নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোড এলাকায় মাদক নিরাময় মাইন্ড কেয়ারে এক নারী রোগীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগে পাওয়া গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,গত মঙ্গলবার (৩সেপ্টেম্বর) ভোলা চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা মোঃ সালাম মিয়া তার মেয়ে মাদকাসক্ত হওয়ায় তাকে মাইন্ড কেয়ার ও হলি কেয়ার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেন।

রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোলা চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা মোঃ সালাম মিয়ার মেয়ে তার পরিবারের কাছে অভিযোগ করে বলেন, মাদক নিরাময় কেন্দ্রতে কোনো চিকিৎসা নেই।

ওখানে মারধর করেই আতঙ্কগ্রস্ত করা হয়। আতঙ্কে অনেক মাদকাসক্ত ব্যক্তি অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন এছাড়াও এখানে কোনো নারী নার্স নেই। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক নিজেই চিকিৎসা দিয়ে থাকেন, তিনি আমাকে চিকিৎসা করা অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন অংশে হাত দিয়ে থাকেন।

এঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানার এস আই মোঃ মাজেদ হোসেন রোগীকে দ্রুত উদ্ধার করেন। অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান (সুমনের) হলি কেয়ার, মাইন্ড কেয়ার। স্বপ্নের মালিকানাও এই মোস্তাফিজুর রহমানের। তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রোগী মৃত্যু ও নির্যাতনের অভিযোগও সবচেয়ে বেশি।

মাইন্ড কেয়ার থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ না হওয়া এক রোগীর স্বজন বলেন, ২২ দিনে ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় দেখিয়েছে। কিন্ত আমার মা সুস্থ হননি। তিনি সিজোফ্রোনিয়ায় আক্রান্ত। ভর্তির সময়ে মাইন্ড কেয়ারের লোকজন বলেছিল ৮ হাজার টাকা। ভর্তির পর বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা, ওষুধ, ডাক্তারের ভিজিট দেখিয়ে ৪৫ হাজার টাকা বিল করেছে।

স্থানীয়রা জানান, নগরীর ১০ নং ওয়ার্ড বাংলা বাজার এলাকার জব্বার মিয়া গলির বাসিন্দা মজিবুর রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (সুমন) একজন প্রভাবশালী আ’লীগ নেতা ও তার বিরুদ্ধে বরিশালে কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিএনপির অফিস ভাংচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া মামলার আসামী।

অভিযোগ উঠেছে বরিশালে মোস্তাফিজুর রহমান (সুমনের) আ’লীগেরর আমলে নিজস্ব প্রভাব খাটিয়ে সরকারি আইন উপেক্ষা করে নিজস্ব শক্তি বলয়ে নিজস্ব আইনে পরিচালিত করে আসছে মাদকাসক্ত মাইন্ড কেয়ার ও হলি কেয়ার।

মাইন্ড কেয়ার ও হলি কেয়ার মাদক নিরাময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তার ট্রেড লাইসেন্স ও ফায়ার লাইসেন্স নেই এমনকি মহিলা রোগী রাখার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমতি নেই।ভূক্তভূগি পরিবারের কে মামলা বা অভিযোগ না করার জন্য নানান ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে।

এ বিষয়ে ভূক্তভুগীর বাবা আঃ সালাম মিয়া জানান আমরা মেয়েকে মাদকাসক্তি মাইন্ড কেয়ার ও হলি কেয়ার থেকে নিয়ে আসছি।এখন অন্যত্র চিকিৎসা করাচ্ছি।আমাদেরকে মোস্তাফিজুর রহমান (সুমন) নানান ভাবে ভয়ভীতি দেখাছে।

