আসাদুজ্জামান শেখঃঃ

রাজনীতিতে পদের চেয়ে বড় পরিচয় হলো জনগণের ভালোবাসা এবং দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য। গত তিনটি মাস আমরা এক ভিন্ন রূপের আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ভাইকে দেখেছি। সংসদ নির্বাচনে নিজে প্রার্থী না হয়েও, দলের স্বার্থে এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনা পালনে তিনি যেভাবে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছেন, তা কেবল একজন আদর্শবান নেতার পক্ষেই সম্ভব। 🌾

নিজের কোনো চাওয়া-পাওয়াকে বড় না করে, সকল প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি বরিশালের অলিগলি চষে বেড়িয়েছেন। তৃণমূলের কর্মীদের সাথে তাঁর এই মিশে যাওয়া, কোনো অহংকার ছাড়া সাধারণ মানুষের সাথে একাত্ম হওয়া এবং একটি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখা—বর্তমান সময়ে বিরল এক দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে তাঁর যে ‘ক্লিন ইমেজ’ বা নিষ্কলঙ্ক রাজনৈতিক জীবন, তা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় গর্বের জায়গা।

বরিশাল একটি বিভাগীয় শহর, আমাদের প্রাণের স্পন্দন। এই শহরের আধুনিকায়ন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য এমন একজন নেতৃত্ব প্রয়োজন যিনি স্মার্ট, আধুনিক চিন্তাচেতনার অধিকারী এবং যাঁর কাছে নগরীর সাধারণ মানুষের সরাসরি প্রবেশাধিকার রয়েছে। একজন মানুষ, যিনি কোনো অনৈতিক কাজে নিজেকে জড়াননি এবং যাঁর ভিশন অত্যন্ত স্বচ্ছ।

আমরা বিশ্বাস করি, দলের সর্বোচ্চ স্বার্থে এবং বরিশালের সামগ্রিক পরিবর্তনের জন্য তাঁর মতো একজন গতিশীল ও শিক্ষিত নেতার বিকল্প নেই। বরিশালের উন্নয়নের যে স্বপ্ন আমরা দেখি, সেই স্বপ্নের সফল রূপকার হওয়ার সবটুকু যোগ্যতা তাঁর মধ্যে বিদ্যমান।

সময় এসেছে বরিশালের তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার এই চমৎকার সমন্বয়কে কাজে লাগানোর। জনগণের দোয়া আর কর্মীদের ভালোবাসাই হোক তাঁর আগামীর পথচলার শক্তি। ইনশাআল্লাহ, বরিশালের এই নতুন পথচলায় আমরা আপনার পাশে আছি।

 

বরিশাল জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি সবুজ আকনের বিরুদ্ধে স্ত্রীর বোনের মেয়েকে (ভাগনি) ধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এজন্য তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে তারা।

বরিশালে স্ত্রীর বোনের কিশোরী মেয়েকে (ভাগনি) ধর্ষণের অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি সবুজ আকনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আদালতের সরকারি নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চলতি সপ্তাহেই চার্জশিট গ্রহণ করা হয়েছে। তবে মামলাটি এখনও বিচারিক ফাইলে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

জানা গেছে, সাবেক ছাত্রদল নেতা সবুজ আকনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলাটি প্রথমে তদন্তের দায়িত্ব পান বরিশাল মেট্রোপলিটনের কাউনিয়া থানার উপ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক গাজী অহিদুল ইসলাম অহিদ।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক গাজী অহিদুল ইসলাম অহিদ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, আসামি সবুজ আকনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সবুজ আকনের স্ত্রী গর্ভবতী থাকাকালে তার সেবাযত্নের জন্য স্ত্রীর বোনের মেয়েকে বাসায় রাখা হয়। সেই সুযোগে সবুজ আকন কিশোরীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। পরে ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট বরিশাল নগরীর এসআর রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ঘটনার কথা কাউকে না বলার জন্য ভুক্তভোগী ও তার মাকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর, ২৬ মে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ ওঠার পর গতবছর ২৫ মে সবুজ আকনকে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতিসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় সংসদ। তবে বহিষ্কারের পরও তিনি ছাত্রদলের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
অভিযুক্ত সবুজ আকন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে করা হয়েছে। আমাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়েও আমি নিশ্চিত নই। খোঁজ নিয়ে দেখব।

 

 

২০১৫ সালে রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষে (রাজউক) সহকারী অথরাইজড অফিসার পদে যোগ দেন পলাশ সিকদার। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বেতন-ভাতা হিসেবে পেয়েছেন ৩৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৪১ টাকা। অথচ বাড়ি-গাড়িসহ কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে তার। এসব সম্পদ তিনি ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। সংস্থাটির উপপরিচালক মানসী বিশ্বাস অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন। দুদক ও রাজউক থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেন, রাজউকের উত্তরা জোনের অথরাইজড অফিসার পলাশ সিকদারের বিরুদ্ধে পৌনে ১ কোটি টাকা মূল্যের হ্যারিয়ার গাড়ি, প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করে গ্রামে ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণসহ আরও অনেক সম্পদ অর্জনের একটি অভিযোগ জমা পড়েছে দুদকে।

সংস্থাটির প্রাথমিক অনুসন্ধানের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরই অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সহকারী পরিচালক মানসী বিশ্বাসকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগের বিষয়ে ২০২৩ সালের ২১ জুন পলাশ সিকদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

দুদকের টেবিলে থাকা অভিযোগে বলা হয়, পলাশ সিকদার ২০১৫ সালে রাজউকের সহকারী অথরাইজড অফিসার হিসেবে যোগ দেন। তিনি সংস্থাটির পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় রাজউকের আওতাধীন এলাকায় বিভিন্ন ভবনের নকশা অনুমোদন দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। তিনি ২০২১ সালে অথরাইজড অফিসার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর রাজউকের উত্তরা জোনে বদলি করা হয়। তিনি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বিসি কমিটির (ভবন নির্মাণসংক্রান্ত অনুমোদন কমিটি) সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।

দুদকের তথ্যমতে, সংস্থাটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে পলাশ সিকদারের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়ার পর তার সম্পদের বিস্তারিত জানতে চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, দেশের সব ব্যাংক, রাজউক, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, পোস্ট অফিস ও রিহ্যাবসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে পলাশ সিকদারের সম্পদ অর্জনের তথ্য বিভিন্ন দপ্তর থেকে দুদকে পাঠানো হয়। এর মধ্যে রাজউক থেকে পাঠানো বেতন-ভাতার হিসাবে বলা হয়েছে, তিনি ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে ২০২২-২৩ পর্যন্ত সময়ে বেতন-ভাতা হিসেবে পেয়েছেন ৩৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৮১ টাকা। অথচ তার কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

দুদকের টেবিলে থাকা অভিযোগে বলা হয়, পলাশ সিকদারের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার পাটিকেলবাড়ী। তার পরিবার ১৯৮৮-৮৯ সালে ভূমিহীন হিসেবে ১০০ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত নিয়েছিল। এখন সেই পরিবার বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক। রাজউকে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর যেসব সম্পদের মালিক হয়েছে পলাশ সিকদারের পরিবার, তার মধ্যে রয়েছে গ্রামের বাড়িতে ২ কোটি টাকা খরচ করে দোতলা বাড়ি নির্মাণ, বাবার নামে ৩৫ লাখ টাকা দিয়ে নেছারাবাদ উপজেলার ব্যাসকাঠি মৌজায় ১ একর ২৫ শতাংশ জমি ক্রয়, মেজো বোন সেলিনা আক্তার রেবুর জন্য ৫০ লাখ দিয়ে দোতলা বাড়ি নির্মাণ, স্ত্রীর ছোট ভাইয়ের নামে বসুন্ধরার এন-ব্লকে পাঁচ কাঠার প্লটে ভবন নির্মাণকাজ শুরু করা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, পলাশ সিকদার যে হ্যারিয়ার গাড়িটি (নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৭-৭৯০২) ব্যবহার করেন, তার মূল্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকা, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) তথ্য বলছে, গাড়িটি তার নিজের নামে কেনা হয়নি, এটি আফসানা মরিয়মের নামে এক নারীর নামে কেনা হয়েছে। পলাশ সিকদারের বাবা নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনকালে প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ করেন। এ ছাড়া তিনি শ^শুরবাড়িতে অনেক সম্পদ কিনেছেন এবং ব্যাংক-ব্যালান্স করেছেন। সব মিলিয়ে তার কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

