মায়ের পরকীয়ার জেরে ছেলেকে গলাকেটে হত্যা করেছে বাবা। পরে বিষ খাওয়া অবস্থায় বাবাকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় সদর হাসপাতালে।

রোববার (২৫ এপ্রিল) রাত ১০টায় মাদারীপুরের কালকিনি গোপালপুর উপজেলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কালকিনি থানা পুলিশ জানায়, সম্প্রতি কালকিনির গোপালপুরের তোফাজ্জেল হোসেনের স্ত্রী মিনারা একই এলাকার চা বিক্রেতা আব্দুর রশিদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর দেড় মাস আগে মিনারা রশিদের সঙ্গে পালিয়ে যান।

এ ঘটনার পর ছেলে ও নিজেকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন তোফাজ্জেল। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববার রাত ১০টায় তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছেলে রনিকে গলাকেটে হত্যা করেন। পরে তিনি নিজে বিষপান করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে রনির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পাশাপাশি তোফাজ্জেলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইশতিয়াক আসফাক রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় আটক তোফাজ্জেল সুস্থ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য বের করা হবে।

কোহিনূর আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামী ইয়াকুব হোসেন মোহনকে (৩২) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

রোববার (২৫ এপ্রিল) রাত ১১টায় নোয়াখালীর চাটখিলে উপজেলার ৪নং বদলকোট ইউনিয়নে রেজ্জাকপুর গ্রাম থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আটক মোহন একই এলাকার বাসিন্দা।

আটক মোহন বলেন, কোহিনূর প্রায়ই তার শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়া করতো। রোববার রাত সাড়ে ১০টায় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পর স্ত্রীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কোহিনূরের স্বজনদের দাবি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এজন্য স্বামী মোহনসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে স্বজনদের অভিযোগ থাকায় স্বামীকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মো:রাজিবুল হক(বরগুনা প্রতিনিধি)
বরগুনার বামনা উপজেলা সদর ইউনিয়নের নিজ আমতলী গ্রামে পোশাক কারখানার শ্রমিক মো. আল-আমীন এর রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আল-আমীন ওই গ্রামের মরহুম নুর মোহাম্মদ এর একমাত্র ছেলে। সে চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
শনিবার (২৪ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রামের নিজ বোনের বাসায় তার রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। এদিকে তাঁর মৃত্যুর খবর স্বজনরা গোপন রেখে একটি ভুয়া মৃত্যুসনদ তৈরী করে শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে নিহতের লাশ বামনায় তার নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। রাতেই তাকে দাফন করার পরিকল্পনা করেন স্বজনরা। স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে বামনা থানাপুলিশকে খবরদিলে পুলিশ এসে লাশের সুরাতাল শেষে রবিবার লাশটি ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরণ করে। এঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তার দুই দুলাভাই জাহাঙ্গীর আলম(৪৫) ও মো. আজিজ(৪২)কে বামনা থানায় নিয়ে আসেন।
অভিযোগ পাওয়া গেছে নিহত আল-আমীনের মুত্যুর সঠিক কারনটি গোপন রেখে তার ভগ্নিপতি জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজ ভুয়া হার্টএ্যাটাকের সনদ তৈরী করে লাশ গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে আসেন। প্রতিবেশীদের কাছে তারা ফোন করে তার মৃত্যুর কারণ হার্টএ্যাটাক বলে চালিয়ে দেয়। এমনকি রাতেই তাকে দাফন করার জন্য কবর তৈরী করে রাখে।
এদিকে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ওই লাশটি দেখতে চাইলে নিহত আল-আমীন এর দুলাভাই জাহাঙ্গীর আলম জানায়, লাশটি সবার সামনে দেখবেন না। সবাই জানে ওর মৃত্যু হয়েছে হার্টএ্যাটাকে। কিন্তু আপনারা যখন এসেছেন আপনাদের কি লাগবে বলেন? পরে সাংবাদিকদের চাপে তিনি স্বীকার করেন তার হার্টএ্যাটাক হয়নি সে আত্মহত্যা করেছেন।
তখন তিনি জানান, শনিবার সকাল ৬টার দিকে তারা আলআমীনকে ঘরে দেখতে না পেয়ে বাথরুমে গিয়ে দেখেন দরজাবন্ধ। পরে ওই দরজা ভেঙ্গে বাথরুমের সাওয়ারে তার জুলন্ত লাশটি দেখেতে পায়। থানাপুলিশের ভয়ে সে বিষয়টি গোপন রেখে চট্টগ্রামের একটি ক্লিনিক থেকে ভুয়া একটি মৃত্যু সনদ তৈরী করে লাশটি নিয়ে এ্যাম্বুলেন্সযোগে বামনায় আসেন।
নিহত আল-আমীনের চাচাতো ভাই বাদশা মিয়া জানান, পিতামাতাহীন আল-আমীনের এমন কোন দুঃখ নেই যে তার আত্মহত্যা করতে হবে। লাশটির যে অবস্থা আমরা দেখেছি তাতে আমি ধারনা করছি তাকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলা হয়েছে।
এব্যাপারে বামনা থানার অফিসার ইন চার্জ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আলআমীনের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিলো না। তাই তার লাশ ময়না তদন্তছাড়াই স্বজনরা বামনায় নিয়ে আসেন। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠিয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তবে তার ভগ্নিপতি জাহাঙ্গীর ও আজিজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটক রাখা হয়েছে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ||
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে
বরিশাল নগরীর ৩ নং ওয়ার্ড পুরানপাড়ায়
বিবাদমান সম্পত্তির চারদিকে বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে জোরপূর্বক দখল করে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।গত ২৪ শে এপ্রিল শনিবার দুপুরে বিরোধীয় সম্পত্তিটি দখলে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর পুলিশকে জানিয়েও প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, পুরানপাড়া ৭৫৭ নং দাগ ও খতিয়ান নং ১৪২ এর সাড়ে ৬ শতাংশ
জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি ওই সম্পত্তির দাবিদার নিলুফা বেগম বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে নালিশী সম্পত্তি নিয়ে একটি মোকদ্দমা করলে
আদালত ওই সম্পত্তিতে কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মাণ, আকার আকৃতি পরিবর্তন না করা ও মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার জন্য আদেশ দেন।

