস্বীকার করে এবং টাকা ফেরত চাইলে খুন জখমের হুমকি দেয়। এধরণের অভিযোগ দেয়া হলে আদালত থানাপুলিশকে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। কোতোয়ালি মডেল থানার এস আই মোস্তাফিজুর রহমান তদন্তে সত্যতা পেয়ে ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালত সমন আদেশ দিলে অভিযুক্তরা গুরুত্ব দেননি। আদালত গত ৭ জানুয়ারী মামলার চার্জগঠন করে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। অভিযুক্তদ্বয় ১৮ জানুয়ারী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানায়। বাদী আঃ রব এর সাথে তাদের আপোষ শর্তে আদালত ধার্য্য তারিখ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন পেয়ে তারা বাদীর সাথে আপোষ না করে আদালতের দেয়া জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে। ১৫ ফেব্রুয়ারী ধার্য্য তারিখে তারা আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন চায়। বাদী আপোষ না করায় জামিন বাতিল করার দাবি জানায়। আদালত বাদীর আবেদন মঞ্জুর করে অভিযুক্ত সাবেক কাউন্সিলর মাইনুল হক ও তার সহযোগী হানিফ হাওলাদারের জামিন বাতিল করে তাদের জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন বলে আদালত সূত্র নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য সাবেক কাউন্সিলর মাইনুল হক পলাশপুর এলাকার মৃত্যু আব্দুল মতিন বেপারীর ছেলে এবং বরিশাল জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চানের ভাতিজা বলে জানায় মামলার বাদী।

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির মনোনীত বাবলু-খোকন (সাদা) প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী গোলাম মাসউদ বাবলু।

সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন একই প্যানেলের রফিকুল ইসলাম খোকন। সাদা প্যানেলের প্রার্থীরা ১১ পদের মধ্যে ১০টিতেই বিজয়ী হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের পর গণনা শেষে গভীর রাতে এ খবর পাওয়া গেছে।

সাদা প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট গোলাম মাসউদ বাবলু ২৪৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের মনোনীত পান্না-রিয়াজ (নীল) প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ পান্না ১৪৯ ভোট পেয়েছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে ২৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সাদা প্যানেলের অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী নিল প্যানেলের নীল প্যানেলের প্রার্থী মির্জা মো. রিয়াজ হোসেন ১৪২ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।

সহসভাপতি পদে সাদা প্যানেলের লীলা রানী চক্রবর্তী ২১৮ ও সালাউদ্দিন সিপু ২৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের নিকটতম নীল প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বী অসীম কুমার বাড়ৈ ১৬২ ও শেখ মেহেদী হাসান শাহীন ১৬০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।

অর্থসম্পাদক পদে সাদা প্যানেলের মিজানুর রহমান মিন্টু ২৪৫ পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিন্দ্বন্দ্বী নীল দলের আব্দুল মালেক পেয়েছেন ১৪৮ ভোট। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে সাদা প্যানেলের সুমন চন্দ্র হালদার ২০৬ ও এসএম আতিকুল ইসলাম ২৬৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের প্রতিন্দ্বন্দ্বী নীল প্যানেলের নিজাম উদ্দিন ১৪৪ ও শাহ আলম ১৬৭ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।

নির্বাহী সদস্য পদে সাদা প্যানেলের প্রার্থী এসএম তৌহিদুর রহমান ২৪১, মুহাম্মদ ফিরোজ আলম সিকদার ২৭৩, শহিদুল ইসলাম খলিফা ২২৯ ভোট ও নীল প্যানেলের প্রার্থী আ. রহমান চোকদার ২১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা প্যানেলের নুরে হোসেন ১৭২ ভোট, নীল প্যানেলের প্রার্থী শাহীন উদ্দিন ১২৪, হারুন অর-রসিদ ১০০ ও কাজী মাহমুদা ১৯০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। সমিতির ৮৮৬ জন ভোটারের মধ্যে ৭৪৮ জন ভোট দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে খোলা মাঠে নিয়ে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগে আব্দুল মান্নান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ফতুল্লা থানার মাসদাইর পতেঙ্গা মাঠ এলাকায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃত আব্দুল মান্নান মাসদাইর বেকারির মোড়ের সালাউদ্দিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া ও ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানার মৃতমাটি গ্রামের কাশেম আলীর ছেলে।