এছাড়াও মাদকাসক্তি কেন্দ্রের গুণগতমান সেখানে রক্ষা করা হয় না। রোগীদের খাবার সহ চিকিৎসা সেবা সঠিকভাবে দেওয়া হয় না। এখানে মালিক সিন্ডিকেট একই নামে তিন-চারটা লাইসেন্স করে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের (আওয়ামী লীগ) প্রভাব তৈরি করে ব্যবসা পরিচালনা করে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও সুমনের প্রতারনা এখনো বহাল । এলাকাবাসীর দাবি প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে যেন আইন গত ব্যবস্থা গ্রহন করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এনায়েত হোসেন জানান মাইন্ড কেয়ার ও হলি কেয়ার মাদক প্রথম দিকে লাইসেন্স নিয়ে পরিচালনা করলেও দীর্ঘদিন ধরে নবায়ন করেনি।এখন তারা অবৈধভাবে পরিচালনা করে আসছে।আর নারী মাধকাসক্তদের রাখতে হলে সরকারি কিছু নিয়ম মেনে রাখতে পারবে।তারা করেনি আমরা দ্রুত উর্ধতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে মাইন্ড কেয়ার ও হলি কেয়ার মাদক নিরাময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।

 

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে উজিরপুরের গুঠিয়ার জাকির নামে এক রোগী মারাযান হলি কেয়ারে। ২০১৫ সালে একই প্রতিষ্ঠানে মারা যান নগরীর কাঠপট্টি এলাকার বাসিন্দা পুলক। ২০২১ সালে হলি কেয়ারের বাথরুম থেকে চন্দন সরকারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় কয়েকটি মৃত্যুর বিষয়ে পরিবার থেকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব ঘটনায় থানায় মামলা ও অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কেউ কেউ গ্রেপ্তারও হন। পরবর্তীতে মামলা ধামাচাপা পড়ে যায়।

এবিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এধরণের কোনো ঘটনা আমার জানা নেই, যদি এধরণের ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

মোঃ শাহীন আলম
তালতলী,প্রতিনিধি// বরগুনার তালতলীতে ইউপি সদস্যকে বিবস্ত্র করে মারধরের সংবাদ প্রকাশের জেরে স্থানীয় ৫ সাংবাদিকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। এই মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ছে বিভিন্ন সাংবাদিক সমাজ।

বৃহস্পতিবার(০৫ সেপ্টম্বর) দুপুরে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন শাহদাত হোসেন। আদালতের বিচারক আরিফুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে বরগুনা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মিথ্যা মামলার আসামিরা হলেন তালতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. খাইরুল ইসলাম,দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার সাংবাদিক মোস্তাফিজ,এশিয়ান টিভির সাংবাদিক মো জলিল, আজকের দর্পণ পত্রিকার সাংবাদিক ও প্রেসক্লাবের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান,মানজমিন পত্রিকার সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান ও বিবস্ত্র করে মারধরের শিকার ইউপি সদস্য জামাল খান এবং তার চাচাতো ভাই ফেরদাউস। হামলাকারী শাহদাতের কাছ থেকে একটি মোবাইল ও মারধর করে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করার অভিযোগ করা হয়েছে।

জানা যায়, গত শনিবার ৩১ আগস্ট উপজেলার নিশান বাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জামাল খানের বাড়ির সামনে নিদ্রা স্লুইজঘাট খালে একটি চোরাই ইঞ্জিন চালিত স্টিলবডি ট্রলার নোঙর করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি স্থানীয়রা ইউপি সদস্য জামাল খানকে জানালে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানান। পরে ইঞ্জিন চালিত স্টিলবডি ট্রলারটি ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন। এ খবর পেয়ে আবুল কালাম,মিজানুর রহমান, বশির, সাংবাদিক নাইম ও শাহাদাত সহ তারা রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে চোরাই ট্রলারটি অনৈতিকভাবে নেওয়ার জন্য টাকার প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হলে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ইউপি সদস্য বাধা দিলে আবুল কালাম, মিজানুর রহমান, বশির, সাংবাদিক নাইম ও শাহাদাতসহ ২৫-৩০ লোক এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে জখম করেন জামাল খানকে। মারধরের একপর্যায়ে ইউপি সদস্যকে বিবস্ত্র করে ভিডিও করা হয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায় হামলাকারীরা। এতে জীবনের ভয়ে চিকিৎসা না নিয়ে বাড়িতে থাকলে পরের দিন দুপুরের দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত আনোয়ার তুমপা ইউপি সদস্য জামাল খানকে উদ্ধার করে হাসপাতাল পাঠায়। এ ঘটনায় ঐ ইউপি সদস্য বাদি হয়ে ১২ জন হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে আদালতে একটি মামলা করেন।

