ঝালকাঠির নলছিটিতে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বর্তমানে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব রুম্পা সিকদারকে শাস্তি দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

লঘুদণ্ড হিসেবে তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, রুম্পা সিকদার ২০১৯ সালের ৮ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নলছিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

তার দায়িত্বকালেই আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরের তৃতীয় পর্যায়ে মোট ৩০২টি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর মধ্যে মাটিভাঙ্গা (চর ষাটপাকিয়া) এলাকায় ১২৮টি ঘর নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে পরবর্তীতে নতুন ইউএনও মো. নজরুল ইসলামের সরেজমিন পরিদর্শনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। দেখা যায়, বরাদ্দ পাওয়া ১২৮টি ঘরের মধ্যে ৫৫টি ঘরের কোনো নির্মাণকাজই হয়নি।

এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অনির্মিত ঘরগুলো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে ঘরপ্রতি ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা হিসেবে এবং পরিবহন ব্যয়সহ মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় রুম্পা সিকদার অনির্মিত ঘরগুলোর বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। বরং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রস্তাবে পুরো অর্থের চেকে স্বাক্ষর করেন। পাশাপাশি ‘গৃহ প্রদান নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি।

তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, ঘর নির্মাণের অর্থ রুম্পা সিকদার ও বিজন কৃষ্ণ খরাতীর যৌথ স্বাক্ষরে উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে ৫৫টি ঘরের কাজ সম্পন্ন হয়নি। এমনকি বদলির সময় তিনি এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য দাপ্তরিক নথিতে লিপিবদ্ধ করেননি।

এসব কারণে তার প্রশাসনিক দক্ষতার ঘাটতি ও দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। পরে সব দিক বিবেচনায় এনে তাকে দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল :  দেশের অন্যতম গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) বরিশাল অঞ্চলের  উপ-পরিচালক মোঃ নিজামুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি,দালালি, ক্ষমতার অপব্যবহার, পদোন্নতি, প্রশাসনিক ক্ষমতা ,অর্থের অপব্যবহার ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পিডিবিএফ‑এর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা‑কর্মচারীরা তার দুর্নীতি ও অনিয়মে অতিষ্ঠ।

পিডিবিএফের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, নিজামুল হক এক আত্মীয়ের প্রভাব ব্যবহার করে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন অভিযোগগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি বদলি, পদায়ন এবং পদোন্নতির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন, কিন্তু এখনো বদলি বা পদোন্নতি প্রদান করা হয়নি।

 

নিজামুল হকের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: 

 পিডিবিএফ‑এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আত্মীয়ের প্রভাবে তিনি নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন। প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আর্থিক ক্ষেত্রেও অনিয়োমের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ সমস্ত বিষয়ে অনেক অভিযোগ নিজামুল হকের বিরুদ্ধে রয়েছে।  একাধিক লিখিত অভিযোগ প্রধান কার্যালয়ে রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। কিন্তু তার আত্মীয় থাকার কারণে এই অভিযোগের কোন সুরাহা হয়নি এখন পর্যন্ত।

এছাড়া  নিজামুল হকের বিরুদ্ধে –

১. দালালি, বদলি ও নিয়োগ‑সংক্রান্ত অভিযোগ

পিডিবিএফ‑এর কর্মকর্তারা জানান যে, নিজামুল হক বিভিন্ন কর্মকর্তা ও  কর্মচারীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেয়ার মাধ্যমে বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি  পিরোজপুর অঞ্চলের পিডিবিএফ কর্মচারী নাসিমা বেগম, রুমু‑দে, তুনু রানি বিশ্বাস, মন্নান হোসেন, নার্গিস আক্তার, জাহিদ হোসেন, মিলেশ নন্দী বরিশাল  অঞ্চলের সেলিনা বেগম, রিতা রানী, ইয়াকুব হোসেনসহ আরো ৩ জনের কাছ থেকে বদলীর জন্য লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এদের দাবি, বদলির নামে একদিকে টাকা নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে আশ্বস্ত করা হয়েছে দ্রুত বদলি বা পদোন্নতি প্রদান করা হবে। অথচ এখনো তাদের বদলী করা হয়নি।টাকাও ফেরৎ দেয়নি নিজামুল হক।