শিশুটির মা জানান, তিনি বিভিন্ন বাসায় ঝিয়ের কাজ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে বাসার গলিতে খেলার সময় ধর্ষক আব্দুল মান্নান তার মেয়েকে ১০ টাকা দিয়ে চকলেট কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে পতেঙ্গার মাঠ নামে পরিচিত পার্শ্ববর্তী খোলা মাঠে নিয়ে ধর্ষণ করে।

ঘটনাটি দেখতে পেয়ে মাঠের আশপাশের বিভিন্ন বাসার লোকজনসহ স্থানীয় পথচারীরা ছুটে এসে আব্দুল মান্নানকে আটক করে গনপিটুনি দিয়ে পুলিশকে সংবাদ দেয়।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে।

যশোরে দিগন্ত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা লেগে চালক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার ভোরে যশোর-মাগুরা সড়কের গাইদঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত বাসচালক সোহাগ গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার বাবুল মিয়ার ছেলে।

আহতরা হলেন– খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার লাখফোটিয়া গ্রামের আলম শেখের স্ত্রী জাহানারা বেগম, চন্দ্রনিমোহর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে রিপন, তেরখাদা উপজেলার মণ্ডলগাতি গ্রামের শামীম আহমেদের ছেলে মীর মোহাম্মাদ, যশোর সদর উপজেলার জোদরহিমপুর গ্রামের রুহুল কুদ্দুসের ছেলে ফরহাদ হোসেন কাজল ও চৌগাছা উপজেলার রায়নগর গ্রামের মন্টু মিয়ার স্ত্রী নূরজাহান বেগম।

খাজুরা পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ জুম্মান খান জানান, ঢাকার গাবতলী থেকে খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে আসা দিগন্ত পরিবহনের একটি বাসে তারা গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। যশোর-মাগুরা সড়কের গাইদঘাট এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে বাসটির। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

আহত রিপন জানিয়েছেন, চালক ঘুম চোখে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। যে কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সার্জারি ওয়ার্ডের চিকিৎসক আশরাফুল আলম জানান, ভোরে সাতজনকে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে বাসচালক সোহাগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭টা ৪০ মিনিটে মারা যান। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রয়োজনে তাদের রেফার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বরিশালের গৌরনদীতে রাসিক হাওলাদার (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তারা হলেন– প্রধান আসামির মা রানু বেগম ও শাখাওয়াত হোসেন কামরুল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাসিক হাওলাদার তার এক মেয়ে সহপাঠীকে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সুন্দরদী এলাকায় তার মামার শ্বশুর (নানা) আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে বেড়াতে আসে।

মেয়ে সহপাঠীকে সঙ্গে নিয়ে বেড়াতে আসার ঘটনা কেন্দ্র করে পাশের বাসার মাদকসেবী রফিক সরদার (২৫) ৩-৪ জনের সহযোগিতায় আনোয়ার হোসেনের বসতঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রাসিককে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।

এতে তার বাম হাতের রগ, হাড় ও চারটি আঙুলের অধিকাংশ কেটে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ও পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গৌরনদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে ওই ছাত্রের মামা আকবর হাওলাদার বাদী হয়ে অভিযুক্ত তিনজনের নাম উল্লেখসহ চারজনকে আসামি করে শুক্রবার সকালে গৌরনদী থানায় একটি মামলা করেছেন।

আসামিরা হলেন– রফিক সরদার, তার মা রানু বেগম, ভগ্নিপতি শাখাওয়াত হোসেন কামরুল। মামলার পর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামির মা রানু বেগম ও শাখাওয়াত হোসেন কামরুলকে গ্রেফতার করেছে।

তাদের দুপুরে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তৌহিদুজ্জামান জানান, প্রধান আসামি রফিক সরদারের বিরুদ্ধে মাদকসেবনের অভিযোগ রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দলীয় অফিস ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটায় র্দুবৃত্তরা। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথমে পৌর শহরের নতুন বাজারস্থ বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ভাংচুর করা হয়। এসময় চেয়ার ছুড়ে মারায় ১০/১২ জন আহত হয় বলে দাবী করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দ্বিতীয় দফা রাত ৯টার দিকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী দিদার উদ্দিন আহমেদ মাসুমের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা।