গত শনিবার দুপুরে
জলিল শিকদার ক্ষমতাশীল দলের নেতাকর্মী জাকির, রিপন,অনিক,আনিস, রাসেলসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪০/৪৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নালিশী সম্পত্তির চারদিকে বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে দখলে নিয়েছেন। সেখানে তিনি একটি টিনের ছাপড়াও বসিয়েছেন।

এ ব্যাপারে
জলিল শিকদার কে ফোন দিলে সে জানান, ওই সম্পত্তির তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি । নিলামকৃত জমি সে কিনেছেন।
জোর করে তিনি কারো সম্পত্তি দখল করেননি। আদালতে তার নামে জমি নিয়ে কোন মামলা নেই। সে আরও জানান, ওই জমি লিটন নামের এক ব্যক্তির কাছে সে বিক্রি করেছে। তারা হয়তো দখল নিতে পারে। ওইদিন সেখানে তিনি যাননি।

এ ব্যাপারে মিন্টু হাওলাদার বলেন, ওই সম্পত্তির উপরে তার স্ত্রী একটি বন্টন মামলা দেন। মামলা নং৬৩/২০ আদালতে মামলাটি চলমান। মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই তারা জোর জবর দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে যা মোটেই কাম্য নয়। তাহলে তারা আদালতের থেকে বড় হয়ে গেছে।সে আরও জানান, লকডাউনে আদালত বন্ধ থাকায় তারা এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে।এ ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

মোঃরাজিবুল হক
(বরগুনা প্রতিনিধি)

