বরিশাল-৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে বরিশাল মহানগর ছাত্রদল। নির্বাচনে জয়লাভের পর সৌজন্য সাক্ষাতে গিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।

এ সময় ছাত্রদল নেতারা বলেন, এই বিজয় গণমানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন। তারা আশা প্রকাশ করেন, মজিবর রহমান সরোয়ার সংসদে এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

শুভেচ্ছা গ্রহণ করে মজিবর রহমান সরোয়ার নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও সমর্থনই তার শক্তি। সবার সহযোগিতায় বরিশাল-৫ আসনকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী প্রার্থী এডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বরিশাল মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন।

নির্বাচনে বিজয়ের পর সৌজন্য সাক্ষাতে মাসুদ হাসান মামুনের পক্ষ থেকে এ শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা নবনির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধিকে অভিনন্দন জানান এবং আগামী দিনে বরিশালের উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদানকালে যুবদল নেতারা বলেন, জনগণের রায়ে বিজয়ী হওয়ায় এডভোকেট সরোয়ারের প্রতি তাদের আস্থা ও সমর্থন আরও দৃঢ় হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি বরিশাল-৫ আসনের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।

এদিকে শুভেচ্ছা গ্রহণ করে এডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

বরিশালের বাকেরগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খোদ ফ্যাসিস্টের দোসর বাকেরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের বর্তমান আইন বিষয়ক সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ দাসকে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

 

এ ঘটনায় বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জুলাই যোদ্ধারা। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব দেয়ায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ইন্দ্রজিৎ দাস। তিনি উপজেলা রঘুনাথপুর এম এ মালেক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বাকেরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

উপজেলা অডিটরিয়ামে শুক্রবার বিকেলে নির্বাচনের দায়িত্ব পালনে তালিকাভুক্ত প্রিজাইডিং অফিসারদের ট্রেনিংয়ে তাকে ট্রেনিং নিতে দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজ স্বাক্ষরিত প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ তালিকায় ইন্দ্রজিৎ

নাম রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইন্দ্রজিৎ দাসের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজ বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে বরিশাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের সেলফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

 

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আবারও আলোচনায় এসেছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. হাবিবুর রহমানের নাম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তিনি ইউনিয়ন ব্যাংকে কর্মরত থাকাকালে এস আলম গ্রুপের অনুকূলে ২৬০৭ কোটি টাকার অনিয়মিত ঋণ অনুমোদনে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এমন অভিযোগ উঠেছে যে, তার নেতৃত্বে একাধিক ভূয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বিপুল অর্থ পাচার করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন বিভাগ–৭ এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২১-২২ সালে ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপের নামে পরিচালিত প্রায় ৩০টি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে ২৩ কোটি থেকে ১৪৮ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়, যার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ২৬০৭ কোটি টাকা। ঋণগুলো এখন সম্পূর্ণ খেলাপি, আর বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, তৎকালীন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিনিয়োগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মো. হাবিবুর রহমান এসব ঋণ অনুমোদনে “সরাসরি ভূমিকা” রাখেন। ঋণ প্রস্তাবগুলোর অফিস নোটে তার স্বাক্ষর পাওয়া গেছে, যা “প্রধান কার্যালয়ের প্রথম ও শেষ অনুমোদন” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনিয়ন ব্যাংকের অনাদায়ী ঋণের বড় অংশই এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট। ব্যাংকটির আমানতের প্রায় সবটুকুই এভাবে গচ্ছিত ঋণ হিসেবে চলে যাওয়ায় এখন প্রতিষ্ঠানটি প্রায় দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন রিপোর্টেও এই ঋণ দুর্নীতিকে “ব্যাংকের স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চার্জশীটও রয়েছে। ২০০০ সালে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ক্রেডিট বিভাগে দায়িত্বে থাকাকালে তিনি “প্যাট্রিক ফ্যাশনস” নামের এক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ গোপন করে নতুন করে আট কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনের জন্য মিথ্যা তথ্য দেন এমন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, যোগসাজশ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মামলা হয়। মামলাটি বর্তমানে মেট্রো স্পেশাল কোর্টে (মামলা নং ২৭২/২২) বিচারাধীন।

