নিরীহ মানুষকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানোসহ থানায় এনে নির্যাতনের অভিযোগে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম বাদলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী।

মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে শফিকুল ইসলাম নামে ওই ভুক্তভোগী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার তুষখালী এলাকার একাধিক মামলার আসামি ও চার নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ছগির মিয়া এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম আসছেন।

ছগিরের মাধ্যমে ওসি বাদল তাকেসহ (শফিকুল) এলাকার অসংখ্য নিরীহ ব্যক্তিদের মোটা অংকের টাকার জন্য বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে হয়রানি করে আসছেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ২১ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ওসি বাদল পুলিশ দিয়ে আমাকে থানায় ধরে নিয়ে যান।

থানায় গিয়ে আমার নামে কি অভিযোগ আছে জানতে চাইলে ওসি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আমি কেন ছগিরের কথা শুনি না। পরবর্তীতে আমাকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি।
বিনা কারণে আমি টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে ওসি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। আমি নিরূপায় হয়ে বাড়িতে কল দিলে আমার স্ত্রী সালমা বেগম বাসা থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে থানায় এসে আমার কাছে দেন।
সেই টাকা থেকে ওসির রুমে বসে এসআই পলাশ চন্দ্র রায়কে তিন হাজার টাকা দেই। ওইদিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ছগির ও শামীম ওসির রুমে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে ওসির সামনে বসে ছগির আমাকে মারধর করেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমাকে থানা হাজতে রাখা হয়। এরপর ছগিরের নির্দেশে উপজেলার ছোট মাছুয়া গ্রামের তাসলিমা বেগমকে বাদী বানিয়ে মারামারির একটি মিথ্যা মামলায় আমাকে আসামি বানিয়ে পরের দিন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই মামলায় আমি ২০ দিন কারাভোগের পর জামিনে বের হওয়ার পর পুরো ঘটনার বিচার চেয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছগির ও থানার ওসি পুনরায় আমাকে মামলায় জড়ানোর হুমকি অব্যাহত রেখেছেন।
এ ব্যাপারে ওসি নুরুল ইসলাম বাদল বাংলানিউজকে বলেন, ঘুষ দাবির বিষয়টি সঠিক নয়। অভিযোগকারী শফিকুল ইসলামের সঙ্গে থানায় বসে ছগির সমঝোতার একপর্যায়ে ছগিরকে মারধর করতে তেড়ে এলে আমি নির্বৃত্ত করেছি।

মঠবাড়িয়ায় উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ছগির মিয়া বলেন, শফিকুলের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। আমি তাকে মারধর করিনি। ইতিপূর্বে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা থাকলেও বর্তমানে সব মামলা সমাধান হয়ে গেছে।

 

পিরোজপুর প্রতিনিধি ॥ পিরোজপুরের কাউখালীতে ইয়াবা ও গাঁজাসহ এক কারারক্ষীকে গ্রেফতার করেছে পিরোজপুর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার বিকেলে ডিবি পুলিশের একটি দল উপজেলার দক্ষিণ শিয়ালকাঠী গ্রাম থেকে মো. জাহিদুল ইসলাম (৪৩) নামের ওই কারারক্ষীকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

এ সময় ঘরে রক্ষিত ২০০টি ইয়াবা পিল ও ৬০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। জাহিদুল দক্ষিণ শিয়ালকাঠী গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে। পূর্বে মাদক সম্পৃক্ততার কারণে জাহিদুলকে বরগুনা জেলা কারাগার থেকে সাময়িক বরখাস্থ করা হয়েছিল।

গ্রেফতারকৃত জাহিদুলের বিরুদ্ধে বরিশাল ও ঝালকাঠিতে ৩টি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানান ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন। মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কাউখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করবে বলে জানিয়েছেন দেলোয়ার।

বরগুনা জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কারারক্ষী মো. জাহিদুল ইসলাম এর নামে বরিশালে দু’টি এবং ঝালকাঠিতে একটি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলার কারণে তিনি সাময়িক বরখাস্থ রয়েছেন। বরখাস্ত থাকাকালীন সময়ে তিনি বরগুনা জেলা কারাগারে সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এরপর গত শনিবার ঝালকাঠির আদালতে বিচারাধীন মামলাটিতে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তিনি বরগুনা থেকে ছুটি নিয়ে ঝালকাঠি যান।

কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বণি আমিন জানিয়েছেন, জাহিদুলকে ডিবি গ্রেফতার করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।

 

বরগুনার পাথরঘাটায় কোষ্ট গার্ডের হাতে বেলাল হোসেন (২০) নামে এক মাদক কারবারিকে ২০১ পিস ইয়াবা সহ আটক করা হয়েছে।

সোমবার রাত ১১টার দিকে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য ঘাট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ২০১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

আটক বেলাল হোসেন উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রামের কবির হাওলাদারের ছেলে।এসময় মাদক কারবারির কাজে ব্যবহৃত একটি মটর সাইকেল জব্দ করা হয়। জানা যায় বেলাল হোসেন বিএফডিসি ঘাটের পাইকার সাফায়েত হোসেনের অফিস সহকারী।

কোস্ট গার্ড স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট ফাহিম শাহরিয়ার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি পাথরঘাটা মৎস্য বন্দর এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদী পথে মাদক এনে পাথরঘাটা পৌরশহর সহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতো।

এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে অভিযান চালিয়ে বেলাল হোসেন নামের একজনকে ২০১ পিস ইয়াবা সহ আটক করা হয়। বেলালের মৎস্য ব্যাবসার আড়ালে ইয়াবা বিক্রি ও সংরক্ষণ করা ছিল মুল কাজ।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুল বাশার জানান, আটক বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে থানায় হস্তান্তর করে কোষ্টগার্ড। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে।

 

ভোলার দৌলতখান উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী বেঁড়িবাধ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ কুখ্যাত ডাকাত ফজুল বাহিনীর প্রধান ফজুলকে (২৮) আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন।

সোমবার রাত ২ টায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। ফজলু জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলাধীন হাসের নগর গ্রামের হাফেজ মাঝির ছেলে।

অভিযান চলাকালে ফজলু বাহিনীর অন্যান্য ডাকাত সদস্যরা কোস্ট গার্ডকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে কোস্ট গার্ড আত্মরক্ষার্থে পাল্টা ০৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির এক পর্যায়ে ফজলু বাহিনীর প্রধান ফজুলকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় একটি দেশীয় সুটার গান, সাত পিস ইয়াবা, একটি দেশীয় দা, একটি দেশীয় কাঁচি, একটি দেশীয় চাকু ও একটি হাতুড়িসহ তাকে আটক করা হয়।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের ভোলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা লে. এস এম তাহসিন রহমান জানান, ডাকাতির প্রস্তুতি চলছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা দৌলতখান উপজেলাধীন মেঘনা নদীর তীরবর্তী বেঁড়িবাধ এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করি।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের আওতাধীন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তার পাশাপাশি জলদস্যু ও ডাকাতি দমনে নিয়মিত অভিযান চলমান আছে।

পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে

 

মনিরুল ইসলাম (৩৮) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের মৌলভীপাড়া ব্রিজে এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ কর্মকর্তা জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত আছেন।

পুলিশ জানায়, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ফকির কান্দি ও হরিদাশপুর গ্রামের সঙ্গে মৌলভীপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার জেরে রাতে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ ।

এসময় মনিরুল ইসলামকে মৌলভীপাড়া ব্রিজের ওপরে একা পেয়ে এলোপাতারি কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. খাইরুল আলমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে দ্রুত তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ঘটনা তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীতে যাত্রীবাহী বিআরটিসি-বিএমএফ ও প্রাইভেটকারের ত্রিমূখী সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৩ জন। এ ঘটনায় মহাসড়কে তিন কিলোমিটার জুড়ে তীব্র জানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে গাইনেরপাড় নামক এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

তাৎক্ষনিকভাবে খবর পেয়ে গৌরনদী হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর আহতদের শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে, দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ী মহাসড়ক থেকে অপসারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে গৌরনদী হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

 

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন, আমি পরিচিত মানুষ। আমার চেহারা সারা বাংলাদেশের মানুষ চেনেন। আমি তো আর পালিয়ে যাব না। আমাকে বললে আমি নিজেই থানায় হাজির হয়ে যাব।

শনিবার সন্ধ্যায় বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র সাদিক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসায় সংঘর্ষের ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেছেন।