আজ ২৪ এপ্রিল শনিবার সকাল ১০ টায় বামনা উপজেলা যুবলীগের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডায়রিয়া আক্রান্ত গরীব ও অসহায় রোগীদের জন্য বিনা মূল্যে (১ হাজার এম.এল এর ৫০ পিচ) স্যালাইন তুলে দেন উপজেলা স্বাস্হ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামানের কাছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বামনা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো: সাইফুল ইসলাম সরওয়ার , সহ সভাপতি শ্রী সঞ্জয় কর্মকার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুল হুদা মুনিম তালুকদার, প্রচার সম্পাদক মোঃ শুকুর আল মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক মোঃ তারিকুল ইসলাম প্রিন্স, সহ-সম্পাদক মোঃ মাসুম বিল্লাহ, মোঃ মহিউদ্দীন মঈন, সদস্য মোঃ জসীম উদ্দীন, বামনা সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার চৌধুরী প্রিন্স, রামনা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম রাসেল সহ অন্য যুবলীগ নেতারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামান বলেন গত কিছুদিন যাবত বামনা উপজেলায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সীমিত জনবল (ডাক্তার, নার্স, স্বাস্হকর্মী ও পরিস্কার- পরিচ্ছন্নতা কর্মী) নিয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করে আসছি কিন্তু ডায়রিয়া পরিস্হিতি দিন দিন বেড়েই চলেছে তাই আমি মনে করি বামনা উপজেলা যুবলীগ যেভাবে এগিয়ে আসছে তেমনি অন্যন্য সংগঠন ও এগিয়ে আসলে গরীব ও অসহায় রোগীরা উপকৃত হবে।

উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম সরওয়ার বলেন আমরা উপজেলা যুবলীগ বিগত দিনে যেমন অসহায় ও গরীব মানুষের সাথে ছিলাম আগামীতে ও থাকবো। তিনি আরো বলেন ডায়রিয়া যেভাবে বেড়ে চলছে তাতে বৃত্তবান ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের ও এগিয়ে আসা উচিৎ এবং সবাইকে আরো বেশি সচেতন হতে আহবান জানান।

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে প্রায় এক মাস জুড়ে ভয়াবহ ডায়রিয়ার প্রকোপের পর পরিস্থিতি এখন কিছুটা স্থিতিশীল বলে বলছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

কর্মকর্তারা বলছেন পানিতে লবনাক্ততা বেড়ে যাওয়া, খালে ও নদীর পানিতে জীবাণু ছড়িয়ে পড়া এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে এ বছর হঠাৎ করে বেশ কয়েকটি জেলায় ডায়রিয়া ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং এ অঞ্চলের ছোট বড় হাসপাতালগুলো রোগীতে সয়লাব হয়ে যায়।

“পরিস্থিতি এমন ছিলো যে আমার মায়ের জন্য স্যালাইন পর্যন্ত পাচ্ছিলাম না। পুরো জেলায় কোথায় পাওয়া যায়নি স্যালাইন,” মায়ের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পরের অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলছিলেন পটুয়াখালীর রোমেনা আক্তার।

কর্মকর্তারা বলছিলেন বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলায় তুলনামূলক বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে ডায়রিয়ায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা: বাসুদেব কুমার দাস বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন যে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৩৮ হাজার ২১ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং মারা গেছেন দশ জন।

“প্রতিবছর এ সময়ে বিশেষ করে এপ্রিল মে মাসের দিকে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে কিন্তু এবার তুলনামূলক অনেক বেশি মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে বলেই আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআরবি থেকে টিম এসে পরিস্থিতি দেখে কিছু কারণ উদঘাটন করেছে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

 

 

ছবির ক্যাপশান,ভেতরে জায়গা না পেয়ে বাইরে এমন করে শয্যা তৈরি করে চিকিৎসা নিয়েছে অনেক রোগী

তিনি বলেন রোগীদের মধ্যে ৭১ ভাগ এসব পানি ব্যবহারের তথ্য দিয়েছেন আইইডিসিআরের গবেষকদের।

ডায়রিয়া পরিস্থিতি স্যালাইন সংকট মোকাবেলা অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বরিশাল, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলার জন্য বৃহস্পতিবার ৬০০ ব্যাগ আইভি স্যালাইন দেয়া হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর জন্য ৩৫ হাজার স্যালাইন যাবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।

পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ জাহাংগীর আলম বিবিসিকে বলছেন, জেলায় গত চব্বিশ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৭৯ জন ও সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ২৫৭ জন।

“গত সাত দিনে ২০১৮ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর গত এক মাসে মোট ৪৬৬৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তবে আজ থেকে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। এর আগে প্রতিদিন তিনশোর মতো রোগী হাসপাতালে আসতো। সেখানে আজ ১৭৯ জন এসেছে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

তিনি বলেন জেলাজুড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরাপদ পানির ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে প্রশাসনের সহায়তায়।