দুদকের মামলায় চার্জশীটভুক্ত আসামি হওয়ার পর ২০২৪ সালে হাইকোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংক কে ৬০ দিনের মধ্যে তার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন (রিট নং ৫২১৭/২০২৪)। এর পরপরই হাবিবুর রহমান স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এমডি পদ থেকে পদত্যাগ করেন, যা বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদনও দেয়।

তবে বিস্ময়ের বিষয়, কিছুদিন পরই বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই তাকে আবারও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এমডি পদে অনুমোদন দেয়, যা ব্যাংক খাতে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ একই মামলায় চার্জশীটভুক্ত অন্য আসামি রবিউল ইসলামকে এনআরবিসি ব্যাংকের এমডি পদে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দেয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ভেতরের একাধিক সূত্র জানায়, পুনঃনিয়োগের পর থেকেই হাবিবুর রহমান “অস্বাভাবিক ক্ষমতার প্রভাব” বিস্তার করেছেন। তিনি কয়েক মাসের মধ্যে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বেআইনি ও অযৌক্তিকভাবে চাকরিচ্যুত করেছেন। অন্যদিকে, ইউনিয়ন ব্যাংকের সময়কার কিছু বিতর্কিত কর্মকর্তাকে তিনি পুনরায় স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হলো ব্যাংকের বর্তমান মানবসম্পদ প্রধান মনসুর আহমেদ এবং প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (CFO) মো. সালাহ উদ্দিন। দুজনই ইউনিয়ন ব্যাংকের বিনিয়োগ কমিটির সদস্য ছিলেন এবং ঐ ভূয়া ঋণ অনুমোদনে ভূমিকা রাখেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ আছে। তাদের তিনজনকেই (হাবিব, মনসুর, সালাহ উদ্দিন) সম্প্রতি দুদক তলব করেছে ইউনিয়ন ব্যাংকের অর্থ পাচার তদন্তে।

বিএফআইইউ (Bangladesh Financial Intelligence Unit) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগনীতির বিপরীতে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে আরও কয়েকটি উচ্চপদে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যেমন, বর্তমান সিএফও সালাহ উদ্দিন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট না হয়েও পদে নিয়োগ পেয়েছেন, যা BRPD সার্কুলার ৩ ও ৪১ অনুযায়ী বাধ্যতামূলক যোগ্যতার লঙ্ঘন। এছাড়া প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মো. আখতারুজ্জামানেরও সুপ্রিম কোর্টে তিন বছরের অভিজ্ঞতা ও বার কাউন্সিল সদস্যপদ নেই তবুও তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

২০২৪ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের BRPD সার্কুলার নং ৫ (ধারা ২(ক)(৮)) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যাংকের পরিদর্শনে কারও বিরুদ্ধে বিরূপ পর্যবেক্ষণ পাওয়া যায়, তিনি কোনো ব্যাংকের এমডি বা সিইও হতে পারবেন না। ফলে ইউনিয়ন ব্যাংক সংক্রান্ত পরিদর্শনে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় তিনি আইনের দৃষ্টিতে এমডি পদের জন্য অযোগ্য, এমন মত দিচ্ছেন ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব হোসেন বলেন, একজন চার্জশীটভুক্ত ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্টে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আবারও এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট তৈরি করে।

অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, হাইকোর্টের আদেশ অনুসারে হাবিবুর রহমানকে অপসারণের নির্দেশ ছিল। পুনরায় নিয়োগের অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হয়েছে, সেটি পর্যালোচনার দাবি রাখে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১–এর ধারা ৪৫ ও ৪৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজন মনে করলে কোনো ব্যাংকের এমডিকে অবিলম্বে অপসারণের ক্ষমতা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিয়ন ব্যাংকের ২৬০৭ কোটি টাকার অনিয়ম, দুদকের মামলায় চার্জশীট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব বিধি এই তিনটির আলোকে হাবিবুর রহমানের বর্তমান পদে থাকা আইনগত ও নৈতিকভাবে টেকসই নয়।

সর্বপরি দেশের ব্যাংকিং খাত ইতিমধ্যেই অনাদায়ী ঋণ ও করপোরেট প্রভাবের কারণে সংকটে। এই প্রেক্ষাপটে একজন চার্জশীটভুক্ত কর্মকর্তা যদি বড় বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ পদে বহাল থাকেন, তবে প্রশ্ন উঠবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা ও আর্থিক খাতের শুদ্ধতা নিয়ে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সময় এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংককে “রাজনৈতিক নয়, নীতিনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত” নিতে না হলে ইউনিয়ন ব্যাংকের মতো আরও একটি ব্যাংক ধ্বংসের পথে যেতে পারে।

 

আসাদুজ্জামান শেখঃ

যে কোন রাষ্ট্রের সুবিধা অসুবিধা তুলে ধরে সমাজকে একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রের পরিণত করেন তারাই হচ্ছে সাংবাদিক। যদি কখনো কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটে তখন প্রথম যে দুটি পক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি হলো প্রশাসন অন্যটি হলো গণমাধ্যম।একজন আইন প্রয়োগ করে আরেকজন সত্য তুলে ধরে।এই দুইয়ের সম্পর্ক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয় দায়িত্বের সংঘাতের নয় সহযোগিতার।সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করেন বলেই রাষ্ট্র জানতে পারে কোথায় অন্যায় হচ্ছে কোথায় আইন ভাঙা হচ্ছে কোথায় মানুষ নির্যাতনের শিকার।

সেই তথ্য প্রচারিত হয় বলেই প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে।বহু বিক্ষোভ আন্দোলন কিংবা জনসমাবেশে আমরা দেখেছি পুলিশ ও সাংবাদিক পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কাজ করছেন।একজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছেন অন্যজন তা নথিবদ্ধ করছেন।কিন্তু আজ যে ভিডিওটি সামনে এসেছে তা এই সহযোগিতার সম্পর্ককে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ভিডিওতে সু-পষ্ট দেখা যাচ্ছে একজন দায়িত্ব পালনরত গণমাধ্যমকর্মীকে পুলিশ সদস্য সরাসরি লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দিচ্ছেন।তিনি কোনো অস্ত্রধারী নন হামলাকারী নন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী নন তিনি একজন সাংবাদিক।তাঁর হাতে ছিল ক্যামেরা অস্ত্র নয়।তাঁর কাজ ছিল সত্য তুলে ধরা রাষ্ট্রকে দুর্বল করা নয়।প্রশ্ন জাগে এই কেমন পুলিশ এই পুলিশ নাকি রাষ্ট্র রক্ষা করবে। রাষ্ট্র কি সেই জায়গায় নিরাপদ যেখানে সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করলেই লাথি খেতে হয়।

রাষ্ট্র কি শক্তিশালী যদি তার রক্ষকরাই তথ্যের শত্রু হয়ে ওঠে।একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা মানে শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয় এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত এটি জনগণের জানার অধিকারের ওপর আঘাত।আজ যদি সাংবাদিক লাথি খায় কাল সাধারণ নাগরিক প্রশ্ন করলেই কি তাকেও লাথি খেতে হবে।

পুলিশের দায়িত্ব জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া আইন প্রয়োগ করা ক্ষমতার অপব্যবহার করা নয়। আর কেউই অন্যায় করলে তাকে গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা করা।একজন সাংবাদিককে মারধর করে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হয় না বরং তা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে পুলিশের পেশাদারিত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।এই ঘটনাকে কোনোভাবেই ভুল বোঝাবুঝি বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।কারণ ভিডিও মিথ্যা বলে না।এখানে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে ক্ষমতার প্রয়োগ নয় ক্ষমতার অপব্যবহার।রাষ্ট্র যদি সত্যিই শক্তিশালী হতে চায় তাহলে তাকে সমালোচনাকে সহ্য করতে শিখতে হবে।

গণমাধ্যমকে ভয় নয় সম্মান করতে হবে।কারণ সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের শত্রু নয় তারা রাষ্ট্রের আয়না।আজ সেই আয়নায় একটি অস্বস্তিকর চিত্র ধরা পড়েছে।এখন প্রশ্ন একটাই এই ঘটনার দায় কে নেবে দোষী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কি আইনগত ব্যবস্থা হবে নাকি আবারও আমরা নীরবতা দিয়ে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেব।রাষ্ট্র রক্ষা মানে শুধু ইউনিফর্ম পরা নয় রাষ্ট্র রক্ষা মানে ন্যায় দায়িত্ববোধ এবং সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা।আর সেই পরীক্ষায় আজ কেউ কেউ ব্যর্থ হয়েছে এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক সত্য।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

