বরগুনায় মায়ের কাছে চিঠি লিখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সামিরা (১৪) নামের এক কিশোরী। সোমবার (০৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজ রোডের ভাড়া বাসার বাথরুম থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে জামাল হোসেনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা ।

নিহতের মা সুমী বেগম জানান, সামিরা তার প্রথম স্বামী রফিকের সন্তান এবং অস্টম শ্রেণির ছাত্রী। সুমী তার বর্তমান স্বামী রাশেদের অন্য সন্তানদের সঙ্গে নিয়েই পৌরসভার কলেজ রোডে আবুল বাশারের বাসায় ভাড়া থাকেন। আবুল বাশারের ছেলে জামাল হোসেন স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও কিশোরী সামিরাকে উত্ত্যক্ত করতেন। একাধিকবার সামিরাকে শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করেন তিনি।

গত কয়েকদিন ধরে সামিরা ও জামালকে জড়িয়ে প্রতিবেশীরা অনৈতিক সম্পর্কের কথা বলাবলি করছিল। গতকাল রোববার রাতে বাসার মালিক আবুল বাশারকে ফোন করে তার ছেলের কর্মকাণ্ডের কথা জানান সুমী বেগম। আবুল বাশার গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরে এসে জামালকে শাসন করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। জামালের সঙ্গে সামিয়ার কোনো ‘অনৈতিক সম্পর্ক’ নেই, এ কথা তার মা ছাড়া অন্য কেউ মেনে নিচ্ছিলেন না। মা ছাড়া সবাই সামিরাকে গালমন্দ করছিল। আত্মহত্যার আগে সামিরা তার মায়ের কাছে চিঠি লিখে রেখে যায়।

ওই চিঠিতে লেখা রয়েছে, ‘মা, আমার নামে তারা যে বদনাম উঠিয়েছে, তাতে আমি এ পৃথিবীতে থাকতে পারছি না। আমি একটা খারাপ মেয়ে। আমি নাকি খুব খারাপ। মা তুমি ভালো থেকো। আমাকে কেউ বিশ্বাস করে না। কেউ না তুমি ছাড়া। ইতি তোমার সামিরা।’

এ বিষয়ে বরগুনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, জামালকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করা হয়েছে। সামিরার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

 

কঠোর লকডাউনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় গত ৫ দিনে বরিশাল জেলায় ৫৮৮ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার ৪৫০ টাকা। বরিশাল মহানগর এবং জেলার ১০টি উপজেলায় এই অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। বরিশাল জেলা প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সোমবার রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়- লকডাউনের পঞ্চম দিনে সোমবার (০৫ জুলাই) জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের নেতৃত্বে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৮৯টি অভিযান পরিচালনা হয়। এ সময় ৮৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারার পৃথক মামলায় ৭৫ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে বরিশাল মহানগরে ৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে ৪৬ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অপরাধে ৩০ হাজার ৩৫০ টাকা জরিমানা আদায় করেন। পাশাপাশি জেলার ১০টি উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করেন ৯ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)। তারা ৪৩ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পৃথক মামলায় ৪৪ হাজার ৯৫০ টাকার জরিমানা আদায় করেন।

এর আগে রোববার (০৪ জুলাই) জেলায় ২১টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১৫০টি মামলায় ১৫০ জনকে ২ লাখ ২৫ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগে ৩ জুলাই লকডাউনের তৃতীয় দিনে বরিশালে ২১টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১৮০টি মামলায় ১৮০ জনকে ৩ লাখ ২২ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করা হয়। ২ জুলাই লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে বরিশালে ২০টি অভিযানে ১১১ মামলায় ১১৩ জনকে ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৫০ টাকা জরিমানা করা হয়। ১ জুলাই লকডাউনের প্রথম দিনে ২০টি অভিযানে ৫৬টি মামলায় ৫৬ জনকে ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। বরিশাল নগর এবং জেলার সব কটি উপজেলায় লকডাউন কার্যকর করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। এ অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।’

 