ভোলার চরফ্যাসনে দুই যুবকের গলাকাটা পোড়া লাশের মাথা উদ্ধার করেছে চরফ্যাশন থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার সময় উপজেলার আছলামপুর ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ডের ঘটনাস্থল থেকে এক হাজার গজ উত্তরে ফরাজি বাড়ির মহিবুল্লাহ’র বাথরুমের ট্যাংকি থেকে পোড়া লাশের মাথা দুইটি উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) জোড়াখুনের মুলহোতা সিরাজুল ইসলামকে আটকের পর তার দেয়া তথ্যানুযায়ী গতকাল বিকালে আসলামপুর ইউনিয়নের জনৈক মহিবুল্লাহ’র বাড়ীর সেফটিক ট্যাংকের ভিতর থেকে জোড়া খুনের মাথা দুটি উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল আছলামপুর ইউনিয়নের সুন্দরী ব্রিজের সংলগ্ন ভুঁইয়াদের ছাড়া বাড়ি থেকে মাথা বিহীন ২টি পোড়া লাশ উদ্ধার করে চরফ্যাসন থানা পুলিশ। দুর্বৃত্তরা এই বাগানে গলা কেটে দুই যুবককে হত্যা করে লাশ আগুনে পুড়িয়ে ফেলে রেখে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই সময় মাথা বিহীন পোড়া লাশ দুটি দেখে চরফ্যাসন থানার পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে ভোলায় দাফন করেন৷ এ ঘটনায় এস আই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে হত্যা মামলা করেন।

চরফ্যাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনির হোসেন মিয়া জানান, এঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারী-পুরুষসহ ৭ জন কে আটক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত লাশের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। মাথা দুটি ডিএন এ টেস্টের জন্য পাঠানো হবে। খুবই শ্রিঘ্রই লাশের পরিচয় এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটিত হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এদিকে পৌর সভা ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল মতিন মোল্লা জানান, ৩নং ওয়ার্ডের (বেলার বাপ নামে পরিচিত) উৎকণ্ঠ শীলের দু‘পুত্র তপন শীল(৫২) ও দুলাল শীল (৫৫) নিখোঁজ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এ লাশ দুটি তাদের।

স্থানীয়রা জানান, তারা পরি ভারত বসবাস করত। এই সহদোর দুই ভাই পৌর সভার ৩নং ওয়ার্ডে ৫৬শতক জমি বিক্রি করেছে আসলামপুর ৪নং ওয়ার্ডের আবু জাফর ওরফে জাফর ফরাজীগংদের কাছে। জমির লেন-দেন নিয়ে এই ঘটনাটি পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের ধারনা।

পৌরসভা ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিল মিজানুর রহমান মঞ্জু বলেন, এই হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্ধেহে বৃহম্পতিবার বিকালে মূল হোতা সিরাজুল কে আটকের পর তা দেয়া তথ্যাঅনুযায়ী সন্ধ্যায় আবু জাফর ওরফে জাফরকটা বাচ্চা ফরাজী(৬২) ও তার স্ত্রী, মো. আবুল কাশেম(২২), হেলাল উদ্দিন(২৫) ও আলী আজগর(৩৫)সহ ৭জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

বরগুনা প্রতিনিধি :: বিয়ে না করেও স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাসের অভিযোগে বরগুনায় এনএসআইয়ের এক গাড়িচালক ও এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার লাকুরতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক ওই গাড়ি চালকের নাম মো. জাহিদুল ইসলাম। তিনি এনএসআইয়ের বরগুনা কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বিয়ে না করেও গত ১ এপ্রিল থেকে বরগুনার লাকুরতলা এলাকায় ওই নারীকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন জাহিদুল। পরে নানা তালবাহানায় বিয়ে না করায় ওই নারী বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। পরে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বরগুনার এনএসআইয়ের সহকারী উপ-পরিচালক লুৎফর রহমান।

তিনি বলেন, অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে পুলিশ ওই নারীসহ জাহিদুলকে আটক করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম তারিকুল ইসলাম বলেন, এনএসআই এর গাড়িচালক জাহিদুল বিয়ে না করেও ওই নারীকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একসঙ্গে বসবাস করতেন। ওই নারীর মাধ্যমে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে যান বরগুনার এনএসআইয়ের সহকারী উপ-পরিচালকও। তিনি ওই নারী এবং জাহিদুলের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিয়ে না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন। এরপর তার অনুমতি নিয়ে পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও জানান তিনি।’’