এদিকে মারধরের খবর পেয়ে পরের দিন ১ আগষ্ট দুপুর ১২ টার দিকে ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে যায় তালতলী প্রেসক্লাবের সদস্যরা। পরে মারধরের সংবাদ প্রকাশ ও হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধনের নিউজ প্রকাশ উপজেলার একাধিক সাংবাদিকরা। পরর্বতীতে মামলার নিউজ প্রকাশ করার জের ধরে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে ৫ স্থানীয় সাংবাদিকসহ ঐ ইউপি সদস্যকে আমাসীকে ৭ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মারধরের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন শাহদাত হোসেন নামের এক হামলাকারী।

তালতলী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তরের সাংবাদিক মু আ. মোতালিব বলেন, এই মারধরের ঘটনায় আমিও সংবাদ সংগ্রহে গিয়েছিলাম ও সংবাদ প্রকাশ করেছি। এখানে সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন শুধু। তাছাড়া তারা ঘটনাস্থলেই ছিলো না। তাঁদের নামে মারধরের ঘটনায় মামলা করা হচ্ছে। এটা দুঃখজনক, অভিলম্বে তিনি মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

এ বিষয় বরগুনা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.বশির আলম বলেন, এখনো মামলার আদেশ আমরা হাতে পাইনি। আদেশ হাতে পেলে সঠিকভাবে তদন্ত করে সুষ্ঠু প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।

 

তালতলী(বরগুনা)প্রতিনিধি// বরগুনার তালতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করে সামাজিকভাবে মানহানি করার প্রতিবাদে মানবন্ধন করেছে বাশবাড়িয়া মসজিদের মুসুল্লীরা।

শুক্রবার(৩০ আগষ্ট) জুমার নামাজ শেষে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউসুফ মুন্সী জামে মসজিদ মাঠে এ মানববন্ধন করা হয়।

জানা যায়, উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউসুফ মুন্সী জামে মসজিদে মিলাদ-মাহফিলের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের জিআর চাল বরাদ্ধের আবেদন করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ঐ মসজিদের মুসুল্লী খাইরুল ইসলাম । পরে জুনের শেষ দিকে মসজিদের মিলাদ-মাহফিলের জন্য ১ টন চাল বরাদ্দ হয়। ঐ সময়ই মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুল ফরাজীকে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি ঢাকায় থাকার কারণে চাল ছাড়াতে বিলম্ব হয়। পরে ২৫ আগষ্টের দিকে আবুল ফরাজির অনুরোধে প্রেসক্লাবের সভাপতি চাল উত্তোলন করে তার টাকা মুসুল্লীদের সামনে মসজিদ কমিটির কাছে হস্তান্তর করেন। তবে প্রেসক্লাবের সভাপতির পরিবারের সাথে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জের ধরে একটি কুচক্রী মহল চাল আত্মসাতের অভিযোগে এনে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন। সেই নিউজে সভাপতি দাবি করে যে ব্যক্তি বক্তব্য দিয়েছেন তিনি মসজিদ কমিটির সভাপতি নয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি’র বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে মানহানি করার প্রতিবাদে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসুল্লীরা এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। এ মানববন্ধনে শতাধিক মুসুল্লীরা উপস্থিত ছিলেন ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের জন্য ক্ষোভ জানান।

মানববন্ধনে স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবর রহমান ককন বলেন, স্থানীয়দের সাথে কাথা বলে জেনেছি চাল বরাদ্দের শুরুতেই মসজিদ কমিটির সভাপতিসহ একাধিক মুসুল্লীরা বিষয়টি জানেন। এখানে প্রেসক্লাবের সভাপতির বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগে এনে যে নিউজটি করা হয়েছে সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা এর তীব্র নিন্দ্রা ও প্রতিবাদ জানাই।