জনসাধার‌ণের দু‌র্ভোগ লাঘ‌বে আন্দোলন বন্ধ ক‌রে প‌রিচ্ছন্নতাকর্মী‌দের কা‌জে ফি‌রে যে‌তে নি‌র্দেশ দিয়েছেন বরিশালের এ সিটি মেয়র। এ সময় মামলার নামে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের হয়রানি না করার জন্য প্রশাস‌নের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

সংবাদ স‌ম্মেল‌নে মেয়র, সেই রাতের আংশিক নয়, পুরো ভিডিও প্রকাশ করার দাবি জানান। ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যা আগে থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। গত তিন বছরে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রজেক্টের বরাদ্দ পাননি বলেও জানান মেয়র। তবে নগর ভবনের নিজস্ব ফান্ডে উন্নয়ন কাজ চালাচ্ছেন বলে দাবি তার।

মেয়র বলেন, আমি যদি কোনো অন্যায় করি তাহলে প্রধানমন্ত্রী যে ব্যবস্থা নেবেন তাই মাথা পেতে নেব। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

 

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে তার নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের গুলিতে দুই আওয়ামী লীগ নেতার চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। তারা বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন মুলদী পৌরসভার মেয়র শফিকুজ্জামান রুবেল।

শনিবার (২১ আগস্ট) বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত বিভাগীয় পৌর মেয়রদের সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

শফিকুজ্জামান রুবেল বলেন, বুধবার (১৮ আগস্ট) দিনগত রাত সাড়ে ৯টায় বরিশাল সদরের ইউএনওর বাসভবনে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে ব্যানার অপসারণ করতে গেলে তিনি (ইউএনও) তাতে বাঁধা দেন।

এ নিয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের সঙ্গে বিরোধ দেখা দিলে ২৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনির এবং মহানগর যুবলীগ নেতা তানভীর সেখানে যান। এ সময় ইউএনওর নির্দেশে আনসার সদস্যরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করলে মনিরুল ইসলাম ও তানভীরের চোখে গুলি লাগে।
তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২১ আগস্ট) দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন উভয়ের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ঘটনার সঠিক বিচার চেয়ে তিনি বলেন, যারা অকারণে গুলি করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অন্ধ করে দিয়েছেন তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

 

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসায় হামলার অভিযোগে বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মমিন উদ্দিন ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর সাদাপোশাকে থাকা ব্যক্তিরা বাড়ি থেকে তাঁকে তুলে নেন বলে স্বজনেরা অভিযোগ করেন। তখন বরিশাল কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করা হলে পুলিশ গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করেনি। তবে আজ শনিবার দুপুরে পুলিশ তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে।

মমিনের শ্যালক আরিফুর রহমান গতকাল রাতে অভিযোগ করেন, নগরের রূপাতলী এলাকার বাড়ি থেকে সন্ধ্যার পর মমিন উদ্দিনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে সাদাপোশাকধারী ব্যক্তিরা ধরে নিয়ে যান। পরে কোতোয়ালি থানায় খোঁজ নিলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানে না বলে পরিবারকে জানায়।

আজ বেলা একটার দিকে মমিন উদ্দীনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, গতকাল রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বুধবার ঘটনার রাতে ও পরের দিন ১৩ জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ অভিযানে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এই মামলায় ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

বুধবার বরিশাল সদরের ইউএনওর সরকারি বাড়ির সামনের হামলা-সংঘর্ষের ঘটনার সময় বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহামুদ ওরফে বাবু ও ব‌রিশাল জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শাহ‌রিয়ার ওরফে বাবুকে আটক করা হয়েছিল।

 

উপজেলা পরিষদ চত্বরে বুধবার রাতে ব্যানার খোলাকে কেন্দ্র করে ইউএনওর বাসভবনে হামলার অভিযোগে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর গুলি ছোড়েন আনসার সদস্যরা।

এ ঘটনায় পুলিশ ও ইউএনও মুনিবুর রহমান বাদী হয়ে আলাদা দুটি মামলা করেন। মামলায় মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে প্রধান আসামি করা হয়।

 

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘কাউকে আওয়ামী লীগ করতে দেবে না, প্রশাসনের লোকজন সেই প্রক্রিয়া নিয়েছে।’ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে তাকে এ কথা বলতে দেখা যায়।