রিমান্ডে নিয়ে হত্যা মামলার নারী আসামি মিনতি বিশ্বাস ওরফে মিতু অধিকারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বরিশালের উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ তথ্য বরিশালটাইমসকে মুঠোফোনে নিশ্চিত করেন ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান।‍

এদিকে সোমবার (০৫ জুলাই) আদালতের নির্দেশনা অনুসারে নির্যাতিতা নারী বাদী হয়ে প্রত্যাহার হওয়া দুই কর্মকর্তাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ‍মামলা দায়ের করেছেন।

সোমবার দুপুর ১টায় প্রত্যাহারকৃত ওসি হলেন- জিয়াউল আহসান এবং পরিদর্শক (তদন্ত) মাইনুল ইসলাম। পরিদর্শক ওই নারী আসামির মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন।

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান বরিশালটাইমসকে বলেন, দায়িত্বে অবহেলায় ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে বরিশাল পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। একইসাথে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও দায়ের করা হবে।

তিনি ‍আরও বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে নির্যাতিতা নারীর বর্ণনা অনুযায়ী প্রত্যাহারকৃত দুই কর্মকর্তাসহ নির্যাতিতা নারী মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। তবে অপর ৩ জনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। এ কারণে গঠিত তদন্ত কমিটির দেয়া রিপোর্ট অনুসারে অপর ৩ জনকে শনাক্ত করে তাদেরও এই মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এদিকে আদালতের নির্দেশে রোববার দুপুরে শের ই বাংল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম সাইফুল ইসলাম চিকিৎসাকালীন সময় আসামি মিতুর শারীরিক অবস্থার প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। ওই প্রতিবেদনে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত ২৬ জুন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জামবাড়ি এলাকা থেকে বাসুদেব চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার ভাই বরুন চক্রবর্তী ওইদিনই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামি করা হয় মিতুকে; যার সাথে তার ভাইয়ের পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো বলে দাবি করেন বরুন।

এই মামলার আসামি হিসেবে ওইদিন সেই মিতুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। থানা পুলিশের ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৩০ জুন বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উজিরপুর আমলী আদালত নারী আসামির ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গত ২ জুলাই ওই নারীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ।

এ সময় তাকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটতে দেখে এর কারণ জানতে চান আদালত। ওই নারী আদালতের কাছে তাকে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন পুলিশের বিরুদ্ধে। আদালত একজন নারী কনস্টেবল দিয়ে তার দেহ পরীক্ষা করে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা পান।

 বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ||
পটুয়াখালীর বাউফলে সালিশ বৈঠকে এক কিশোরীকে বিয়ে করে সমালোচিত সেই ইউপি চেয়ারম্যানের বডিগার্ড কাম-গাড়ির ড্রাইভার রুবেলের হাতে পিস্তলের ছবি ভাইরাল হয়েছে। আর এই পিস্তলের উৎস নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পিস্তলটি বৈধ নাকি অবৈধ?
জানা গেছে, রুবেল হোসেন ৪ বছর ধরে উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারাম্যান শাহিন হাওলাদারের বডিগার্ড কাম-মোটরসাইকেলের ড্রাইভারের দায়িত্ব পালন করছেন। চেয়ারম্যান যেখানেই যান সেখানেই রুবেলকে সঙ্গে করে নিয়ে যান।
সম্প্রতি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার এক প্রেমিক-প্রেমিকার সালিশ করতে গিয়ে কিশোরীকে পছন্দ হওয়ায় বিয়ে করেন। ৬০ বছর বয়সে এক কিশোরীকে বিয়ে করে তিনি ব্যাপক সমালোচিত হন। এ নিয়ে যুগান্তরসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। এরপর বিয়ের একদিন পরেই চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে তালাক দেন ওই কিশোরী।
এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের বডিগার্ড কাম-বাইকচালক রুবেলের পিস্তল হাতে ছবি ভাইরাল হয়েছে। অলোচনায় চলে এসেছেন রুবেল।
রুবেলের বাবার নাম রাজ্জাক সিকদার। তার বাড়ি কনকদিয়া ইউনিয়নের কুম্ভুখালি গ্রামে। রুবেলের হাতে পিস্তলের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর পিস্তলের উৎসহ নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পিস্তলটি বৈধ নাকি অবৈধ?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কনকদিয়া ইউনিয়নের এক সাবেক ইউপি সদস্য বলেন, পিস্তলটি আসল না নকল তা জানি না। তবে তাদের কাছে পিস্তল আছে এটা জানি। আর এই পিস্তলের ভয়ের কারণে এলাকার মানুষ শাহিন চেয়ারম্যানের অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
অভিযোগ রয়েছে এই পিস্তলের ভয় দেখিয়ে কিশোরী নাছমিন আক্তার ওরফে নছিমনকে চেয়ারম্যান শাহিনের সঙ্গে বিয়েতে বাধ্য করা হয়েছে। নছিমনের প্রেমিক রমজান একই অভিযোগ করেছেন যুগান্তরের কাছে।
রোববার দুপুরে তিনি বলেন, গত বুধবার সকাল ১০টার দিকে কনকদিয়া গ্রামের চুনারপুল এলাকা থেকে চেয়ারম্যানের অনুসারী সিজান নামের এক যুবক তাকে পিস্তল ঠেকিয়ে জোর করে বাইকে তুলে পটুয়াখালী নিয়ে যায় এবং চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের এক ভাগ্নের বাসায় আটকে রাখে। সেখান থেকে চার দিন পর কৌশলে সে পালিয়ে আসেন।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের বডিগার্ড কাম-বাইকের ড্রাইবার রুবেল হোসেনের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার মোবাইল নম্বরে ফোন দেয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসার পরে পিস্তলের ছবিটি সংগ্রহ করেছি। ছবিটি দেখে প্রথম পর্যায়ে আমার কাছে খেলনা পিস্তলের মতো মনে হচ্ছে। তবে এ ব্যাপরে বিস্তারিত অনুসন্ধান করে আনগত ব্যবস্থা নেব।
বরিশালে এক হত্যা মামলায় একজন নারীকে পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
রিমান্ড শেষে বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১লা জুলাই পুলিশ হাজির করে ঐ নারীকে।
ঐ নারীর আইনজীবী মজিবর রহমান বলেন, এই সময় তিনি আদালতের সামনে খুড়িয়ে হাঁটছিলেন।
এরপর ম্যাজিস্ট্রেট তার কাছে জানতে চান তার উপর কোন নির্যাতন করা হয়েছে কিনা। উত্তরে তিনি জানান তার যৌনাঙ্গে আঘাত করা হয়েছে।
মি. রহমান বলেন “জিজ্ঞাসাবাদের নামে তার শারীরিক এবং গোপনীয় জায়গায় নির্যাতন করেছে। তাকে যখন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে আনা হয় তখন ম্যাজিস্ট্রেট দেখতে পান যে তিনি খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটচ্ছেন।”
“তখন তাকে জিজ্ঞেস করেন আপনাকে কি মারধর করছে? আপনাকে কি নির্যাতন করেছে? তখন তিনি উত্তর দেন- জী। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট একজন নারী কনস্টেবলকে সাথে নিয়ে খাসকামরায় নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন তার শরীরের গোপনীয় জায়গাসহ বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতের চিহ্ন।”
এদিকে উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল হক এই অভিযোগ নাকচ করে দেন।
