বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুদ রাখার অভিযোগে হান্নান হাওলাদার নামে এক ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তার বাড়ি থেকে ৫৮০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়।

বুধবার(১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে  উপজেলার লোহালিয়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার তামান্না।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে নিজ বাড়িতে অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ করে রেখেছিলেন ওই ব্যবসায়ী। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
এ সময় হান্নান হাওলাদারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি তার ঘর থেকে উদ্ধার করা ৫৮০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত তেল সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানাগেছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার তামান্না জানান, জনস্বার্থবিরোধী এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে মজুদদারদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

অভিযানকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর সাথে  বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

 

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ২০১৫ সালে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। হাসানাত আবদুল্লাহ হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ আজ মঙ্গলবার সকালে এই অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আজ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মো.আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর মো.সহিদুল ইসলাম সরদার।

এই মামলার চার আসামির মধ্যে দুজন বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো.জসিম উদ্দিন কারাগারে আছেন। আর পলাতক আছেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ভুক্তভোগী দুজন হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে হাসানাত আবদুল্লাহ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই দুজনকে হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করেন। হাসানাত আবদুল্লাহ ও এহসানউল্লাহ তাঁদের অধস্তন পুলিশ সদস্যদের দিয়ে ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী–গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করে।

 

বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানগুলোতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বাণিজ্য চলছে। এসব অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে প্রভাবশালী একটি মহল বছরে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাদের সরাসরি সম্পর্ক থাকায় বিদ্যুৎ বিভাগ তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর বেলস পার্ক, বধ্যভূমি এলাকার কীর্তনখোলা নদীর তীর, সিঅ্যান্ডবি রোডের চৌমাথার লেকপাড়, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল, রূপাতলীর চৌমাথা, ফজলুল হক অ্যাভিনিউ এবং নগর ভবনের সামনের ফুটপাত ও সড়কে প্রায় এক হাজার অস্থায়ী দোকান রয়েছে। এসব দোকানে চার হাজারের বেশি অবৈধ বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার হচ্ছে।

দোকানিরা জানিয়েছেন, প্রতিটি দোকানে দুই থেকে তিনটি সকেট ব্যবহার করা হচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী দুই হাজার সকেটের মাধ্যমে কমপক্ষে ২০ হাজার বাতি জ্বালানো হচ্ছে। প্রতি সকেট থেকে ২০ টাকা হারে দৈনিক ৪০ হাজার টাকা, মাসে ১২ লাখ এবং বছরে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকার আয় হচ্ছে।

ওজোপাডিকোর বরিশাল বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্র-১-এর কর্মকর্তারা জানান, এসব এলাকায় ২০ হাজার বাতি ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারে কমপক্ষে প্রতিদিন ৪০ হাজার কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হওয়ার কথা। প্রতি এক হাজার কিলোওয়াটের জন্য এক ইউনিট বিদ্যুৎ বিল আসে। সেই হিসাবে চার হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হলে বাণিজ্যিক মিটারের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১৫ দশমিক ৬২ টাকা হারে দৈনিক প্রায় ৬২ হাজার ৪৮০ টাকা। মাসে বিল দাঁড়ায় ১৯ লাখ ৬৮ হাজার ১২০ টাকা এবং বছরে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৪৫ হাজার ৪৬০ টাকা।

নগরের ফুটপাত ও অস্থায়ী দোকানগুলোর অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কোনো হিসাব বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে নেই। ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এসব দোকান এবং বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তাই রাজনৈতিক ঝামেলা এড়াতে বিদ্যুৎ বিভাগ তেমন উদ্যোগী হচ্ছে না।

দোকানিরা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সড়কঘেঁষা এলাকায় অস্থায়ী দোকানের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। আগে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিদ্যুৎ বিল নিতেন, বর্তমানে তা নিচ্ছেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা। নামমাত্র কয়েকটি বাণিজ্যিক মিটার থাকলেও অধিকাংশই অচল। বিদ্যুৎ সরবরাহ নেওয়া হচ্ছে সিটি করপোরেশনের সড়কবাতি বা বিদ্যুৎ বিভাগের মূল লাইন থেকে অবৈধভাবে।

সরেজমিনে বিবির পুকুরপাড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সোহেল চত্বরের পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে চারটি মিটার রয়েছে। তবে এর মধ্যে দুটি অচল। আশপাশের দোকানিরা জানান, মিটার ব্যবহার না করেই পাশের একটি ভবন থেকে সড়কবাতির লাইনের মাধ্যমে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।

বেলস পার্ক এলাকার দোকানিরা জানান, কীভাবে সংযোগ দেওয়া হয় তা তারা জানেন না। তবে এলাকার প্রায় দুই শতাধিক দোকান থেকে প্রতিটি সকেটের জন্য ২০ টাকা করে নেওয়া হয়।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ দত্ত বলেছেন, ‘দোকানিরা বিদ্যুৎ বিলের নামে টাকা আদায় করে নিজের পকেট ভরছেন। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অসাধু ব্যক্তিরা বিতরণ সংস্থার কিছু অসাধু সদস্যের সহায়তায় মিটার ট্যাম্পারিং করে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। ফলে একদিকে বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে, অন্যদিকে সিস্টেম লসের বোঝা নিয়মিত গ্রাহকের ওপর চাপানো হচ্ছে।’

রনজিৎ দত্ত বলেন, ‘যদি দোকানগুলো বৈধ সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বছরে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারবে।’

ওজোপাডিকোর বরিশাল বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার বলেন, ‘সাইড লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ অবৈধ। একটি মিটার থেকে একাধিক সংযোগও আইনবিরুদ্ধ। আমরা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযান শুরু করব। এ ক্ষেত্রে সব মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

 

সরকারি অর্থ আত্মসাতের দায়ে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি দণ্ডিতদের বিভিন্ন অঙ্কে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বরিশাল বিভাগীয় বিশেষ আদালতের বিচারক আবু জাফর মো. নোমান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিতরা হলেন- মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার সৈয়দ মোহাম্মদ নাসিম, দলনেতা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, দলনেত্রী শাহানারা বেগম, শাহীদা বেগম ও দলনেত্রী তাসলিমা বেগম।

রায় ঘোষণার সময় সৈয়দ মোহাম্মদ নাসিম আদালতে উপস্থিত থাকলেও বাকি চারজন পলাতক ছিলেন। আদালত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ফিল্ড অফিসার সৈয়দ মোহাম্মদ নাসিমকে পৃথক দুই ধারায় দুই বছর ও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এছাড়া মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শাহানারা বেগম ও তাসলিমা বেগমকে দুই বছর করে কারাদণ্ড এবং ৮০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। শাহীদা বেগমকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের প্রত্যেককে আরও দুই মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, দণ্ডিতরা ১৯৯৯ থেকে ২০০৭ সালের ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এসময় তারা জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে কার্যালয়ের ঘূর্ণায়মান তহবিল থেকে ৪ লাখ ৬০ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাৎ করেন।

এ ঘটনায় ২০০৯ সালের ২৯ জানুয়ারি দুদক বরিশাল জেলা কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. আব্দুর রহিম জোয়ারদার বাদী হয়ে মামলা করেন। একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে মো. আব্দুর রহিম জোয়ারদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন।

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল  :  ঝালকাঠি
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (পুর) মো. খাইরুল ইসলামকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে তলবের পরও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট
মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা অবকাঠামো
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, সরকারি
অর্থ আত্মসাৎ, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারসাজি এবং নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে তাকে দুদকের
প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার
জন্য নোটিশ পাঠানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, জেলার বিভিন্ন শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজে
নির্ধারিত মান বজায় না রেখে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন না হলেও বিল
উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে,
যার ফলে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ব্যবস্থা
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে
অঘোষিত কমিশন এবং প্রভাব বিস্তারের
সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এতে সৎ ঠিকাদাররা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং
নিম্নমানের কাজের ঝুঁকি বাড়ছে।

এদিকে, জেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
শিক্ষক ও অভিভাবকরাও নির্মাণ কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, নতুন ভবনের কিছু অংশে ফাটল, প্লাস্টার খসে পড়া এবং নিম্নমানের উপকরণ
ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি নিয়ম মেনেই সব কাজ করেছি। দুদকের তলবের বিষয়ে আমি অবগত আছি
এবং নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেব।”
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর সংশ্লিষ্ট একটি
সূত্র জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থাও
নেওয়া হতে পারে।

দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন,
তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। প্রয়োজনে মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনও করা হবে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই অনিয়মের
বিষয়টি উঠে আসে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে শিক্ষা
প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর ২০২১ সালের আগস্ট মাসে ৫৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রথম কয়েকজনের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের
মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই অনিয়মের সঙ্গে সরকারি কর্ম
কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক
“সৈয়দ আবেদ আলী” নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। পিএসসিতে চাকরি নিজেই নিয়েছিলেন
জালিয়াতি (ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার) করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায়
পিএসসির থেকে চাকরি হারান এবং কারাগারে ছিলেন, এখন জামিনে আছেন।

অনুসন্ধানে “আবেদ আলীর” হাতে নিয়োগ
পাওয়া একাধিক প্রার্থীর সরাসরি যোগাযোগ
ও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ তুলে ধরা হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে কয়েকজন মোটা
অঙ্কের টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি ও ব্যাংক লেনদেনের
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২২ সালে সম্পন্ন হওয়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী
প্রকৌশলী (পুর) পদে সরকারি কর্ম কমিশনের
সরাসরি নন-ক্যাডার নিয়োগ পরীক্ষায়
মেধাতালিকার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়সহ
অন্তত চারজন প্রার্থীর সঙ্গে আবেদ আলীর
আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এই চার কর্মকর্তার মধ্যে অন্যতম হলেন,
ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের
সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলাম।

 

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলামকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়োগ ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুতে বিভিন্ন
গণমাধ্যম ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর নাম
জড়িয়ে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে।

প্রধান অনিয়ম ও অভিযোগসমূহ নিম্নরূপ:

নিয়োগে অস্বচ্ছতা: ২০২৬ সালের
জানুয়ারিতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে
সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে যে, নির্ধারিত যোগ্যতা ও
মেধা তালিকার তোয়াক্কা না করে আর্থিক
লেনদেন বা রাজনৈতিক প্রভাবে অনেককে
নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ: মো. খাইরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন প্রকৌশলীর
বিরুদ্ধে নিয়োগ ও পদায়নকে কেন্দ্র করে
অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

বিভাগীয় ও দুদকের নজরদারি: শিক্ষা
প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কেনাকাটা ও নির্মাণ কাজে অনিয়মের
অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
অনুসন্ধান চালাচ্ছে। অনেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা ও চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

অযোগ্যদের নিয়োগের অভিযোগ: সাধারণ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল যে, যারা
সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের অনেকেরই প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা বা যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম নিয়ে
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল-২৪ এর
অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘সার্চলাইট’-এ বিস্তারিত
তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বর্তমান অবস্থা:

মো. খাইরুল ইসলামের নামে এসব অভিযোগে জড়িয়েছে।

অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও এসব অনিয়মে পরোক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে

 

বর্তমান অবস্থা

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিয়োগ দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মো. খাইরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

সম্পদ বিবরণী নোটিশ:

মো. খাইরুল ইসলামকে তাঁর সম্পদের উৎস
ব্যাখ্যা করতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে
সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য প্রাথমিক
নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অভিযোগের ধরণ:

তাঁর বিরুদ্ধে মূলত ২০২১ সালের নিয়োগ
পরীক্ষায় জালিয়াতি এবং পরবর্তী সময়ে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সম্পদ গড়ার
অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে
যুক্ত স্থানীয় নাগরিকরা বলছেন, শিক্ষা খাতের
উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম দেশের
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে
দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি
জানিয়েছেন।

তবে এখনো পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে তার
বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—দুদকের তলবের পরও কীভাবে তিনি বহাল
তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন? তদন্তের
অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন
সবার নজর।

জনমনে প্রশ্ন

স্থানীয় সুশাসনকর্মীরা বলছেন, শিক্ষা খাতে
এমন অনিয়ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের প্রশ্ন—দুদকের তলবের পরও কীভাবে অভিযুক্ত
কর্মকর্তা দায়িত্বে বহাল থাকেন?

 

 

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক //
বরিশাল নগরীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে ডেকে নিয়ে এক যুবকের ওপর পরিকল্পিত ও নৃশংস হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক আসামি, কিশোর গ্যাংয়ের লিডার কালা সজীব ওরফে টোকাই সজীবকে শনিবার আটক করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নগরীর শাহ পরান সড়কের বাসিন্দা মোঃ সুমন আহম্মেদ তার ছেলে জান আহম্মেদের ওপর হামলার অভিযোগে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের সঙ্গে জান আহম্মেদের বিরোধ চলছিল।

গত ১৫ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেওয়া হয় জান আহম্মেদকে। পরে কোতোয়ালী থানাধীন বিসিসি ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পরস সাগর মাঠের উত্তর-পশ্চিম কোণে পৌঁছামাত্রই পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালায়। এসএস পাইপ (রড) দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। হামলায় তার মুখ, নাক ও কানে মারাত্মক আঘাত লাগে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় জান আহম্মেদকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক আসামি কালা সজীব ওরফে টোকাই সজীবকে শনিবার বরিশাল নগরীর গোড়াচাঁদ দাস রোড এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তাকে আটক করেন বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই রবি আহসান।

পুলিশ জানায়, হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

 

আসাদুজ্জামান শেখ //

ঝালকাঠির রাজাপুরে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন ছাত্রদল নেতা মোঃ ফেরদৌস রিপন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার ২নং শুক্তাগড় ইউনিয়নে এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্যাটারি চুরিতে বাধা দেওয়াই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য।

সূত্র জানায়, সন্ধ্যার দিকে বাড়ির কাছেই অবস্থানকালে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে রিপনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তাকে। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। সেখানেও পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তার দুই হাতের একাধিক রগ কেটে গেছে, অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গুরুতর আহত রিপন জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির সঙ্গে জড়িত একটি চক্র সক্রিয়। এর আগেও তিনি চুরি হওয়া ব্যাটারি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের ফেরত দিয়েছিলেন। ঘটনার দিন একই এলাকার তিনটি অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি হলে তিনি অভিযুক্ত মাহমুদের বাড়িতে গিয়ে ব্যাটারি ফেরত চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহমুদ, শহীদ, চয়নসহ কয়েকজন মিলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।

এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ধারণা, চুরি সিন্ডিকেটের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধ বা পূর্ব শত্রুতার জেরেও এ হামলা হতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই কর্মীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন এক কর্মী।

আহত রফিকুল ইসলাম টিপু বরিশাল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত সাগর একই এলাকার বাসিন্দা এবং ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী।

শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নগরীর বরিশাল কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোবাইল সংক্রান্ত একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রথমে দুইজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় অভিযুক্ত সাগর ধারালো অস্ত্র দিয়ে টিপুর ওপর হামলা চালালে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি, তবে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি

 

 

বরগুনার আমতলী উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বিতরণে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বিতরণ কমিটির অনুমোদন ছাড়াই ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত একাধিক ভুয়া ব্যাংক হিসাবে ৯০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। জালিয়াতি শনাক্ত হওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হিসাবগুলোতে থাকা ২৪ লাখ ১১ হাজার টাকার লেনদেন স্থগিত করে। তবে এর আগেই বাকি ৬৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সোনালী ব্যাংকের আমতলী শাখা ও বরগুনা কোর্ট বিল্ডিং শাখার পাশাপাশি বরিশালের চকবাজার ও কলেজ রোড শাখার বিভিন্ন হিসাবে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা জমা হয়। আমতলী উপজেলার বাসিন্দা মো. তোফাজ্জল হোসেন সোনালী ব্যাংকের এই চার শাখায় নিজের নামে এবং স্ত্রী ও বোনের নামে একাধিক ভুয়া ও অননুমোদিত ব্যাংক হিসাব খুলে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে এলে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তোফাজ্জল হোসেন বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তিনি আমতলীর সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ কে এম সামসুদ্দিনের (শানু) ভগ্নিপতি। ৪৭০ নম্বর গেজেট অনুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে তোফাজ্জল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান। তবে স্থানীয় অনেক মুক্তিযোদ্ধার দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বয়স কম থাকায় তিনি যুদ্ধে অংশ নেননি।