রাজউক ও দুদকের তথ্যমতে, পলাশ সিকদার রাজউকে নকশা অনুমোদন ও ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের দালালি করতেন। এ ছাড়া তিনি টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ভবনের নকশার অনুমোদন দিতেন। তার বিরুদ্ধে রাজউক চেয়ারম্যানের দপ্তরে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ জমা হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। মন্ত্রণালয় সে অভিযোগের তদন্ত করছে। তদন্তকালে তাকে ওএসডি করা হয়।

এদিকে, পলাশ সিকদারের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দশতলা ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়ার ঘটনায় আরও একটি অভিযোগ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এ অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংস্থাটির একজন উপপরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে গতকাল বিকেলে পলাশ সিকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশাল–৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার বিজয়ী হওয়ায় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাকিব আহমেদ। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরপরই নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সরোয়ারকে শুভেচ্ছা জানান এবং বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

এ সময় সাকিব আহমেদ বলেন, এই বিজয় শুধু একজন প্রার্থীর নয়, এটি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক চেতনার বিজয়। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থেকে রাজনীতি করার ফলেই এডভোকেট সরোয়ার আজ জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে ভোটের দিন পর্যন্ত মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয় ছিলেন বলেও জানান সাকিব। ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে উৎসাহ দেওয়া, নানা জটিলতায় সহায়তা করা এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ছাত্রদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি দাবি করেন।

সাকিব আহমেদ আরও বলেন, তরুণ প্রজন্ম সব সময় গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও ন্যায়ের পক্ষে। বরিশাল–৫ আসনের মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে রায় দিয়েছেন, সেই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বিজয়ী প্রার্থীর নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদানকালে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় সাকিব আহমেদের নেতৃত্বে মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত সাকিব আহমেদ বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানিয়ে আগামী দিনেও বরিশালের মানুষের পাশে থাকবেন তারা। বিজয়ের এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

বরিশাল-৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে বরিশাল মহানগর ছাত্রদল। নির্বাচনে জয়লাভের পর সৌজন্য সাক্ষাতে গিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।

এ সময় ছাত্রদল নেতারা বলেন, এই বিজয় গণমানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন। তারা আশা প্রকাশ করেন, মজিবর রহমান সরোয়ার সংসদে এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

শুভেচ্ছা গ্রহণ করে মজিবর রহমান সরোয়ার নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও সমর্থনই তার শক্তি। সবার সহযোগিতায় বরিশাল-৫ আসনকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী প্রার্থী এডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বরিশাল মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন।

নির্বাচনে বিজয়ের পর সৌজন্য সাক্ষাতে মাসুদ হাসান মামুনের পক্ষ থেকে এ শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা নবনির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধিকে অভিনন্দন জানান এবং আগামী দিনে বরিশালের উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদানকালে যুবদল নেতারা বলেন, জনগণের রায়ে বিজয়ী হওয়ায় এডভোকেট সরোয়ারের প্রতি তাদের আস্থা ও সমর্থন আরও দৃঢ় হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি বরিশাল-৫ আসনের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।

এদিকে শুভেচ্ছা গ্রহণ করে এডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

বরিশালের বাকেরগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খোদ ফ্যাসিস্টের দোসর বাকেরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের বর্তমান আইন বিষয়ক সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ দাসকে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

 

এ ঘটনায় বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জুলাই যোদ্ধারা। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব দেয়ায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ইন্দ্রজিৎ দাস। তিনি উপজেলা রঘুনাথপুর এম এ মালেক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বাকেরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

উপজেলা অডিটরিয়ামে শুক্রবার বিকেলে নির্বাচনের দায়িত্ব পালনে তালিকাভুক্ত প্রিজাইডিং অফিসারদের ট্রেনিংয়ে তাকে ট্রেনিং নিতে দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজ স্বাক্ষরিত প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ তালিকায় ইন্দ্রজিৎ

নাম রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইন্দ্রজিৎ দাসের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজ বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে বরিশাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের সেলফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

 

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আবারও আলোচনায় এসেছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. হাবিবুর রহমানের নাম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তিনি ইউনিয়ন ব্যাংকে কর্মরত থাকাকালে এস আলম গ্রুপের অনুকূলে ২৬০৭ কোটি টাকার অনিয়মিত ঋণ অনুমোদনে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এমন অভিযোগ উঠেছে যে, তার নেতৃত্বে একাধিক ভূয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বিপুল অর্থ পাচার করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন বিভাগ–৭ এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২১-২২ সালে ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপের নামে পরিচালিত প্রায় ৩০টি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে ২৩ কোটি থেকে ১৪৮ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়, যার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ২৬০৭ কোটি টাকা। ঋণগুলো এখন সম্পূর্ণ খেলাপি, আর বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, তৎকালীন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিনিয়োগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মো. হাবিবুর রহমান এসব ঋণ অনুমোদনে “সরাসরি ভূমিকা” রাখেন। ঋণ প্রস্তাবগুলোর অফিস নোটে তার স্বাক্ষর পাওয়া গেছে, যা “প্রধান কার্যালয়ের প্রথম ও শেষ অনুমোদন” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনিয়ন ব্যাংকের অনাদায়ী ঋণের বড় অংশই এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট। ব্যাংকটির আমানতের প্রায় সবটুকুই এভাবে গচ্ছিত ঋণ হিসেবে চলে যাওয়ায় এখন প্রতিষ্ঠানটি প্রায় দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন রিপোর্টেও এই ঋণ দুর্নীতিকে “ব্যাংকের স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চার্জশীটও রয়েছে। ২০০০ সালে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ক্রেডিট বিভাগে দায়িত্বে থাকাকালে তিনি “প্যাট্রিক ফ্যাশনস” নামের এক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ গোপন করে নতুন করে আট কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনের জন্য মিথ্যা তথ্য দেন এমন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, যোগসাজশ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মামলা হয়। মামলাটি বর্তমানে মেট্রো স্পেশাল কোর্টে (মামলা নং ২৭২/২২) বিচারাধীন।

দুদকের মামলায় চার্জশীটভুক্ত আসামি হওয়ার পর ২০২৪ সালে হাইকোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংক কে ৬০ দিনের মধ্যে তার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন (রিট নং ৫২১৭/২০২৪)। এর পরপরই হাবিবুর রহমান স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এমডি পদ থেকে পদত্যাগ করেন, যা বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদনও দেয়।

তবে বিস্ময়ের বিষয়, কিছুদিন পরই বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই তাকে আবারও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এমডি পদে অনুমোদন দেয়, যা ব্যাংক খাতে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ একই মামলায় চার্জশীটভুক্ত অন্য আসামি রবিউল ইসলামকে এনআরবিসি ব্যাংকের এমডি পদে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দেয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ভেতরের একাধিক সূত্র জানায়, পুনঃনিয়োগের পর থেকেই হাবিবুর রহমান “অস্বাভাবিক ক্ষমতার প্রভাব” বিস্তার করেছেন। তিনি কয়েক মাসের মধ্যে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বেআইনি ও অযৌক্তিকভাবে চাকরিচ্যুত করেছেন। অন্যদিকে, ইউনিয়ন ব্যাংকের সময়কার কিছু বিতর্কিত কর্মকর্তাকে তিনি পুনরায় স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হলো ব্যাংকের বর্তমান মানবসম্পদ প্রধান মনসুর আহমেদ এবং প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (CFO) মো. সালাহ উদ্দিন। দুজনই ইউনিয়ন ব্যাংকের বিনিয়োগ কমিটির সদস্য ছিলেন এবং ঐ ভূয়া ঋণ অনুমোদনে ভূমিকা রাখেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ আছে। তাদের তিনজনকেই (হাবিব, মনসুর, সালাহ উদ্দিন) সম্প্রতি দুদক তলব করেছে ইউনিয়ন ব্যাংকের অর্থ পাচার তদন্তে।

বিএফআইইউ (Bangladesh Financial Intelligence Unit) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগনীতির বিপরীতে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে আরও কয়েকটি উচ্চপদে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যেমন, বর্তমান সিএফও সালাহ উদ্দিন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট না হয়েও পদে নিয়োগ পেয়েছেন, যা BRPD সার্কুলার ৩ ও ৪১ অনুযায়ী বাধ্যতামূলক যোগ্যতার লঙ্ঘন। এছাড়া প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মো. আখতারুজ্জামানেরও সুপ্রিম কোর্টে তিন বছরের অভিজ্ঞতা ও বার কাউন্সিল সদস্যপদ নেই তবুও তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

২০২৪ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের BRPD সার্কুলার নং ৫ (ধারা ২(ক)(৮)) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যাংকের পরিদর্শনে কারও বিরুদ্ধে বিরূপ পর্যবেক্ষণ পাওয়া যায়, তিনি কোনো ব্যাংকের এমডি বা সিইও হতে পারবেন না। ফলে ইউনিয়ন ব্যাংক সংক্রান্ত পরিদর্শনে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় তিনি আইনের দৃষ্টিতে এমডি পদের জন্য অযোগ্য, এমন মত দিচ্ছেন ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব হোসেন বলেন, একজন চার্জশীটভুক্ত ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্টে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আবারও এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট তৈরি করে।

অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, হাইকোর্টের আদেশ অনুসারে হাবিবুর রহমানকে অপসারণের নির্দেশ ছিল। পুনরায় নিয়োগের অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হয়েছে, সেটি পর্যালোচনার দাবি রাখে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১–এর ধারা ৪৫ ও ৪৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজন মনে করলে কোনো ব্যাংকের এমডিকে অবিলম্বে অপসারণের ক্ষমতা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিয়ন ব্যাংকের ২৬০৭ কোটি টাকার অনিয়ম, দুদকের মামলায় চার্জশীট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব বিধি এই তিনটির আলোকে হাবিবুর রহমানের বর্তমান পদে থাকা আইনগত ও নৈতিকভাবে টেকসই নয়।

সর্বপরি দেশের ব্যাংকিং খাত ইতিমধ্যেই অনাদায়ী ঋণ ও করপোরেট প্রভাবের কারণে সংকটে। এই প্রেক্ষাপটে একজন চার্জশীটভুক্ত কর্মকর্তা যদি বড় বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ পদে বহাল থাকেন, তবে প্রশ্ন উঠবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা ও আর্থিক খাতের শুদ্ধতা নিয়ে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সময় এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংককে “রাজনৈতিক নয়, নীতিনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত” নিতে না হলে ইউনিয়ন ব্যাংকের মতো আরও একটি ব্যাংক ধ্বংসের পথে যেতে পারে।

 

আসাদুজ্জামান শেখঃ

যে কোন রাষ্ট্রের সুবিধা অসুবিধা তুলে ধরে সমাজকে একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রের পরিণত করেন তারাই হচ্ছে সাংবাদিক। যদি কখনো কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটে তখন প্রথম যে দুটি পক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি হলো প্রশাসন অন্যটি হলো গণমাধ্যম।একজন আইন প্রয়োগ করে আরেকজন সত্য তুলে ধরে।এই দুইয়ের সম্পর্ক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয় দায়িত্বের সংঘাতের নয় সহযোগিতার।সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করেন বলেই রাষ্ট্র জানতে পারে কোথায় অন্যায় হচ্ছে কোথায় আইন ভাঙা হচ্ছে কোথায় মানুষ নির্যাতনের শিকার।

সেই তথ্য প্রচারিত হয় বলেই প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে।বহু বিক্ষোভ আন্দোলন কিংবা জনসমাবেশে আমরা দেখেছি পুলিশ ও সাংবাদিক পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কাজ করছেন।একজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছেন অন্যজন তা নথিবদ্ধ করছেন।কিন্তু আজ যে ভিডিওটি সামনে এসেছে তা এই সহযোগিতার সম্পর্ককে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ভিডিওতে সু-পষ্ট দেখা যাচ্ছে একজন দায়িত্ব পালনরত গণমাধ্যমকর্মীকে পুলিশ সদস্য সরাসরি লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দিচ্ছেন।তিনি কোনো অস্ত্রধারী নন হামলাকারী নন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী নন তিনি একজন সাংবাদিক।তাঁর হাতে ছিল ক্যামেরা অস্ত্র নয়।তাঁর কাজ ছিল সত্য তুলে ধরা রাষ্ট্রকে দুর্বল করা নয়।প্রশ্ন জাগে এই কেমন পুলিশ এই পুলিশ নাকি রাষ্ট্র রক্ষা করবে। রাষ্ট্র কি সেই জায়গায় নিরাপদ যেখানে সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করলেই লাথি খেতে হয়।

রাষ্ট্র কি শক্তিশালী যদি তার রক্ষকরাই তথ্যের শত্রু হয়ে ওঠে।একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা মানে শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয় এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত এটি জনগণের জানার অধিকারের ওপর আঘাত।আজ যদি সাংবাদিক লাথি খায় কাল সাধারণ নাগরিক প্রশ্ন করলেই কি তাকেও লাথি খেতে হবে।

পুলিশের দায়িত্ব জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া আইন প্রয়োগ করা ক্ষমতার অপব্যবহার করা নয়। আর কেউই অন্যায় করলে তাকে গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা করা।একজন সাংবাদিককে মারধর করে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হয় না বরং তা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে পুলিশের পেশাদারিত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।এই ঘটনাকে কোনোভাবেই ভুল বোঝাবুঝি বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।কারণ ভিডিও মিথ্যা বলে না।এখানে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে ক্ষমতার প্রয়োগ নয় ক্ষমতার অপব্যবহার।রাষ্ট্র যদি সত্যিই শক্তিশালী হতে চায় তাহলে তাকে সমালোচনাকে সহ্য করতে শিখতে হবে।

গণমাধ্যমকে ভয় নয় সম্মান করতে হবে।কারণ সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের শত্রু নয় তারা রাষ্ট্রের আয়না।আজ সেই আয়নায় একটি অস্বস্তিকর চিত্র ধরা পড়েছে।এখন প্রশ্ন একটাই এই ঘটনার দায় কে নেবে দোষী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কি আইনগত ব্যবস্থা হবে নাকি আবারও আমরা নীরবতা দিয়ে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেব।রাষ্ট্র রক্ষা মানে শুধু ইউনিফর্ম পরা নয় রাষ্ট্র রক্ষা মানে ন্যায় দায়িত্ববোধ এবং সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা।আর সেই পরীক্ষায় আজ কেউ কেউ ব্যর্থ হয়েছে এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক সত্য।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

দৈনিক বরিশাল সময় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মোঃ ফরিদুল ইসলাম ও সোহাগি বেগমের পুত্র মোঃ সাদমান ইসলামের সুন্নতে খতনা অনুষ্ঠান আজ শুক্রবার বরিশাল নগরীর মোহনা ক্লাবে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পারিবারিক আবহে আয়োজিত হলেও অনুষ্ঠানটি ছিল পরিপাটি ও প্রাণবন্ত, যেখানে শুভানুধ্যায়ী, গণমাধ্যমকর্মী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মিলনমেলায় পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বরিশাল সময় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আনোয়ার হোসেন, দৈনিক আলোকিত বরিশালের সম্পাদক ও প্রকাশক আলাল মিয়া, সাহসী সংবাদের সম্পাদক ও প্রকাশক এস এম মিরাজ, দৈনিক সুন্দরবন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আসাদুজ্জামান, জনকণ্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক তানভীর আহমেদ অভি , দৈনিক ভোরের অঙ্গীকারের সিনিয়র রিপোর্টার শাওন ইসলাম এবং ফটো সাংবাদিক সোহাগসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ।

এ সময় বরিশাল মহানগর ও জেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা পরিবারের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং শিশুটির সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী খতনা সম্পন্ন হওয়ার পর দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় সাদমান ইসলামের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করা হয়। পরে অতিথিদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা ছিল।

অনুষ্ঠানের আয়োজক ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পরিবারের এই আনন্দের মুহূর্তে যারা পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি তিনি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।