দৈনিক বরিশাল সময় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মোঃ ফরিদুল ইসলাম ও সোহাগি বেগমের পুত্র মোঃ সাদমান ইসলামের সুন্নতে খতনা অনুষ্ঠান আজ শুক্রবার বরিশাল নগরীর মোহনা ক্লাবে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পারিবারিক আবহে আয়োজিত হলেও অনুষ্ঠানটি ছিল পরিপাটি ও প্রাণবন্ত, যেখানে শুভানুধ্যায়ী, গণমাধ্যমকর্মী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মিলনমেলায় পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বরিশাল সময় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আনোয়ার হোসেন, দৈনিক আলোকিত বরিশালের সম্পাদক ও প্রকাশক আলাল মিয়া, সাহসী সংবাদের সম্পাদক ও প্রকাশক এস এম মিরাজ, দৈনিক সুন্দরবন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আসাদুজ্জামান, জনকণ্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক তানভীর আহমেদ অভি , দৈনিক ভোরের অঙ্গীকারের সিনিয়র রিপোর্টার শাওন ইসলাম এবং ফটো সাংবাদিক সোহাগসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ।

এ সময় বরিশাল মহানগর ও জেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা পরিবারের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং শিশুটির সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী খতনা সম্পন্ন হওয়ার পর দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় সাদমান ইসলামের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করা হয়। পরে অতিথিদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা ছিল।

অনুষ্ঠানের আয়োজক ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পরিবারের এই আনন্দের মুহূর্তে যারা পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি তিনি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) যেন একের পর এক নৈতিক বিপর্যয়ের ল্যাবরেটরিতে পরিণত হয়েছে।সর্বশেষ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে,কারণ,রোগীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়া সেই আলোচিত সিনিয়র স্টাফ নার্স রফিকুল ইসলাম আবারও কর্মস্থলে ফিরেছেন!যে ব্যক্তি চিকিৎসা পেশার ন্যূনতম নৈতিকতা ভেঙে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুখ্যাত হয়েছেন, তাকেই আবার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বসানো হয়েছে,এমন দৃষ্টান্ত শেবাচিমের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

ভাইরাল কেলেঙ্কারি, তবু পুনর্বাসন!

 

কয়েক বছর আগে রফিকুল ইসলামের প্রায় ২০ মিনিটের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে একজন রোগীর সঙ্গে তার অনৈতিক আচরণ দেশজুড়ে তীব্র নিন্দার জন্ম দেয়। বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি নয়,এটি ছিল চিকিৎসা পেশার ওপর সরাসরি আঘাত।

তৎকালীন তদন্তে বেরিয়ে আসে,একাধিক পরকীয়ার অভিযোগ,নিজের স্ত্রী (যিনি নিজেও একজন নার্স) এর ওপর নির্যাতনের তথ্য,এবং শেবাচিমের আওতাধীন আওয়ামী লীগপন্থী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বানাপ) থেকে বহিষ্কারসব মিলিয়ে রফিকুল ছিলেন নৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অযোগ্য,এমনটাই মত দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্টরা।

 

ম্যানেজ বাণিজ্য আর মোটা অঙ্কের প্রশ্ন।

 

অভিযোগ রয়েছে, গত ছয় বছরে,বিভাগীয় মামলা,সাময়িক বরখাস্ত,শাস্তিমূলক বদলি,শেষ পর্যন্ত মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে” ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। অবাক করা বিষয় হলো, সব বাধা পেরিয়ে তিনি আবারও অর্থোপেডিক পুরুষ বিভাগে কর্মরত!এই পুনর্বহাল কি নিছক প্রশাসনিক ভুল!নাকি এর পেছনে রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট,তা নিয়েই এখন তোলপাড়।

 

আতঙ্কে সহকর্মী, অনিরাপদ রোগী

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নার্স ও কর্মচারীর বক্তব্য ভয়ংকর বাস্তবতা তুলে ধরে,যার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর নৈতিক অভিযোগ রয়েছে, তার সঙ্গে ডিউটি করতে আমরা নিরাপদ নই।আজ সে রোগীর সাথে যা করেছে, কাল সহকর্মীর সাথে করবে না,এর নিশ্চয়তা কে দেবে?রোগীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে অনাস্থা হাসপাতাল যেখানে নিরাপত্তার প্রতীক হওয়ার কথা, সেখানে এখন ভয়ের পরিবেশ।

 

বেপরোয়া আচরণ ও ওপেন সিক্রেট বাণিজ্য!