এ সময় একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। হামলার সময় তার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের দুটি সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশারেফ হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপির প্রার্থী পৌর নির্বাচনের জনসংযোগ শেষে নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় অফিসে অবস্থান করেন।

এ সময় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা অফিসে ঢুকে তাদের অফিস ত্যাগ করতে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা চেয়ার ভাঙচুর করে এবং বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাজী হুমায়ুন সিকদারকে লক্ষ্য করে চেয়ার ছুড়ে মারে। এসময় প্রার্থীকে রক্ষা করতে গিয়ে সোহেল, আজাদসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী দিদার উদ্দিন আহমেদ মাসুম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে নৌকা সমর্থকরা এসে আমার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে। এসময় তারা সিসি ক্যামেরা, জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব তালুকদার বলেন, এ ঘটনা আমার জানা নেই। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।

কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো: আসাদুর রহমান বলেন, বিএনপি অফিসে দু’পক্ষের (আ’লীগ- বিএনপি) বাকবিতন্ডার সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই কিন্তু সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। শহরে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। কলাপাড়া পৌরসভা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং অফিসার আবদুর রশিদ বলেন, বিএনপি ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর পক্ষ থেকে নির্বাচন অফিসে এ বিষয়ে কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি।

বরিশালের উজিরপুরে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার (ইউপি সদস্য) অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগের সূত্র ধরে সরকারি কাজের টাকা ভাগাভাগির কথোপকথন ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

উজিরপুর উপজেলার ৩ নম্বর জল্লা ইউনিয়নের এ ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

এরইমধ্যে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরেও এসেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তারা।
যদিও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেবী রাণী হালদারের সঙ্গে সংরক্ষিত ওয়ার্ড মেম্বার দিপালী হালদারের ১৯ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের মোবাইল কথোপকথনটি কীভাবে ফাঁস হয়েছে তা নিশ্চিত হতে না পারলেও সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে মোবাইলে ইউপি সদস্য দিপালী হালদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কথোপকথন থাকা কণ্ঠ তার বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি যে কথোপকথন হয়েছে তা সত্য জানিয়ে রেকর্ডটির বিষয়ে তিনি বলেন, ওই মোবাইলটি তার ছেলের কাছে ছিলো, তার কাছ কে যেন মোবাইলটি নিয়ে কী করেছে তা বলতে পারছি না।

কথোপকথনে সরকার হতদরিদ্রের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের (৪০ দিনের) কাজ না করিয়ে টাকা তুলে নেওয়ার পরে তা ভাগবাটোয়ারার বিষয়টি স্পষ্ট। একইসঙ্গে চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসনকে ঘুষ দেওয়ার পরও কেন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে তা জানতে চাওয়া নিয়ে তর্কের বিষয়টি স্পস্ট।

তবে উত্তরের প্রথমে চেয়ারম্যান বলেছেন, টাকা পয়সার কোনো বিষয় নয়, খারাপ ব্যবহার ও আচরণ ভালো না হওয়ার বিষয় নিয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণতি বিশ্বাস জানান, ফাঁস হওয়া কথোপকথনের খবর শুনেছেন তিনি। কিন্তু সেখানে মেম্বার-চেয়ারম্যান কী নিয়ে আলাপ করেছেন তা শুনেননি। অডিও রেকর্ডটি শুনে কোনো বিষয়ে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

কথোপকথনে ইউএনওকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে যা বলা হয়েছে সেই সর্ম্পকে জানতে চাইলে প্রণতি বিশ্বাস বলেন, উজিরপুর উপজেলায় এমন ঘটনা এটাই প্রথম। আমার বিরুদ্ধে পেছনে বসে কেউ কিছু বললে সেটিতো সত্য হয়ে যাবে না।