 দয়িত্বে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার ফলে গর্ভের শিশুকে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারী হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এমনকি মিথ্যা  আশ্বাস ও প্রতারনা করে প্রসুতি নারীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে ওই হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
তাছাড়া রোগীর স্বামীর কাছ থেকে জোরপুর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়ারও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী স্বামী।
ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বেজগাতি সুইজ হাসপাতালের। এখানে হরহামেসাই শিশু হত্যার মত চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটিয়ে মানুষ মারার কারখানা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন এই সুইজ হাসপাতাল।
গত (২৫ জুন) শুক্রবার আরও একটি শিশু মৃত্যুর খবর দিয়ে আবারও আলোচনায় নাম লেখালেন সেই আলোচিত সুইজ হাসপাতাল। ঘটনাটি কয়েকদিন আগের হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জিম্মি থাকায় এত দিন মুখ খুলতে পারেন নি ভুক্তভোগী রোগীর পরিবারটি।
জানা গেছে, গত শুক্রবার উপজেলার ধানডোবা গ্রামের বাসিন্দা সবুজ ভ’ইয়ার স্ত্রী ফরিদা বেগমের প্রসব ব্যথা উঠলে সুইজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। হাসপাতালে আসলে হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে দায়িত্বরত থাকা ডাঃ (ডিএমএফ) শফিকুল ইসলাম নিজেই আলট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গর্ভের বাচ্চা ও মা দু’জনই সুস্থ আছেন মর্মে জানান। এবং আগামী ২ সপ্তাহ পরে বাচ্চা প্রসবের সময় হবে বলে ব্যাথা উপশমের জন্য স্যালাইন ও প্রয়োগ করেন ডাঃ শফিক। এমতাবস্থায় ফরিদা বেগমের ব্যাথা আরও বেড়ে যাওয়ায় স্যালাইনে একটি ইনজেকশন পুশ করান এই ডিএমএফ ডাঃ শফিক। এবং ফরিদাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
রবিবার (৪ জুন) হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে ফরিদার শাশুড়ী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ইনজেকশন পুশ করার কিছুক্ষণ পড়ে ফরিদার ব্যাথা আরো বেড়ে যায়। এই অবস্থায় আমি একা মহিলা কোন উপায় না পেয়ে অসহায়ের মত বারবার ছুটে যাই নার্সদের কাছে। কিন্তুএত রাত্রে ডাক্তারকে ডাকা যাবেনা তাহলে ডাক্তার রাগ করবেন বলে জানায় নার্স। নার্সের এরকম আচরণে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে পেটের ভিতর মারা যায় ফরিদা আমার ছেলের সন্তান।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের প্রতি উল্টো অভিযোগ এনে জানান, রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের বিল পরিশোধের না করার জন্য মিথ্যা একটি ঘটনা সাজিয়েছে।
কিন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে দাবী করেছেন ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনরা।
 পটুয়াখালীতে আরিফ (২৮) নামের এক লম্পট যুবকের বিরুদ্ধে চার সন্তানের জননী বিধবা এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে বর্তমানে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসাধীন ওই নারী বলেন, ঢাকার নারায়ণগঞ্জে আমাদের খাবার হোটেল ও দোকান ছিল।
দুই বছর আগে আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে পটুয়াখালীর ২ নম্বর ব্রিজ এলাকার বাবার বাড়িতে চলে আসি।
সেখানে কিছুদিন থাকার পর সন্তানদের নিয়ে জেলগেট এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করি।
প্রায় ৮ মাস আগে আরিফ নামের স্থানীয় এক যুবক বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হাত-পা বেঁধে আমাকে ধর্ষণ করে। এসময় আরিফ নেশাগ্রস্ত ছিল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে সে (আরিফ) ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে আরও বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করে। তার অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পেতে জেলগেট এলাকা থেকে বাসা পরিবর্তন করে বালুর মাঠ এলাকায় বাসা ভাড়া নেই।
কিন্তু সেখানে গিয়েও আরিফ আমাকে ধর্ষণ করে। এক পর্যায় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি। বিষয়টা আরিফকে জানানোর পর থেকে তার আর তার দেখা পাওয়া যানি। শুক্রবার আমি অসুস্থ হয়ে পরলে ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে আসি।