 

হাসপাতালে ফেরার পর রফিকুল আরও বেপরোয়া ও দম্ভী হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ। রোগীদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে নানাভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ এখন শেবাচিমে ওপেন সিক্রেট।প্রশাসনের নীরবতা এই অপকর্মকে আরও উৎসাহিত করছে,এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।

 

প্রশাসনের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই!

 

এর আগে হাসপাতাল পরিচালক বলেছিলেন, প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কিন্তু প্রশ্ন হলো,প্রমাণ থাকার পরও কীভাবে একজন বিতর্কিত ব্যক্তি পুনর্বহাল হন?কার স্বাক্ষরে, কার সুপারিশে এই তুঘলকি সিদ্ধান্ত?

 

বক্তব্য এড়িয়ে যাওয়া,দায় ঝেড়ে ফেলা!

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম কথা বলতে রাজি হননি।বাংলাদেশ নার্স এসোসিয়েশন (বিএনএ), বরিশালের সহ-সভাপতি শাহে আলম বলেন,বিষয়টি স্পর্শকাতর,এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করবো না।

 

শেবাচিমের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এইচ এম মশিউর রহমান জানান, ঘটনাটি তার আগে জানা ছিল না, তবে অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

শেবাচিম কি তবে অপরাধীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে?রোগীদের নিরাপত্তা, হাসপাতালের মর্যাদা আর চিকিৎসা পেশার গরিমা রক্ষায় এখনই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ইতিহাস প্রশাসনকে ক্ষমা করবে না।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ||
কাগজে কলমে উন্নয়ন প্রকল্প, বাস্তবে মাঠে নেই কোনো কাজ। অথচ সরকারি কোষাগার থেকে নির্বিঘ্নে বেরিয়ে গেছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এলজিইডির নামে অনুমোদিত এসব প্রকল্পের অর্থ শেষ পর্যন্ত জমা হয়েছে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী শামীমা আক্তারের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের পাহাড়ে।
দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ভয়াবহ এই অর্থ লুটের চিত্র সামনে এনেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই এক দশকে প্রায় ২৮০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দম্পতির নামে মিলেছে শত শত কোটি টাকার অজানা সম্পদের হদিস।
এই অনিয়ম ও মানিলন্ডারিংয়ের ঘটনায় বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

দুদকের এজাহার বলছে,

মিরাজুল ইসলাম তাঁর মালিকানাধীন ইফতি ইটিসিএল প্রাইভেট লিমিটেড, ইফতি এন্টারপ্রাইজ ও সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করে এলজিইডির একাধিক প্রকল্পের বিল উত্তোলন করেন। কিন্তু এসব প্রকল্পের বাস্তব কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
কাজ ছাড়াই বিল উত্তোলনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে অন্তত দুই হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এটি ছিল সুপরিকল্পিত মানিলন্ডারিংয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ নেটওয়ার্ক।
সম্পদের পাহাড়, আয়ের খাতায় শূন্যতা