মসজিদের ঈমাম ও খতিব জহিরুল হক বলেন, আমরা মসজিদের মিলাদ মাহফিলের ১ টন চাল বুঝে পেয়েছি আগেই। তাহলে কি ভাবে আত্মসাতের অভিযোগে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করলো।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুল ফরাজী বলেন, আমি বরাদ্দের শুরু থেকেই জানি। আমি প্রেসক্লাবের সভাপতিকে বলেছি চাল উত্তোলন করতে। সেজন্য তিনি চাল উত্তোলন করে আমাদের কাছে টাকা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন প্রেসক্লাবের সভাপতির পরিবারের সাথে বিভিন্ন সময় নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে তাকে বির্তকিত করার জন্য মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে এই নিউজ করেছেন। সেখানে যে ব্যক্তি সভাপতি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি সভাপতি নন। আমরা এই মিথ্যা নিউজের তীব্র নিন্দ্রা ও প্রতিবাদ জানাই।

 

জ্ঞাত আয়-বর্হিভূত সম্পদ অর্জন, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও গোপনে দায়ে এক দম্পতিকে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার বরিশাল বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মেহেদি আল মাসুদ রায় দেন বলে বেঞ্চ সহকারী আবুল বাশার জানিয়েছেন।

দণ্ডিতরা হলেন- ভাণ্ডারিয়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর ও ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার পশ্চিম আউরা গ্রামের বাসিন্দা শাহনাজ পারভীন এবং তার স্বামী একই গ্রামের বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান।

রায় ঘোষণার সময় স্বামী-স্ত্রী আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে দুইজনকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

বেঞ্চ সহকারী আবুল বাশার জানান, ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে শাহনাজ পারভীনের ১২ লাখ ৬৪৯ টাকার তথ্য গোপন, ৩৪ লাখ ২৩ হাজার ৮০০ টাকার মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ৫০ লাখ ৬২ হাজার ৬৪৭ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদের প্রমাণ মেলে।

এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ৬ অগাস্ট দুদকের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবুল হাসেম কাজী বাদী হয়ে শাহনাজকে আসামি করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।

তদন্ত শেষে স্ত্রীকে সহায়তার অভিযোগে মাহফুজুরসহ শাহনাজের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

আবুল বাশার বলেছেন, রায়ে শাহনাজকে দুই ধারায় মোট ৫ বছর কারাদণ্ড, ৪১ লাখ চার হাজার ৮৪৭ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৯ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আর তার স্বামী মাহফুজুরকে তিন বছর কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিনমাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

রাজশাহী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মনসুর আহমেদ, গাইবান্ধা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহে আলমের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার কমিশন এ সিদ্ধান্ত নেয়। আজ মঙ্গলবার থেকে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদকের উপপরিচালক জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।

দুদক সূত্র জানায়, সাবেক এই তিন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

গত রোববার দুদকের সভায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, বরগুনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ারসহ পাঁচজনের দুর্নীতি অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

 

ঝালকাঠির কাঠালিয়ার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকায় নিহত চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের মহিষকান্দি গ্রামের শিক্ষার্থী মো: রাকিব ও দক্ষিণ চেঁচরী গ্রামের ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানির কর্মচারী মো: সুজন খানের পরিবারকে দুই লাখ করে চার লাখ টাকার অনুদান প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঝালকাঠি জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদদের পরিবারের কাছে এ অনুদানের অর্থ হস্তন্তর করেন।

ঝালকাঠি জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিশেষ অতিথির ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসেন হেলাল, পিরোজপুর সাইদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শামীম সাঈদি, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন। বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ ফরিদুল হক, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক নেতা ও বরিশাল বি এম কলেজের সাবেক এ জি এস শেখ নেয়ামুল করীম, কাঠালিয়া উপজেলা আমির মাস্টার মজিবুর রহমান, কাঠালিয়া উপজেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক মো: সাইদুর রহমান, কাঠালিয়া উপজেলা জাময়াতের ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা মো: নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের অনুদান প্রদানের পাশাপাশি এই দুই শহীদ পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন বলে জানান তারা।

 

বরিশালের উজিরপুরে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে নিহত একজনের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলাটি করেন। এ ঘটনায় পুলিশ এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

হামলায় নিহত দুজন হলেন উপজেলার সাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ইদ্রিস হাওলাদার (৪৬) ও একই ওয়ার্ড কমিটির সদস্য সাগর হাওলাদার (২৮)। তাঁরা পরস্পরের চাচাতো ভাই। গত শনিবার রাতে উপজেলার সাতলা পশ্চিমপাড় সেতু এলাকায় তাঁদের ওপর হামলা হয়। এর মধ্যে ইদ্রিস হাওলাদার শনিবার রাতে এবং সাগর হাওলাদার রোববার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