নিজের শরীরে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে হাসপাতালে যাওয়া সেই ব্যাংকার বাসায় ফিরেছেন। তবে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) তার শরীরে অক্সিজেন সিলিন্ডার ছিল না।

ছিল না মায়ের মুখে লাগানো অক্সিজেন মাস্ক। টানা ছয় দিন হাসপাতালে থেকে করোনাভাইরাসমুক্ত হয়ে ঘরে ফিরলেন রেহানা পারভীন।
ছেলে ঝালকাঠি কৃষি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার জিয়াউল হাসান টিটু ঢাকা পোস্টকে বলেন, সকালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিট থেকে মাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এখন মা সম্পূর্ণ সুস্থ।

তিনি আরও বলেন, যে মোটরসাইকেলে করে মাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়েছিলাম। আজ সেই মোটরসাইকেলে করে মাকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় নিয়ে বাড়ি ফিরেছি। এটি আমার কাছে পরম আনন্দের।


পিঠে সিলিন্ডার বেঁধে মাকে নিয়ে ১৭ এপ্রিল হাসপাতালে যান ছেলে
তিনি ও তার ছোট ভাই রাকিবুল হাসান ইভান মাকে নিয়ে নলছিটি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্যপাশা গ্রামে ফেরেন। মাকে নিয়ে তাদের এই বাড়ি ফেরাকে জীবনের শ্রেষ্ঠ বিজয় উল্লেখ করে জিয়াউল হাসান জানান, ৬ দিন মুমূর্ষু মাকে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি রেখে পুরোপুরি সুস্থ করে বাড়ি ফিরেছেন।

জিয়াউল হাসান জানান আরও জানান, শনিবার (১৭ এপ্রিল) তার মা রেহানা পরভীনের অক্সিজেন সেচুরেশন ৭০ অবস্থায় নিজ শরীরে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে যে বাইকে করে মাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম, আজ মায়ের ফুসফুসে অক্সিজেন সেচুরেশন ৯৬ নিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছি একই বাইকে। এ যেন আল্লাহর নেয়ামত। এ সময় জিয়াউল হাসান দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, শনিবার (১৭ এপ্রিল) লকডাউনের মধ্যে কোনো ধরনের যানবাহন না পেয়ে মোটরসাইকেলে করোনায় আক্রান্ত মাকে নিয়ে নিজের শরীরে মায়ের অক্সিজেন গ্রহণের সিলিন্ডার বেঁধে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন ছেলে জিয়াউল।
এ সময়ে তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশি চেকপোস্টে পড়েন। পুলিশ গাড়ি না থামালেও চেকপোস্টের জন্য মোটরসাইকেলের গতি শ্লথ করলে অক্সিজেন সিলিন্ডার শরীরে বেঁধে মাকে নিয়ে যাওয়া ছবি কেউ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

জিয়াউল হাসানের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হাকিম মোল্লা। তিনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার। ২০২০ সালের প্রথম রমজানে হাকিম মোল্লা মৃত্যুবরণ করেন। নলছিটি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড সূর্যপাশা গ্রামের বাসিন্দা তারা। মা রেহানা পারভীন নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

বরিশাল বিভাগে বিগত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪৪২ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই সময়ে মারা গেছেন এক নারী। শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চলতি মাসের ১ এপ্রিল থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত মোট ৩৬ হাজার ৪৬৮ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যুবরণ করেছেন ১০ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৩৫ হাজার ২২৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভোলা জেলায় সর্বাধিক আক্রান্ত হয়েছে। এই জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ২৩৩ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উপকূলীয় এলাকা পটুয়াখালী। এ জেলায় আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ২৯০ জন।

পর্যায়ক্রমে বরগুনায় ৫ হাজার ৪৫০, বরিশালে ৪ হাজার ৯৭৯, পিরোজপুরে ৪ হাজার ৪৩৩ ও ঝালকাঠিতে ৪ হাজার ৮৩ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য দফতর আরও জানায়, ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত আইভি স্যালাইনের মজুদ রয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভাগে ১ হাজার সিসির ৩৬ হাজার ৩৫০ ও ৫০০ সিসির ৩১ হাজার ৯৮৪ পিস স্যালাইন মজুদ আছে।