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে অবাক করা তথ্য। মিরাজুল ইসলামের নামে রয়েছে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকানসহ বিপুল স্থাবর সম্পদ। পাশাপাশি ব্যাংক আমানত, ব্যবসার মূলধন, কোম্পানির শেয়ার এবং ৯টি বিলাসবহুল গাড়ি মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি।
অন্যদিকে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের হিসাব মাত্র ১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। কোনো দায় বা ঋণের তথ্য না থাকায় প্রায় ৯৯ কোটি টাকার সম্পদকে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে দুদক।
স্ত্রীর হিসাবেও ভয়ংকর গরমিল
মিরাজুল ইসলামের স্ত্রী শামীমা আক্তারও ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তিনি মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। অভিযোগ রয়েছে, তিনিও এলজিইডির প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই সরকারি অর্থ উত্তোলনে যুক্ত ছিলেন।
দুদকের হিসাবে তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। অথচ বৈধ আয়ের উৎস দেখানো হয়েছে মাত্র সাত কোটি ৯০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রায় ২৪ কোটি টাকার সম্পদ সম্পূর্ণভাবে আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।
আরও গুরুতর বিষয় হলো, তাঁর ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণে সরকারি অর্থ সংশ্লিষ্ট অন্তত ১২২ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য মিলেছে, যা মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ক্ষমতার ছায়ায় বেড়ে ওঠা মিরাজ
মিরাজুল ইসলাম পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী এক পারিবারিক বলয়।
তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য মহিউদ্দীন মহারাজের ভাই। রাজনীতিতে বারবার দল বদল করে ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান গড়ে তোলা মহারাজ বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলে প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই মহারাজ পরিবারের একাধিক সদস্য আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
প্রশ্নের মুখে প্রশাসন ও তদারকি ব্যবস্থা
দুদকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো অস্তিত্ব না থাকা, বিপুল অঙ্কের ব্যাংক লেনদেন এবং আয়ের সঙ্গে সম্পদের চরম বৈষম্য একসঙ্গে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এলজিইডির প্রকল্প অনুমোদন, বিল ছাড় ও তদারকি ব্যবস্থার ভূমিকাও গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
মামলার তদন্ত চলছে। অনুসন্ধানের অগ্রগতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

 

 

সূত্র : কালের কন্ঠ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি |
বরিশাল-৫ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যখন মাঠে রাজনীতির উত্তাপ চরমে, ঠিক তখনই বিতর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে সাবেক আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ও আলোচিত ভূমিদস্যু নুরুল ইসলামের বিএনপিতে যোগদান।
ফ্যাসিবাদ পতনের পর আত্মগোপনে থাকা সুবিধাবাদী একটি চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল বিএনপির ভেতর থেকেই। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, যাদের অতীত জুড়ে রয়েছে দখল, হামলা, মামলা আর ভয়ভীতি—তাদেরই এখন বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে নতুন করে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা চলছে।
সম্প্রতি বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান সরোয়ারের হাতে ফুল দিয়ে দলে যোগদান করেন। ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে দেখা দেয় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার অর্থ জোগানদাতা হিসেবেও তার নাম উঠে আসে। সে সময় সিএনবি চৌমাথা এলাকায় হামলার পুরো ব্যয়ভার বহন করেছিলেন নুরুল ইসলাম—এমন অভিযোগ এখনো মুখে মুখে ঘুরছে এলাকাজুড়ে।
ভূমি বাণিজ্যেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে ভয়াবহ অভিযোগ। একাধিক জমির মালিক দাবি করেছেন, বায়না নেওয়ার পর জমি বিক্রি করলেও প্রকৃত মালিকদের টাকা আজও পরিশোধ করা হয়নি। কোথাও আংশিক টাকা দিয়ে বছরের পর বছর মানুষকে ঘুরিয়েছেন তিনি। টাকা চাইলে হামলা-মামলার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, নুরুল ইসলামের কাছে এখনো বহু মানুষের জমির মূল দলিল আটকে রয়েছে। দলিল ফেরত না দিয়ে বরং ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। মানসম্মান ও নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেকেই আজও প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
স্থানীয়দের ভাষায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার ছত্রছায়ায় এমন কোনো অপকর্ম নেই যা নুরুল ইসলাম করেননি। ক্ষমতা যেখানে, সেখানেই অবস্থান—এটাই ছিল তার রাজনৈতিক নীতি। আর এখন সেই একই সুবিধাবাদী কৌশলে বিএনপির ছায়ায় ঢোকার চেষ্টা বলেই মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশাল মহানগর বিএনপির ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে শুরু হয়েছে প্রকাশ্য বিভাজন। অনেক নেতা-কর্মী স্পষ্টভাবে বলছেন, এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলে টানলে আদর্শিক রাজনীতিই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
একজন তৃণমূল নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“নুরুল ইসলামের মতো আরও অনেকে আছে, যারা শুধু সময়ের অপেক্ষায়। সুযোগ পেলেই তারা বিএনপির ঘাড়ে চেপে বসতে চাইবে।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বরিশাল জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা মন্তব্য করে লেখেন,
“এ ধরনের বিতর্কিত লোকজনকে দলে না নেওয়াই উত্তম।”
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার স্পষ্ট অবস্থান জানান। তিনি বলেন,
“আমাদের হাইকমান্ডের নির্দেশ পরিষ্কার—ফ্যাসিবাদী শক্তির কেউ বিএনপির সদস্য হতে পারবে না। যাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তিনি মহানগর বিএনপির কেউ নন এবং তার যোগদান দলীয় সিদ্ধান্ত নয়।”
সব মিলিয়ে নুরুল ইসলামের এই যোগদান বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির ভেতরের রাজনীতিতে নতুন করে অস্বস্তি, ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখনই লাগাম না টানলে সুযোগসন্ধানীদের এই অনুপ্রবেশ ভবিষ্যতে দলীয় রাজনীতিকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: দূর্নীতির ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বরিশাল বিআরটিএ এর সাবেক সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ-আলমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