গতকাল রাত পৌনে ১২টার দিকে নিহত ইদ্রিস হাওলাদারের স্ত্রী রেশমা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। সাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য কিবরিয়া হাওলাদারকে (৩৮) প্রধান আসামি করে ২৬ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ১২ জনকে। আজ মঙ্গলবার সকালে এজাহারভুক্ত আসামি কবির বিশ্বাসকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অধিকাংশ আসামি স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মী।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহিন হাওলাদার (৪৮), তাঁর চাচাতো ভাই উজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদ হাওলাদার (৪৬), সাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য কিবরিয়া হাওলাদার (৩৮), সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস হাওলাদার (৫৪), সাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক কবির বিশ্বাস (৩৫), ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য সোহেল হাওলাদার (৪২) প্রমুখ।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ইদ্রিস হাওলাদার (৪৬) ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চাচাতো ভাই সাগর হাওলাদারের (২৮) সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে রাত পৌনে ১১টার দিকে সাতলা পশ্চিমপাড় ব্রিজের ঢালে পৌঁছালে সাতলা ইউপির চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহিন হাওলাদারের নেতৃত্বে আসামিরা হামলা করেন। তাঁরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেলের গতি রোধ করেন। পিটিয়ে ও কুপিয়ে ঘটনাস্থলে ইদ্রিস হাওলাদারকে হত্যা করেন। মোটরসাইকেলের চালক সাগর হাওলাদারকে কুপিয়ে গুরুতরভাবে আহত করা হয়। বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল ১০টায় সাগর মারা যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শাহিন হাওলাদারের সঙ্গে সাতলা বাজারের ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস হাওলাদারের বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে একাধিকবার সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৭ মার্চ ইদ্রিস হাওলাদারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছিল প্রতিপক্ষ। এ ঘটনায় ইদ্রিস হাওলাদার মামলা করেছিলেন। তখন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার ও আসাদ হাওলাদার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।এ ব্যাপারে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার ও তাঁর চাচাতো ভাই আসাদ হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। হত্যার ঘটনার পর থেকে তাঁরা আত্মগোপনে আছেন।

উজিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক মো. তৌহীদুজ্জামান বলেন, ব্যবসায়িক ও এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জের ধরে ইদ্রিস হাওলাদার ও সাগর হাওলাদারকে কুপিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইদ্রিস হাওলাদারের স্ত্রী রেশমা বেগম থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।

 

বরিশালের কেউ চিনত না খোকন সেরনিয়াবাতকে। বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে কে পাবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তা নিয়ে যখন চলছিল আলোচনা-হঠাৎ করে নৌকার মাঝি হিসাবে কেন্দ্র থেকে ঘোষিত হয় তার নাম। অনেকটাই হতবাক হয়ে পড়েন বরিশালের মানুষ। কে এই খোকন সেরনিয়াবাত তা জানতে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন সবাই। পরে জানা যায়, দলের প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর একমাত্র ভাই ও শহিদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের ছোট ছেলে এই খোকন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই।
দলীয় রাজনীতিতে কোনো অবদান না থাকলেও শেখ পরিবারের কোটায় ওই বছরের ১২ জুন অনুষ্ঠিত প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে জয়ী হন খোকন। মেয়রের দায়িত্ব নেন ১৪ নভেম্বর। মাত্র সাড়ে ৮ মাস ছিলেন এ দায়িত্বে। এ সময়েই নগর ভবনের ঠিকাদারির পার্সেন্টেজ নেওয়াসহ বিভিন্ন উপায়ে প্রায় শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনার ভাই হিসাবে প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষকে তটস্থ করে রেখেছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত তার কথায় উঠতে আর বসতে হতো বরিশালের প্রায় সবাইকে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন বরিশাল ৫ সংসদ আসনের সাবেক এমপি জেবুনেচ্ছা আফরোজ । সেখানে তিনি সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের শত কোটি টাকা হাতানোর বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন। তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেয়া হলো-

আলহামদুলিল্লাহ

 