এ বিষয় জানতে আরিফের মোবাইলফোনে একাধিকাবার কল করে ও তার বাসায় গিয়েও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আরিফের বাবা আজিজুর রহমানের দাবি, ওই নারীর সঙ্গে আরিফের কোনও সম্পর্ক নেই।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার মোর্শেদ জানান, ওই নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার খোঁজ রাখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ওসি।’
রাজাপুর প্রতিনিধি ॥ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের বলাইবাড়ী এলাকায় ভোর রাতে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিবাহিত তরুণীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই নৌশ প্রহরীর বিরুদ্ধে।
গত ৩ জুলাই শনিবার ভোর রাত আনুমানিক ৪ টার দিকে স্থানীয় মো.মোশারেফ হাওলাদারের বাড়ীর সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান,শনিবার ফজরের নামাজ আদায় শেষে বাড়ী ফেরার সময় ডাক চিৎকার শুনতে পেয়ে ঘটনাস্থালে গিয়ে জানতে পারি নৌশ প্রহরী দক্ষিণ রাজাপুর এলাকার মৃত্যু মন্নাফ হাওলাদারের ছেলে মনির হোসেন হাং এবং মৃত্যু হাতেম এর ছেলে আশ্রয়ণের বাসিন্দা মো.দিলু এ দু’জন মিলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক তরুণীর শ্লীলতাহানী ঘটায়।
এ সময় তরুণীর চিৎকারে বাড়ীর মালিকের ছেলে নয়ন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং দুই নৌশ প্রহরীকে হাতে নাতে আটক করে স্থানীয়দের সহযোগীতায় রাজাপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
ভুক্তভোগী বলেন,শনিবার ভোর রাতে আমি বলাইবাড়ী এলাকায় একটি ঘরের সামনে সিঁড়িতে বসে ছিলাম।
সেই সময়ে দুই জন লোক এসে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে (স্পর্শকাতর) হাত দেয় তখন আমি চিৎকার করি। আমার চিৎকার শুনে ঘরের ভিতর থেকে লোকজন বেড়িয়ে এসে তাদের ধরে ফেলে।
ভুক্তভোগী অসহায় পরিবারটি সম্মানের ভয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তাই আটককৃতদের পরিবার এবং স্থানীয় ইউপি সদস্যদের জিম্মায় মুছলেকা রেখে ছেড়ে দেয় থানা পুলিশ।
ভুক্তভোগী তরুণী পার্শবর্তী ভান্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী এলাকার মো.ফোরকান হাওলাদারের মেয়ে।
সে গত ২৬ জুন বাড়ী থেকে কাউকে কিছু না বলে বাহির হয়ে যায়। এ বিষয়ে তার পরিবার ভান্ডারিয়া থানায় গত ২ জুলাই ২০২১ একটি সাধারণ ডাইরী করেন যার নং – ৬৮।
অভিযুক্ত নৌশ প্রহরী (স্থানীয় দোকানদার) মনির হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতিবেশীকে হত্যা এবং চাচাতো বোনকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বিচারাধীন রয়েছেন।
সে বিভিন্ন সময়ে এলাকায় অনেক অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করে বেড়ায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রাজাপুর সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের নব নির্বাচিত ইউপি সদস্য মো.মামুন হোসেন জানান, মানষিক ভারসাম্যহীন ঔ তরুণীকে শ্লীলতাহানীর ঘটনায় নৌশ প্রহরী দিলু ও মনির’কে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয়রা।
আমরা ও ঘটনার সত্যতা পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দেই। ঘটনাস্থানে থানা পুলিশ এসে অভিযুক্তদের নিয়ে যায় এবং ভুক্তভোগীর পরিচয় শনাক্ত করে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকারের অভিযোগ দায়ের না করার থানা পুলিশ আটককৃতদের মুচলেকা রেখে ইউপি সদস্যদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শহিদুল ইসলাম বলেন,খবর পেয়ে রাজাপুর থানা পুলিশের ওসি তদন্ত সহ একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়।
জনতার হাতে আটককৃতদের থানায় নিয়ে আসে এবং ভুক্তভোগীকে সাধারণ ডাইরী মোতাবেক শনাক্তের জন্য পুলিশ সহ ভান্ডারিয়া থানায় প্রেরণ করা হয়।
শনাক্ত পূর্বক পরিবারের সদস্যদের সহ রাজাপুর থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সহ তার পরিবার কোনো অভিযোগ না দেয়ায় মুচলেকা রেখে শনিবার বিকেলে উভয় পক্ষকে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের জিম্মায় দেয়া হয়।