 

বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলায় থ্রি হুইলার এবং ১১শ মিনি ট্রাক ভূয়া রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করেন সাবেক সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ-আলম।

আজ ২৬ জানুয়ারী এ আদেশ দেন মহানগর দায়রা জজ আদালত। অবৈধ যান বাহন রেজিষ্ট্রেশন প্রদান ও অবৈধ সম্পদ অর্জন কারায় গত বছর একটি মামলা দায়ের করে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

অভিযোগ রয়েছে তৎকালীন সহকারী পরিচালক শাহ-আলম প্রায় ১২শ অবৈধ গাড়ির লাইসেন্স অনুমোদন দিয়েছেন।শাহ আলমের মতো চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী থেকে শুরু করে বড় কর্মকর্তারাও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে দুর্নীতির আঁখড়া বানিয়েছেন বিআরটিএকে।

গত ৮ বছরে শাহ-আলমের বিরুদ্ধে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুরে বছরে বিআরটিএতে প্রায় ২০কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ  অভিযোগে পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায় ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বরিশাল বিআরটিএর দায়িত্বে ছিলেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা শাহ-আলম।

এর পূর্বে পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে দায়িত্বে থেকে প্রায় ৯থেকে ১হাজার অবৈধ গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে ২২ সালে বরিশাল বিআরটিএতে যোগদান করেই মার্চে ৪টি (এপ্রিলে ২টি), (মে ৫টি),(জানুয়ারি মাসে ২১টি),(জুলাই মাসে ৪৫টি), (অক্টোবর মাসে১০টি) অর্থাৎ ২২সালের মার্চ হইতে অক্টোবর পর্যন্ত অবৈধ ২৫৫টি গাড়ি অসংগতিপূর্ণভাবে রেজিষ্ট্রেশন করেন।

এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে শাহআলমের অর্পকর্মের বিরুদ্ধে উপ পরিচালক (প্রশাসন) ঢাকা তিনি গত ২৯/১১/২০২২সালে, ৩৫,০৩,০০০০,০০১,২৭,০২২৭ স্বারক নাম্বারে ৩ জনের একটি কমিটি করে ১৫ দিনের ভিতর তদন্ত প্রতিবেদক জমা দিতে আদেশে উল্লেখ করেন। তবে অবৈধ আয়ের পথ বন্ধ করেননি শাহ-আলম।

এদিকে ভূয়া রেজিষ্ট্রেশনকৃত ২৫৫টি গাড়ির তদন্ত চলাকালীন সময় তিনি পূনরায় আবার ২২সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর বরিশাল-ন-১১-০৭২০, বরিশাল-ন-১১-০৭৪৮,  নাম্বারসহ প্রায় ৮৯টি অবৈধ গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন  প্রদান করেন।

যার প্রতিটি রেজিষ্ট্রেশন মালিকের ঠিকানা চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এবং রেজিষ্ট্রেশনকৃত গাড়ির মালিক ওই বিভাগের স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোটার। যা বিআরটিএর আইন ও অফিস আদেশ অমান্য করে মোটা অংকের বিনিময় এসব রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছেন বরিশাল বিআরটিএর দুর্নীতিবাজ সাবেক সহকারী পরিচালক শাহআলম।

 

উল্লেখ্য অবৈধভাবে যান বাহন রেজিষ্ট্রেশন করার অপরাধে দুদকের করা মামলায় শাহ-আলম উচ্চ আদালত থেকে জামিন ছিলেন। তবে আজ সেই মামলা থেকে শাহ-আলম স্থায়ীভাবে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ প্রদান করেন।