খোকন সেরনিয়াবাত মাত্র ৮ মাসেই হাতিয়েছে শতকোটি টাকা! সেই টাকার কিয়দংশ অর্থাৎ স্বাধীনতা পরবর্তী সর্বাধিক সফল সাবেক মেয়র মরহুম শওকত হোসেন হিরনের মালিকানাধীন শিশু পার্ক (প্লানেট পার্ক) নবায়নের জন্য তাকে দিতে হয়েছে কোটি টাকার একটা অংক। হিরন সাহেবের মৃত্যুর পরে আমি পার্কের দেখভাল করেছি সেই সাথে আমার দুইজন সহযোগীও আছেন। খোকন সেরনিয়াবত শপথ গ্রহনের পরই তার প্রথম জবাই হলাম আমি। অথছ খোকন সেরনিয়াবাত নমিনেশন পাওয়ার পর মরহুম হিরনের নেতা-কর্মী সমর্থকদের সহযোগিতা নিয়েই নির্বাচন পরিচালনা করেছে এবং হিরনের নামের উপরেই সে মেয়র নির্বাচিত হয়েছে। এটা বরিশাল সহ অন্যান্য স্হানের বিশেষ করে দক্ষিন বাংলার সর্বস্তরের জনগনও জানেন। সেটার পুরস্কার সরুপ হিরন পরিবারকে (আমি এবং আমার মেয়ে ও ছেলে) মান সম্মানে ধুলায়

লুন্ঠিত করাই ছিলো তার (খোকনের) প্রথম

এবং প্রধান কাজ। সেই সাথে টাকা কামানোর মিশনেও তো সে পরিপূর্ন সফল হয়েছে।কারো অভিশাপের প্রয়োজন নেই,দীর্ঘনিশ্বাসটাই অনেক বড় কিছু কথা বলে দেয়।প্রকৃতির বিচারই সঠিক হয়।

 

তালতলী(বরগুনা)প্রতিনিধি //বরগুনার তালতলীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জমিতে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকার পতনের আগে-পরে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ আগষ্ট) বেলা ১ টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র সমাজ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ পুলিশের সহযোগীতায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সিফাত আনোয়ার টুম্পা।

জানা যায়, গত ৫ ই আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে-পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের নির্ধারিত সীমানা না থাকায় প্রায় ১ একর জমি দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা চায়ের দোকান, মুদি দোকানসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। অবৈধ স্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা সড়িয়ে নেওয়ার জন্য একাধিকবার নোটিশ করলে তার গুরুত্ব না দিয়ে অবৈধ দখলদাররা তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি। হাসপাতালের জমিতে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা দোকানগুলোর বর্জ্যরে কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। পরে হাসপাতালের জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান কর্তৃপক্ষ। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র সমাজ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ পুলিশের সহযোগিতায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে প্রশাসন। এ সময় অনেক দখলদার নিজেরাই তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে এম মনিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের জমি বেদখল হয়ে যাওয়াতে আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করলে তিনি অবৈধভাবে দখল হওয়া জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম হক উচ্ছেদ অভিযান কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অবৈধ দখলদাররা যে দলেরই হোক না কেন তাদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সরকারী জমি ছাড়াও যাতে অন্য কোনো কিছুই অবৈধভাবে কেউ দখল দিতে না পরে সে জন্য উপজেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীরা সক্রিয় থাকবে ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সিফাত আনোয়ার টুম্পা বলেন, একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরেও অবৈধ দখলদাররা তাদের স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। হাসপাতালের জমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা হয়।

দেশ ছেড়ে ভারত প্রবেশের সময় বরিশাল নগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুলকে আটক করেছে বিজিবি।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সকালে সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা বর্ডার থেকে আটক করা হয়।

বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটান্যান্ট কর্নেল আশরাফুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভোমরা বর্ডার থেকে নিরব হোসেন টুটুল নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করা হয়েছে। তার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, তিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ অনুসারী নেতা। টুটুলের বিষয়ে আইনানুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গতঃ গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর বরিশালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়িতে হামলা ভাংচুর শুরু হয়। এতে আত্মগোপনে থাকতে নগরী ছেড়েছেন অধিকাংশ নেতাকর্মী।