ইউএনও বলেন, ইউপি সদস্য দিপালী হালদারের বিরুদ্ধে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শওকত আলী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের তদন্ত চলছিল। আপনি জেনে অবাক হবেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ‘এক কথায় অমায়িক লোক’। এক প্রতিবন্ধীর সার্টিফিকেট আনতে গিয়েছিলেন দিপালী হালদার, তাকে সার্টিফিকেট দেননি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তখন দিপালী হালদার তাকে মারধর করতে উদ্যত হন। বিষয়টি জেনে আমি পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। সেই ঘটনার তদন্ত চলছে।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শওকত আলী গত বছরের শেষ দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন জল্লা ইউনিয়নের সংরক্ষিত (৪, ৫ ও ৬) ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দিপালী হালদারের বিরুদ্ধে। সেখানে তিনি দিপালী হালদারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনেন।

আর ইউপি সদস্য দিপালী হালদার প্রতিবন্ধী ভাতার সার্টিফিকেট নিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন ডা. শওকত আলী। এ ঘটনার পর কয়েকজন ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বেবী রাণী হালদার অনাস্তা পত্র দেন ইউএনওর কাছে।

১৯ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের ফোনালাপের চুম্বুকাংশ বাংলানিউজের পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো:

ইউপি সদস্য দিপালী হালদার: মামী আপনি শুধু শুধু মেম্বারদের দিয়ে আমার বিরুদ্ধে যে কমপ্লেইন দিলেন, আর আপনিও সই দিলেন, এটা ভালো হইলো?’

চেয়ারম্যান বেবী হালদার: মানে কি, তুমি আমারে দোষো কেনো, খালি খালি কমপ্লেইন দিছি মেম্বারদের দিয়া, এডা কেমন কথা?

দিপালী হালদার: এহন শোনেন, আপনে যে টাকা চাইছেন আমার কাছে, আমি দিছি না আপনারে? ৭০ হাজার টাকা দিছি, আগেরবার কর্মসূচির দিছি ৫০ হাজার টাকা। তাইলে আমি কি আপনারে কম দিছি টাকা বলেন?’ আমি কর্মসূচির টাকা দিছি ৭০ হাজার, আপনি সেটা বলবেন না ইউএনওকে?

বেবী হালদার: বলেন, ‘৭০ হাজার দেও, আর তুমি ৯০ হাজার দেও, সেটা কোনো বিষয় না। তোমার আসবে কত? হিসাব থাকতে হবে, কত টাকায় কত আসবে। ৭০ হাজার, আর ৯০ হাজারের কোনো প্রশ্ন না এখানে। ’

দিপালী হালদার: না…আপনি কইছেন তোমার উপজেলা চাইছে ৪০ হাজার, আর…দিছি এতো, এটা বলে কইছেন ১ লাখ টাকা। এহন আমি আপনারে ৭০ হাজার টাকা দিছি, আগের বিলে দিছি ৫০ হাজার টাকা।

বেবী হালদার: কিসের তোমার ১ লাখ টাকা? তোমার কত পারসেন্ট আসবে সেটা জানে সচিব, তা তো আমিও জানি না এখনও। আর উপজেলা দিয়া ধরছে তোমার এবং চেয়ারম্যানের দুইডা প্রজেক্টে তাদের বেশি অভিযোগ, আর সব প্রজেক্ট তো দেখে নাই সেদিন। তারা ৩ থেকে ৪ টা প্রজেক্ট দেখছে, তার মধ্যে এ দুটা প্রজেক্টে বেশি অভিযোগ তাদের। পিআইও (অয়ন সাহা) লিখে দিছে, চেয়ারম্যানের প্রজেক্টে ১ লাখ ১০ হাজার, আর তোমার প্রজেক্টে দিছে ৯০ হাজার। এ দুইটা প্রজেক্ট দিয়া আমরা এইডা…দাবি করি। আর অন্য প্রজেক্ট বাদ-ই দিলাম, এইডা আমরা দাবি করি, এ ২ লাখ টাকা। তো অন্যান্য মেম্বাররা, তারা যে হ্যারা ১০/১৫ হাজার করে দিছে, হেইতো ভালো। এখন আমি তো…এরপরে সবাই মিলে আমারে ধরছে ৭০ হাজার, তোমারে ধরছে কত, ৫০ না, জানি কত হাজার।

দিপালী হালদার: আমারে টাকা ধরছে কে, আপনি?