নিয়ম অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার পে–রোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার যাচাই শেষে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। পরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বিতরণ কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার কথা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়, আমতলী উপজেলার মো. তোফাজ্জল হোসেনের নামে সোনালী ব্যাংকের আমতলী শাখায় একাধিক হিসাবে এই অর্থ জমা হয়েছে। এর মধ্যে একটি সঞ্চয়ী হিসাব অনুমোদিত হলেও একটি এমডিএস (ডিপিএস) হিসাব, দুটি অননুমোদিত সঞ্চয়ী হিসাব, তাঁর স্ত্রী শাহানারা কাজলের নামে একটি সঞ্চয়ী হিসাব ও তাঁর বোন লুৎফা বেগমের সঞ্চয়ী হিসাবে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার অর্থ জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই সময় শাখাটির ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন বিশ্বনাথ চ্যাটার্জী ও মো. কাওছার মোল্লা। মো. ইউনুস মিয়া নামের এক ব্যক্তির সোনালী ব্যাংকের বরিশাল কলেজ রোড শাখার একটি হিসাবেও মুক্তিযোদ্ধা ভাতার অর্থ জমা হওয়ার তথ্য মিলেছে। জানা গেছে, তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্র জানায়, কয়েকটি হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন ধরা পড়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিশেষ তদন্ত দল বিষয়টি খতিয়ে দেখে। তদন্ত চলাকালে তোফাজ্জল হোসেন লিখিত বক্তব্যে জালিয়াতির বিষয়ে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এক ব্যক্তির সহযোগিতায় এসব লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের নিরীক্ষকদের একটি সূত্র জানায়, আমতলী শাখায় মুক্তিযোদ্ধা ভাতার অর্থ লেনদেনে একাধিক অনিয়ম হয়েছে। যাঁদের নামে ভাতা তোলা হয়েছে, তাঁদের অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা নন। কেউ কেউ ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ভাতা সুবিধা নিয়েছেন। একই সঙ্গে শাখা ব্যবস্থাপকের জিম্মায় থাকা এমআইএস ইউজার আইডির ব্যবহার ও তদারকিতেও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে গাফিলতির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপক বিশ্বনাথ চ্যাটার্জী ও মো. কাওছার মোল্লা।

নিরীক্ষা দলের অনুসন্ধানে উঠে আসে, ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধার নামে ভাতার অর্থ তোলা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৪ জনই ভুয়া বলে শনাক্ত হয়। এসব নামে খোলা ২০টি সঞ্চয়ী হিসাবে ৯০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জমা হয়। এ ছাড়া ফরিদা বেগম, চম্পা ও মোসাম্মৎ রুনু নামে তিনটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রোফাইলের বিপরীতে মোট ২৪ লাখ টাকার ঋণ বিতরণের ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, কয়েকজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার ভাতার অর্থও অন্যের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা জি এম এ মান্নানের ভাতার ৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা তোফাজ্জল হোসেন নিজের নামে, তাঁর স্ত্রী শাহানারা কাজল, বোন তহমিনা ইউনুস ও ফরিদা নামে একজনের হিসাবে জমা করেন। একইভাবে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন তালুকদারের ভাতার ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিজের নামে, বোন লুৎফা বেগম ও তহমিনা ইউনুস নামে একজনের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম তালুকদারের ভাতার ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খালেদা বেগম ও তহমিনা ইউনুসের হিসাবে এবং মুক্তিযোদ্ধা গাজী মো. জালাল উদ্দীনের ভাতার ২ লাখ ১২ হাজার টাকা মো. ইউনুস মিয়ার হিসাবে জমা করে পরে তা তুলে নেওয়া হয়েছে। মোহাম্মদ আব্দুস সালাম নামে একটি ভুয়া প্রোফাইল খুলে তাঁর ভাতার ৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা তোফাজ্জল হোসেন নিজের নামে, তাঁর স্ত্রী শাহানারা কাজল, হাসিনুর রহমান, খালেদা বেগম ও ইউনুস মিয়ার ব্যাংক হিসাবে জমা করে তুলে নেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে তোফাজ্জল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে তাঁর স্ত্রী শাহানারা কাজল বলেন, তাঁর স্বামী মুক্তিযোদ্ধা নন এবং কোনো ভাতা গ্রহণ করেন না। তাঁর দাবি, ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা তাঁর স্বামীর কাছ থেকে হিসাব নম্বর নিয়ে অপব্যবহার করেছেন এবং ষড়যন্ত্র করে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমতলীর এক বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘আমরা এত বছর নিয়ম মেনে ভাতা পেয়ে এসেছি। কিন্তু কীভাবে আমাদের ভাতার টাকা অন্যের অ্যাকাউন্টে গেল, তা কল্পনাও করতে পারছি না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘খালেদা বেগম ও তহমিনা ইউনুস নামে কাউকে আমি চিনি না। অথচ আমার ভাতার টাকা কীভাবে তাঁদের হিসাবে গেল, তা বুঝতে পারছি না।’