২. পুরাতন মালামাল বিক্রয় ও অর্থের অপব্যবহার

অভিযোগে বলা হয়, পিডিবিএফ‑এর বরিশাল অঞ্চলের উপ পরিচালকের  অফিসে থাকা পুরাতন মালামাল নিয়ম মেনে বিক্রয়ের বদলে তা থেকে অর্জিত অর্থ ব্যক্তিগত ব্যবহারে ও অস্বচ্ছভাবে ব্যক্তিগতকরণ করা হয়েছে। কর্মচারীদের বক্তব্য, টাকা ব্যয় সংক্রান্ত ভাউচার দেখিয়ে তা অফিস খাতের ব্যয়ের মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।বিভিন্ন সময়ে পুরাতন মালামাল বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন । অফিসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা বলে মোটা অংকের ভাউচার দেখিয়ে সেগুলোকে তিনি আত্মসাৎ করেছেন।

৩. ঋণ ও সম্পত্তি বিরোধ

এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন যে ২০১৮‑১৯ অর্থবছরে সাতক্ষীরা কর্মরত অবস্থায় তার সহকর্মীর কাছ থেকে অফিসের মাধ্যমে নেয়া ঋণে নিজামুল হকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ক্রয় করা হয়। সেই টাকা এখনো পরিশোধ হয়নি, এবং ঋণ সংক্রান্ত দলিলপত্র ও ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব সম্পর্কেও প্রশ্ন উঠেছে।

৪. ব্যাঙ্ক লেনদেন ও সন্দেহজনক অর্থপ্রাপ্তি

অভিযোগ অনুযায়ী, বানারীপাড়া সোনালী ব্যাংক হিসাব নম্বর ০৫০৭৮২০১০১৮৩০ থেকে চেক নং ৮৭৩১৪০৮‑এর মাধ্যমে ১,২০,০০০ টাকার বিনিময়ে বদলী করা হয়েছে।
যাদের দু’জনকে স্বরূপকাঠি ও গৌরনদীর উপজেলায় পদায়ন করেন বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।

৫. প্রশাসনিক ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য

কর্মকর্তারা বলেন, উপ-পরিচালক কর্মকর্তাদের হয়রানি করেন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে
নিজের ব্যক্তিগত কাজে অফিস সময় ও সম্পদ ব্যবহার করেন। এসব আচরণের ফলে অফিসের কর্মপরিবেশে ‘ভয়ের পরিবেশ’ সৃষ্টি হয়েছে এবং কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

পিডিবিএফ পরিচালনা পর্ষদের কাছে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ: 

পিডিবিএফ‑এর বরিশাল অঞ্চলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবী:

স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে
অভিযোগকারীদের সঙ্গে নিরাপদ সাক্ষাৎকার গ্রহণ,
সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক লেনদেন, হিসাব ও ভাউচার যাচাই‑বাছাই,
প্রশাসনিক শক্তির অপব্যবহার ও অনিয়মের দায়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ।

তারা মনে করেন, প্রমাণ‑ভিত্তিক তদন্ত হলে “যে কেউ হোক, যদি দোষী প্রমাণিত হন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত”।

উপ-পরিচালক নিজামুল হকের প্রতিক্রিয়া

এ ব্যাপারে নিজামুল হক অভিযোগগুলো  অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি সব নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করি। এই অভিযোগগুলো ভুল তথ্যভিত্তিক ও অসত্য”

তবে তিনি কোনো প্রমাণ তুলে ধরতে পারেননি।

কর্মকর্তারা বলেন, “ভয়ের পরিবেশের কারণে কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন দেশের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এর অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয় এবং উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো প্রভাবিত হয়। তাই নিজামুল হকের বিরুদ্ধে  অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা দরকার বলে মনে করেন পিডিবিএফ বরিশাল অঞ্চলের সাধারন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমানের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য সামনে এসেছে। মাসিক বেতন মাত্র ৬০ হাজার টাকা হলেও তিনি গড়ে তুলেছেন প্রায় ৭০ কোটির সম্পদের বিশাল সাম্রাজ্য—এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, মিজানের নামে-বেনামে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট এবং জমি রয়েছে। এছাড়া ব্যাংক হিসাবেও রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ঠিকাদারি কাজ থেকে কমিশন নেওয়া, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি এই সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।দুদক ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। প্রাথমিক যাচাইয়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার সম্পদের হিসাব চাওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে তার ঘনিষ্ঠদের নামেও থাকা সম্পদ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এ বিষয়ে ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের এ ধরনের অনিয়ম রোধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর শাস্তির বিকল্প নেই।

 

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের পশ্চিম চরামদ্দি গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে হামলা ও ভাংচুর চালিয়ে ৫ জন নারীসহ ৬ জনকে পিটিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হলেও এখনো পুলিশ একজন আসামিকেও গ্রেফতার করেনি। আহত ময়না বেগম (৪০), খুকু বেগম (৩৫), রেশমি বেগম (২৮) ও মিথিলা বেগম (১৯) রক্তাক্ত জখম হলে চিকিৎসার জন্য তাদেরকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া হেলাল খান (৪৮) ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগম (৪০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলার পশ্চিম চরামদ্দি গ্রামে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৮ টার সময় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত মোঃ হেলাল উদ্দিন খান বাদী হয়ে ১২-১৩ জনকে আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-৩৩।

মামলা সুত্রে জানা যায়, উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের পশ্চিম চরামদ্দি গ্রামের মোঃ হেলাল খানের সাথে জমিজমার ভাগ বটন নিয়া একই বাড়ীর মোঃ জহিরুল ইসলাম লিটন খানের বিরোধ চলছে। উক্ত বিরোধকে কেন্দ্র করিয়া আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম লিটন খান, জাহাঙ্গীর হোসেন খান ও আব্দুল্লাহ খানের নেতৃত্বে ১২-১৩ জন বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টার সময় পরিকল্পিতভাবে হাতে দা, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে হেলাল উদ্দিনের বসতবাড়ীতে অনধিকার প্রবেশ করে তার শালিকা রেশমি বেগমকে অতর্কিতভাবে কিল ঘুষি লাথি মারিয়া ফুলা জখম করে। ওই সময় তার ডাক চিৎকার শুনিয়া ময়না বেগম, খুকু বেগম, মিথিলা বেগম এগিয়ে এলে খুনের উদ্দেশ্যে তাদেরকে দা দিয়ে কোপ দেয়। এতে ৩ জনের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়।

আহত মোঃ হেলাল উদ্দিন খান জানান, স্বাধীনতা দিবসের দিন তার স্বাধীনতা খর্ব করে আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে ১০-১২ জন তাকে ও তার স্ত্রী খাদিজাকে মারধর করে। ওইদিন তিনি থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে ওই সুযোগে সন্ত্রাসীরা তার মেয়ে ও শালিকাসহ আরও ৪ জনকে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না। উল্টো পুলিশের সহযোগিতায় আসামিরা তাদেরকে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং তাদেরকে গুম খুন করবে বলে ভয়ভীতি দেখায়। তিনি ও তার পরিবার এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার কে এম সোহেল রানা বলেন, চরামদ্দি গ্রামে মারামারির ঘটনায় থানায় একটি মামলা রেকর্ড হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ঝালকাঠির উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল কর্তৃক নির্ধারিত ১২৩ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান পলাশ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনিয়মভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন নিবন্ধন ফি ১২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী ২৭৫ টাকা ফি নেওয়া শুরু করলে, সংশোধিত নির্দেশনা ৫ ফেব্রুয়ারি পাওয়ার পরও তারা পূর্বের হারেই অর্থ আদায় অব্যাহত রাখে। এতে অভিভাবকরা প্রায় দ্বিগুণের বেশি টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

অভিভাবক লিটন হোসেন বলেন, বোর্ড নির্ধারিত ফি ১২৩ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায় এবং আমাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান পলাশ জানান, প্রথমে যে নির্দেশনাটি পেয়েছিলাম সেখানে ২৭৫ টাকা ফি উল্লেখ ছিল। পরবর্তীতে সংশোধিত চিঠিটি আমরা পাঁচ দিন পরে দেখেছি। তাই আগের নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমরা সমন্বয় করে টাকা ফেরত দিয়ে দিবো। তবে কেন পাঁচ দিন পরে চিঠি দেখলেন, তা নিয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, অভিযোগ এসেছে, তাই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। বোর্ডের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা প্রশাসনিক দায়িত্ব। নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। সভায় উপস্থাপন করে অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুদ রাখার অভিযোগে হান্নান হাওলাদার নামে এক ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তার বাড়ি থেকে ৫৮০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়।

বুধবার(১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে  উপজেলার লোহালিয়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার তামান্না।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে নিজ বাড়িতে অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ করে রেখেছিলেন ওই ব্যবসায়ী। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
এ সময় হান্নান হাওলাদারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি তার ঘর থেকে উদ্ধার করা ৫৮০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত তেল সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানাগেছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার তামান্না জানান, জনস্বার্থবিরোধী এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে মজুদদারদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

অভিযানকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর সাথে  বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

 

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ২০১৫ সালে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। হাসানাত আবদুল্লাহ হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ আজ মঙ্গলবার সকালে এই অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আজ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মো.আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর মো.সহিদুল ইসলাম সরদার।

এই মামলার চার আসামির মধ্যে দুজন বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো.জসিম উদ্দিন কারাগারে আছেন। আর পলাতক আছেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ভুক্তভোগী দুজন হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে হাসানাত আবদুল্লাহ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই দুজনকে হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করেন। হাসানাত আবদুল্লাহ ও এহসানউল্লাহ তাঁদের অধস্তন পুলিশ সদস্যদের দিয়ে ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী–গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করে।

 

বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানগুলোতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বাণিজ্য চলছে। এসব অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে প্রভাবশালী একটি মহল বছরে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাদের সরাসরি সম্পর্ক থাকায় বিদ্যুৎ বিভাগ তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর বেলস পার্ক, বধ্যভূমি এলাকার কীর্তনখোলা নদীর তীর, সিঅ্যান্ডবি রোডের চৌমাথার লেকপাড়, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল, রূপাতলীর চৌমাথা, ফজলুল হক অ্যাভিনিউ এবং নগর ভবনের সামনের ফুটপাত ও সড়কে প্রায় এক হাজার অস্থায়ী দোকান রয়েছে। এসব দোকানে চার হাজারের বেশি অবৈধ বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার হচ্ছে।

দোকানিরা জানিয়েছেন, প্রতিটি দোকানে দুই থেকে তিনটি সকেট ব্যবহার করা হচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী দুই হাজার সকেটের মাধ্যমে কমপক্ষে ২০ হাজার বাতি জ্বালানো হচ্ছে। প্রতি সকেট থেকে ২০ টাকা হারে দৈনিক ৪০ হাজার টাকা, মাসে ১২ লাখ এবং বছরে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকার আয় হচ্ছে।

ওজোপাডিকোর বরিশাল বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্র-১-এর কর্মকর্তারা জানান, এসব এলাকায় ২০ হাজার বাতি ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারে কমপক্ষে প্রতিদিন ৪০ হাজার কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হওয়ার কথা। প্রতি এক হাজার কিলোওয়াটের জন্য এক ইউনিট বিদ্যুৎ বিল আসে। সেই হিসাবে চার হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হলে বাণিজ্যিক মিটারের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১৫ দশমিক ৬২ টাকা হারে দৈনিক প্রায় ৬২ হাজার ৪৮০ টাকা। মাসে বিল দাঁড়ায় ১৯ লাখ ৬৮ হাজার ১২০ টাকা এবং বছরে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৪৫ হাজার ৪৬০ টাকা।

নগরের ফুটপাত ও অস্থায়ী দোকানগুলোর অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কোনো হিসাব বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে নেই। ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এসব দোকান এবং বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তাই রাজনৈতিক ঝামেলা এড়াতে বিদ্যুৎ বিভাগ তেমন উদ্যোগী হচ্ছে না।

দোকানিরা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সড়কঘেঁষা এলাকায় অস্থায়ী দোকানের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। আগে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিদ্যুৎ বিল নিতেন, বর্তমানে তা নিচ্ছেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা। নামমাত্র কয়েকটি বাণিজ্যিক মিটার থাকলেও অধিকাংশই অচল। বিদ্যুৎ সরবরাহ নেওয়া হচ্ছে সিটি করপোরেশনের সড়কবাতি বা বিদ্যুৎ বিভাগের মূল লাইন থেকে অবৈধভাবে।

সরেজমিনে বিবির পুকুরপাড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সোহেল চত্বরের পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে চারটি মিটার রয়েছে। তবে এর মধ্যে দুটি অচল। আশপাশের দোকানিরা জানান, মিটার ব্যবহার না করেই পাশের একটি ভবন থেকে সড়কবাতির লাইনের মাধ্যমে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।

বেলস পার্ক এলাকার দোকানিরা জানান, কীভাবে সংযোগ দেওয়া হয় তা তারা জানেন না। তবে এলাকার প্রায় দুই শতাধিক দোকান থেকে প্রতিটি সকেটের জন্য ২০ টাকা করে নেওয়া হয়।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ দত্ত বলেছেন, ‘দোকানিরা বিদ্যুৎ বিলের নামে টাকা আদায় করে নিজের পকেট ভরছেন। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অসাধু ব্যক্তিরা বিতরণ সংস্থার কিছু অসাধু সদস্যের সহায়তায় মিটার ট্যাম্পারিং করে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। ফলে একদিকে বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে, অন্যদিকে সিস্টেম লসের বোঝা নিয়মিত গ্রাহকের ওপর চাপানো হচ্ছে।’

রনজিৎ দত্ত বলেন, ‘যদি দোকানগুলো বৈধ সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বছরে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারবে।’

ওজোপাডিকোর বরিশাল বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার বলেন, ‘সাইড লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ অবৈধ। একটি মিটার থেকে একাধিক সংযোগও আইনবিরুদ্ধ। আমরা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযান শুরু করব। এ ক্ষেত্রে সব মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

 

সরকারি অর্থ আত্মসাতের দায়ে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি দণ্ডিতদের বিভিন্ন অঙ্কে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বরিশাল বিভাগীয় বিশেষ আদালতের বিচারক আবু জাফর মো. নোমান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিতরা হলেন- মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার সৈয়দ মোহাম্মদ নাসিম, দলনেতা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, দলনেত্রী শাহানারা বেগম, শাহীদা বেগম ও দলনেত্রী তাসলিমা বেগম।

রায় ঘোষণার সময় সৈয়দ মোহাম্মদ নাসিম আদালতে উপস্থিত থাকলেও বাকি চারজন পলাতক ছিলেন। আদালত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ফিল্ড অফিসার সৈয়দ মোহাম্মদ নাসিমকে পৃথক দুই ধারায় দুই বছর ও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এছাড়া মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শাহানারা বেগম ও তাসলিমা বেগমকে দুই বছর করে কারাদণ্ড এবং ৮০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। শাহীদা বেগমকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের প্রত্যেককে আরও দুই মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, দণ্ডিতরা ১৯৯৯ থেকে ২০০৭ সালের ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এসময় তারা জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে কার্যালয়ের ঘূর্ণায়মান তহবিল থেকে ৪ লাখ ৬০ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাৎ করেন।

এ ঘটনায় ২০০৯ সালের ২৯ জানুয়ারি দুদক বরিশাল জেলা কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. আব্দুর রহিম জোয়ারদার বাদী হয়ে মামলা করেন। একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে মো. আব্দুর রহিম জোয়ারদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন।

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল  :  ঝালকাঠি
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (পুর) মো. খাইরুল ইসলামকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে তলবের পরও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট
মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা অবকাঠামো
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, সরকারি
অর্থ আত্মসাৎ, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারসাজি এবং নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে তাকে দুদকের
প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার
জন্য নোটিশ পাঠানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, জেলার বিভিন্ন শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজে
নির্ধারিত মান বজায় না রেখে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন না হলেও বিল
উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে,
যার ফলে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ব্যবস্থা
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে
অঘোষিত কমিশন এবং প্রভাব বিস্তারের
সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এতে সৎ ঠিকাদাররা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং
নিম্নমানের কাজের ঝুঁকি বাড়ছে।

এদিকে, জেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
শিক্ষক ও অভিভাবকরাও নির্মাণ কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, নতুন ভবনের কিছু অংশে ফাটল, প্লাস্টার খসে পড়া এবং নিম্নমানের উপকরণ
ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি নিয়ম মেনেই সব কাজ করেছি। দুদকের তলবের বিষয়ে আমি অবগত আছি
এবং নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেব।”
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর সংশ্লিষ্ট একটি
সূত্র জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থাও
নেওয়া হতে পারে।

দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন,
তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। প্রয়োজনে মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনও করা হবে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই অনিয়মের
বিষয়টি উঠে আসে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে শিক্ষা
প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর ২০২১ সালের আগস্ট মাসে ৫৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রথম কয়েকজনের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের
মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই অনিয়মের সঙ্গে সরকারি কর্ম
কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক
“সৈয়দ আবেদ আলী” নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। পিএসসিতে চাকরি নিজেই নিয়েছিলেন
জালিয়াতি (ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার) করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায়
পিএসসির থেকে চাকরি হারান এবং কারাগারে ছিলেন, এখন জামিনে আছেন।

অনুসন্ধানে “আবেদ আলীর” হাতে নিয়োগ
পাওয়া একাধিক প্রার্থীর সরাসরি যোগাযোগ
ও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ তুলে ধরা হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে কয়েকজন মোটা
অঙ্কের টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি ও ব্যাংক লেনদেনের
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২২ সালে সম্পন্ন হওয়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী
প্রকৌশলী (পুর) পদে সরকারি কর্ম কমিশনের
সরাসরি নন-ক্যাডার নিয়োগ পরীক্ষায়
মেধাতালিকার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়সহ
অন্তত চারজন প্রার্থীর সঙ্গে আবেদ আলীর
আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এই চার কর্মকর্তার মধ্যে অন্যতম হলেন,
ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের
সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলাম।

 

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলামকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়োগ ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুতে বিভিন্ন
গণমাধ্যম ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর নাম
জড়িয়ে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে।

প্রধান অনিয়ম ও অভিযোগসমূহ নিম্নরূপ:

নিয়োগে অস্বচ্ছতা: ২০২৬ সালের
জানুয়ারিতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে
সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে যে, নির্ধারিত যোগ্যতা ও
মেধা তালিকার তোয়াক্কা না করে আর্থিক
লেনদেন বা রাজনৈতিক প্রভাবে অনেককে
নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ: মো. খাইরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন প্রকৌশলীর
বিরুদ্ধে নিয়োগ ও পদায়নকে কেন্দ্র করে
অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

বিভাগীয় ও দুদকের নজরদারি: শিক্ষা
প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কেনাকাটা ও নির্মাণ কাজে অনিয়মের
অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
অনুসন্ধান চালাচ্ছে। অনেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা ও চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

অযোগ্যদের নিয়োগের অভিযোগ: সাধারণ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল যে, যারা
সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের অনেকেরই প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা বা যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম নিয়ে
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল-২৪ এর
অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘সার্চলাইট’-এ বিস্তারিত
তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বর্তমান অবস্থা:

মো. খাইরুল ইসলামের নামে এসব অভিযোগে জড়িয়েছে।

অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও এসব অনিয়মে পরোক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে

 

বর্তমান অবস্থা

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিয়োগ দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মো. খাইরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

সম্পদ বিবরণী নোটিশ:

মো. খাইরুল ইসলামকে তাঁর সম্পদের উৎস
ব্যাখ্যা করতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে
সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য প্রাথমিক
নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অভিযোগের ধরণ:

তাঁর বিরুদ্ধে মূলত ২০২১ সালের নিয়োগ
পরীক্ষায় জালিয়াতি এবং পরবর্তী সময়ে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সম্পদ গড়ার
অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে
যুক্ত স্থানীয় নাগরিকরা বলছেন, শিক্ষা খাতের
উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম দেশের
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে
দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি
জানিয়েছেন।

তবে এখনো পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে তার
বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—দুদকের তলবের পরও কীভাবে তিনি বহাল
তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন? তদন্তের
অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন
সবার নজর।

জনমনে প্রশ্ন

স্থানীয় সুশাসনকর্মীরা বলছেন, শিক্ষা খাতে
এমন অনিয়ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের প্রশ্ন—দুদকের তলবের পরও কীভাবে অভিযুক্ত
কর্মকর্তা দায়িত্বে বহাল থাকেন?