বেবী হালাদার: সবাই মিলে, সব মেম্বাররা ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে, যার যার কাজের মানের ওপর নির্ভর করে। দুটি প্রজেক্টের ওপর বেশি অভিযোগে। আমি চেয়ারম্যান বিধায় আমাকে বেশি ধরছে। আমারে একারে ধরছে ৭০ হাজার, আমি সেই ৭০ হাজার টাকা দিয়ে দিছি, একেবারে নগদ দিছি… সচিবের কাছে ৭০ হাজার টাকা জমা। ……..আর উপজেলার টাকার সঙ্গে পারসেন্টের টাকার কি যোগাযোগ, তুমি আগে পারসেন্ট বাবদ ৫০ হাজার টাকা দিয়া দিছো। আর জেয়ারে (পরে) ২০ হাজার টাকা ভাগে ভাগে দিছো, এখন তোমার কাছে পারসেন্টের হিসাবে আরও পায়।

দিপালী হালদার: আমি ওই কাজে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিছি, আর কত দিবো?

বেবী হালদার: আমি চেয়ারম্যান হইয়া আমি ৭০ হাজার টাকা দিতে পারছি, আমার স্বামী (নিহত চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালাদার নান্টু) এতো টাকা ঋণ-দেনা রেখে গেছে, ব্যাংকে…বাড়ি-ঘর সব। আমি হ্যা দিতে পারছি, আমি চেয়ারম্যান হইয়া। আর তোমরা মেম্বার হইয়া দিতে পারবা না, তোমরা উপজেলায় গিয়া বুঝবা, এইখানে বুঝবা, ওইখানে বুঝবা। বেশ বোঝো, সমস্যা কি?

দিপালী হালদার: আমাদের কাজ ভালো না হলে তারা (উপজেলা প্রশাসন) বিল দিবে না, কিন্তু ইউএনও, পিআইও আমাদের কাছে এতো টাকা চায় কেন? এগুলো আপনি জিজ্ঞেস করতে পারেন না।

বেবী হালদার: বলতে পারি না …আবার, বলছি না। সব ইউনিয়ন থেকেই নিছে, যে যে ইউনিয়নের কাজের মান ভালো না, সবাইই দিছে, কম আর বেশি। এখন.. জল্লা ইউনিয়নের কাজ যথেষ্ট খারাপ কইছে। জল্লা থেকে ২ লাখ টাকার কম তারা (উপজেলা প্রশাসন) নিবেই না, আমি দেড় লাখ টাকা নিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে ঘুরতেছি। তারা (উপজেলা প্রশাসন) কোনো টাকাই ধরে না, ২ লাখ টাকার এক টাকাও কম নিবে না। ইউএনওর থেকে গত সপ্তাহ পর্যন্ত টাইম নিছিলাম, যে এর মধ্যে টাকা দিয়ে দিবো। শেষে আমারে ইউএনও পর্যন্ত ধরছে সেই টাকার জন্য। আগে তো…পিআইওর সঙ্গে সচিবের কথা হতো। আমার সঙ্গে বেশি কিছু বলে নাই। এখন তো ইউএনও সরাসরি সেদিন আমারে ধরছে, যে আপনি সেই টাকা কবে দিবেন? আপনি তারিখ দেন কবে দিবেন। আমি তারিখ দিয়ে আসছি, গত সপ্তাহের মধ্যে। কিন্তু সেই তারিখ তো শেষ, এখন এই সপ্তাহও যায়। তারা (উপজেলা প্রশাসন) এক টাকাও কম নেবে না।

তবে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি ইউপি চেয়ারম্যান বেবী রাণী হালদার। তবে তার দাবি কণ্ঠ নকল করে অডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অয়ন সাহা বলেন, অনিয়মের অভিযোগে বেশ কয়েকটি কাজের টাকা আমরা আটকে দিয়েছি। টাকা লেনদেনের বিষয়ে তিনি কোনো ঘুষ নেননি বলেও জানান।

উজিরপুর উপজেলার ৩ নম্বর জল্লা ইউনিয়নের ৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩৪১ জন শ্রমিকের কাজের জন্য ২৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে ওই ইউনিয়নের সবগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে কাজ না করে টাকা নিয়ে গেছে জনপ্রতিনিধিরা। ঘুষের সেই টাকার ভাগাভাগি নিয়ে এ কথোপকথনটি ফাঁস হয়।