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন তালুকদারের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম জানান, তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর তোফাজ্জল হোসেন ওয়ারিশ–সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। দীর্ঘদিন ঘোরাঘুরির পর প্রায় সাত থেকে আট মাস পরে তাঁদের হিসাবে ভাতার টাকা আসা শুরু হয়।

সোনালী ব্যাংক আমতলী শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ও বর্তমানে কলাপাড়া শাখায় কর্মরত মোহাম্মদ জুলকার বিন খালেদ বলেন, ২০২৪ সালের শেষ দিকে দৈনন্দিন লেনদেনের রসিদ যাচাইয়ের সময় কয়েকটি হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন নজরে আসে। পরে যাচাই করে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধা ভাতার অর্থ অননুমোদিতভাবে সাতটি হিসাবে জমা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে প্রধান কার্যালয়ের বিশেষ তদন্ত দল বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে।

সোনালী ব্যাংকের বরিশাল অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. মাহমুদুল হক বলেন, আমতলীতে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা উত্তোলনসংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। ব্যাংকের ভিজিল্যান্স ও অডিট দল বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার বলেন, ‘আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি, তাই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। বিষয়টি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

ভোলায় মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকা উল্টে নুরে আলম (৫৫) নামে একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।  শুক্রবার (২০ মার্চ ) ঈদের আগের দিন সকালে জীবিকার তাগিদে মাছ ধরতে গিয়ে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।
জানা যায়, ঘরে খাবার না থাকায় নুরে আলম  ছোট্ট নৌকায় দুই ছেলে শাহিন ও শাকিলকে নিয়ে পাড়ি জমান সাগরমোহনায়। তাঁদের স্বপ্ন ছিল মাছভর্তি জাল নিয়ে ঘরে ফেরা, আর সেই মাছ বিক্রি করে ঈদের বাজার করা। কিন্তু সন্ধ্যার আগেই সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। দক্ষিণের সাগরমোহনায় হঠাৎ শুরু হয় প্রবল ঝড়। মুহূর্তেই উত্তাল হয়ে ওঠে নদী। বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ে নৌকার ওপর—এক নিমেষেই ডুবে যায় সবকিছু। নৌকার নিচে চাপা পড়েন তিনজনই। প্রাণপণ চেষ্টা করে পানির ওপর ভেসে উঠলেও তলিয়ে যায় নৌকা, জাল ও জীবিকার সব সম্বল।

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়ে যান তাঁরা। দুই ছেলে অর্ধমৃত বাবাকে নিয়ে টানা সাঁতরে তীরে ফেরার চেষ্টা করে। উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করতে করতে তারা বাবাকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু প্রকৃতির নির্মমতার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানেন নুরে আলম। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে পড়েন তিনি।
তবু থামেনি সন্তানেরা। বুকভরা কান্না আর অদম্য শক্তি নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা সাঁতরে তারা তীরে পৌঁছায়—বাবাকে ফেলে নয়, বুকে আগলে নিয়েই। তবে জীবিত নয়, লাশ হয়ে ঘরে ফেরেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি।
আজ শনিবার ভোরে চর ফারুকী গ্রামের বাড়িতে যখন নুরে আলমের মরদেহ পৌঁছায়, তখন পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। ঈদের আনন্দের দিনে যখন মানুষ নতুন পোশাকে নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন সেই বাড়িতে চলছিল আহাজারি। নামাজ শেষে জানাজা আদায় করেন গ্রামবাসী।

স্থানীয় মানুষেরা জানান, নুরে আলমের পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। মার্চ-এপ্রিল দুই মাস সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও ঈদের আগে ঘরে খাবার না থাকায় বাধ্য হয়েই গোপনে মাছ ধরতে যান তিনি।

নিহতের ছেলে শাহিন জানান, বিকেলে হঠাৎ ঝড় শুরু হলে তাদের ট্রলার উল্টে যায়। ভাই শাকিল জালের বয়া ধরে বেঁচে যান। পরে বাবাকে নিয়ে সাঁতরে তীরে উঠলেও ততক্ষণে সব শেষ।

দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান কবির জানান, কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার বলেন, জেলে নিবন্ধিত থাকলে পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে। স্থানীয় মানুষেরা পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।