শামীম আহমেদ ॥ র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ডাকাত, সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী ও প্রতারকচক্রসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব ইতিমধ্যেই বিশেষ সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

অসাধু মাদক ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেশী/বিদেশী মাদক সংগ্রহ করে বরিশাল জেলার গৌরনদী থানাসহ দেশের বিভিন্ন থানা এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা ও অপারেশন চালিয়ে আসছে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৮, বরিশাল, সিপিএসসি কোম্পানীর একটি বিশেষ আভিযানিক দল (৪) জুলাই তারিখ বরিশাল জেলার গৌরনদী থানা এলাকায় একটি মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান পরিচালনাকালে আনুমানিক রাত ৫ টার দিকে সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি যে, বরিশাল জেলার গৌরনদী থানাধীন তারাকুপী সাকিনস্থ মোঃ শাহ আলম চাপরাশী(৩৮), এর বসত বাড়ির মধ্যে মাদক জাতীয় দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের আভিযানিক দলটি কৌশলগতভাবে ঘটনাস্থলের সন্নিকটে পৌঁছলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে র‌্যাব সদস্যরা ঘেরাও পূর্বক ১ জন ব্যক্তিকে আটক করে।

আটককৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে তার নাম (১) মোঃ শাহ আলম চাপরাশী(৩৮), পিতাঃ মৃত মোহাম্মদ আলী চাপরাশী, সাংঃ তারাকপি, থানাঃ গৌরনদী, জেলাঃ বরিশাল বলে জানায়।

 

পরবর্তীতে স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতিতে ধৃত আসামীর নিকট থেকে ৭৫৩ (সাত শত তিপ্পান্ন) পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে।

 

পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ৩ জুলাই ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, বরিশাল জেলার উজিরপুর থানাধীন মুন্সি তাল্টুু সাকিনস্থ টাকাবাড়ি স্টিল ব্রীজের পশ্চিম পাশে মাদক জাতীয় দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। এ সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের আভিযানিক দলটি আনুমানিক সন্ধার দিকে কৌশলগতভাবে ঘটনাস্থলের সন্নিকটে পৌঁছলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে র‌্যাব সদস্যরা ঘেরাও করে ২ জন ব্যক্তিকে আটক করে। আটককৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের নাম (১) মোঃ রুবেল শেখ(২২), পিতাঃ মোঃ মুজিবর শেখ, সাং- মশাং, (২) প্রফুল্লহ রায়(২৫), পিতাঃ গনেশ রায়, সাংঃ জামবাড়ি, উভয় থানাঃ উজিরপুর, জেলাঃ বরিশাল বলে জানায়।

 

পরবর্তীতে স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতিতে ধৃত আসামীদের নিকট থেকে ৪৫৪ (চার শত চুয়ান্ন) পিস ইয়াবা এবং মাদক বিক্রয়ে নগদ (তিন হাজার চার শত বিশ) টাকা উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে র‌্যাব-৮, বরিশাল সিপিএসসির ডিএডি মোঃ সাইফুল ইসলাম ও ডিএডি মোঃ আল মামুন শিকদার বাদী হয়ে বরিশাল জেলার গৌরনদী থানা এবং বরিশাল জেলার উজিরপুর থানায় পৃথক দুটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুইটি মামলা দায়ের করেন।

চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার বেসরকারি মেরিন সিটি হাসপাতালে বিষপান করা অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর (৩৫) লাশ রেখে পালিয়ে গেছে তার স্বজন। বৃহস্পতিবার পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়।
জানা গেছে, ৩০ জুন মধ্যরাত থেকে ওই নারীর কোনো স্বজনকে খুঁজে পায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে হাসপাতাল থেকে এ তথ্য বায়েজিদ থানা পুলিশকে জানানো হয়।
বায়েজিদ থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, এটি হত্যা না বিষপানে আত্মহত্যা, তা তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রাত ১২টার পর তারা খবর পায়। রোগীর স্বজন মাস্ক আনার কথা বলে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গিয়ে আর আসেনি।
চমেক পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শীলাব্রত বড়ূয়া জানান, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বায়েজিদ থানা পুলিশ অজ্ঞাত নারীর লাশ নিয়ে আসেন। সেটি মর্গে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির কোনো স্বজন যোগাযোগ করেনি।