তিনি বলেন, ‘আমি তো আগেই বলেছি, ইঙ্গিত দিয়েছি যে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছে তারা। গুলি হইছে, আমাদের নেতা-কর্মীরা আহত হইছে। তাদের চিকিৎসা করাতে ঢাকা শহরে যাইতে দিচ্ছে না। মানে কোন পরিস্থিতিতে আছি, এটা কেমন কথা। যারা আহত হইছে তাদের গ্রেফতার করে রাখছে। আমরা পুরো ঘটনার সঠিক তদন্ত চাই। আমি অপরাধী হয়ে থাকলে, আমাদের নেতা-কর্মীরা অপরাধী হয়ে থাকলে এখানে থাকার কোনো অধিকার আমার নেই। আমি রেজিগনেশন লেটার দিয়ে দেব। অপমান-অপদস্তের তো একটা সীমা আছে।’

ওই ভিডিওতে মেয়র আরো বলেন, ‘আমাকে তো অপদস্ত করে না, করে আওয়ামী লীগকে, করে সরকারকে। আমি প্রথম থেকেই বলছি এটি ষড়যন্ত্র, ষড়যন্ত্র, ষড়যন্ত্র। আমি সিটি করপোরেশনের একজন মেয়র। কিন্তু সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন মিলে কী করছে বুঝলাম না। মেয়র মানে কী? এটা মেয়রের ক্ষমতার কোনো বিষয়ও না। তারা গুলি করলে আমরা পাল্টা গুলি করবো এটাই মনে হয় চাইছিল। অথবা তারা যা করছে তাতে আমরা কেন মিছিল করি না, প্রতিবাদ সভা করি না এটাও চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকার তো আমাদের সরকার, নৌকা মার্কার সরকার, শেখ হাসিনার সরকার। আমি এখানে নাড়া দিলে পরে ক্ষতি ওনাদের হবে না, ক্ষতি হবে আমার দলের। দলের ক্ষতি করার আগে আমার সরাসরি রিজাইন দিয়ে চলে যাওয়া ভালো।’
এ দিকে গত বুধবার থানা কাউন্সিলে সংঘটিত ঘটনায় পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়ের করা দু’টি মামলাকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, তিনি ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন। ঘটনার পরের দিন বরিশালে আসেন। অথচ তিনি একটি মামলার ৮ নম্বর আসামি। এছাড়া মৃত এক ব্যক্তিও মামলার আসামি হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, ইউএনও মো: মুনিবুর রহমানের দায়ের করা মামলায় যে ২৮ জনকে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে, তাদের নাম-ঠিকানা, বাবার নাম এমনভাবে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যেন বাদি তাদের প্রত্যেকের পূর্ব পরিচিত। এ ছাড়া ইউএনওর বাসভবনে সিসি ক্যামেরার যে ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ভাইরাল করা হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট কয়েক মিনিটের। কিন্তু ঘটনা তো কয়েক ঘণ্টার। আবার সেই কয়েক মিনিটের ফুটেজে শুধু আনসারদেরই সরাসরি গুলি করতেই দেখা গেছে। ছত্রভঙ্গ করতে কোনো ফাঁকা গুলি করার বিষয় নেই, যেটা পুলিশ করে। আর যারা থানা কাউন্সিলে গিয়েছিল তারা তো নিরস্ত্রই ছিল। কিন্তু মামলায় বলা হয়েছে ‘মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র’ ছিল। আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি বুধবার রাতের এ ঘটনার পেছনে বিশেষ কোনো পক্ষ রয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো: ইউনুস বলেন, নিয়মিত রুটিন ওয়ার্কের কাজ হিসেবে সেদিন উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়েছিল বিসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আমরা এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম জাহাঙ্গীর বলেন, ওই রাতে ইউএনওর বাসভবনে কেউ হামলা করেনি। রাতে বিভাগীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় আমিও ছিলাম। হামলা হলে ইউএনওর বাসভবনের একটি জানালার গ্লাসও ভাঙতো না? আবার যে গেট ভাঙার কথা হচ্ছে সেটি কোথায়? সব গেটই তো ঠিকই দেখেছি। ইউএনও নিজেই এর সাথে জড়িয়েছেন। নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্র ব্যবহার করে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছেন।